ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজা যুদ্ধবিরতি বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। কারণ ইসরায়েল সরকার ১ মার্চ শেষ হতে যাওয়া চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না। চুক্তির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ প্রথম ধাপের সময় আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। যেখানে বন্দি বিনিময়, আংশিক ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও সহায়তা সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যদি দ্বিতীয় ধাপ চূড়ান্ত হয়, তবে এর মধ্য দিয়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হবে এবং সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে।

হামাসের দাবি, ইসরায়েল চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তারা ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত ও সেনা প্রত্যাহার বিলম্বিত করেছে। কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা এসব দাবি স্বীকার করলেও দেশটির সরকার তা অস্বীকার করেছে। ইসরায়েল বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রতিশ্রুত আশ্রয়ও দেয়নি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি একটি মার্কিন পরিকল্পনাকেও সমর্থন করেছেন। পরিকল্পনাটি গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়া ও ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য এ পরিকল্পনা থেকে এখন সরে এসেছেন।

নেতানিয়াহু হামাসকে নির্মূল করতে চান। তবে তিনি এখনো যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার অনুমোদন দেননি। তার মন্ত্রিসভা এখনো প্রথম ধাপের শর্ত পূরণ হয়েছে কিনা তা নিয়ে ভোট দেয়নি। মঙ্গলবার তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রন ডারমারকে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার নেতৃত্ব দিতে নিয়োগ দিয়েছেন, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে যে এটি ইসরায়েলের চেয়ে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে না গেলে ১ মার্চ প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে পারে। সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিনকাস মনে করেন, নেতানিয়াহু দ্বিতীয় ধাপে আগ্রহী নন। কারণ এতে ইসরায়েলি সেনা সংখ্যা কমানো ও গাজা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা তিনি রাজনৈতিকভাবে সহ্য করতে পারবেন না। যদি দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন হয়, তবে এটি যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাবে, যা নেতানিয়াহু চান না। চুক্তি না হলে যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে। সামগ্রিকভাবে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে গেলে এখনো আটক থাকা ইসরায়েলি বন্দিরা সেখানেই থাকবে, যা ইসরায়েলি সমাজের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করবে। বন্দিদের পরিবার তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছে এবং সরকারকে চুক্তি রক্ষা করতে বলেছে। অনেক ইসরায়েলি ও সরকারি কর্মকর্তা যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করেছেন। তারা মনে করেন, হামাস সম্পূর্ণ পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত।

নেতানিয়াহুর কয়েকজন মিত্র গাজায় বোমা হামলা আবার শুরু করতে এবং এর কিছু অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চান। এদিকে হামাস জানিয়েছে, তারা গাজা শাসন থেকে সরে যেতে প্রস্তুত এবং একটি ফিলিস্তিনি ঐক্য সরকার বা প্রযুক্তিবিদভিত্তিক সরকারকে দায়িত্ব নিতে দিতে রাজি। তারা মিসরের প্রস্তাবকে সমর্থন করছে, যেখানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গাজা পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।

হামাস বলেছে, তাদের লক্ষ্য ইসরায়েলি দখলদারত্ব শেষ করা এবং ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রগঠন, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যাবর্তনের অধিকার অর্জন করা। তারা প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে, তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও স্বাগত জানায় এবং দৈনন্দিন শাসন ব্যবস্থার জন্য একটি ফিলিস্তিনি ঐকমত্যের সমাধান গ্রহণ করতে প্রস্তুত।