ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ার পর ইউরোপীয় নেতারা তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। খবর বিবিসি।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তীব্র বাদানুবাদের পরপরই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি ও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে তাদের অবস্থানকে সুস্পষ্ট করে।

তারা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা নাম করলেও তাদের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তারা কিয়েভের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটি স্পষ্ট করেছে যে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ঐতিহ্যগত মিত্রদের মধ্যে এই যুদ্ধে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, একজন আগ্রাসী আছে: রাশিয়া। একটি জাতি আক্রান্ত: ইউক্রেন। যারা শুরু থেকেই লড়াই করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানাই। তারা লড়াই করছেন তাদের মর্যাদা, স্বাধীনতা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক দ্রুতই জেলেনস্কি ও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, আপনারা একা নন।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা যৌথভাবে জেলেনস্কির উদ্দেশে বলেন, আপনার মর্যাদা ইউক্রেনের জনগণের সাহসিকতাকে সম্মানিত করেছে।

তারা আরো লেখেন, শক্ত থাকুন, সাহসী হোন, নির্ভীক হোন। আপনি কখনোই একা নন। আমরা ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য আপনার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ বলেন, ইউক্রেনীয়দের চেয়ে শান্তি আর কেউ বেশি চায় না।

শলজের সম্ভাব্য উত্তরসূরি জার্মানির কনজারভেটিভ নেতা ফ্রিডরিখ ম্যার্তস লিখেছেন, আমরা ভালো ও কঠিন সময়ে ইউক্রেনের পাশে আছি। এই ভয়াবহ যুদ্ধে কখনোই আগ্রাসনকারী ও শিকারকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইউক্রেনকে সমর্থন দিলেও ট্রাম্পের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

তিনি প্রস্তাব দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশসমূহ এবং মিত্রদের নিয়ে একটি সম্মেলন করা হোক, যেখানে ইউক্রেনসহ বর্তমান বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের বিভক্তি আমাদের সবাইকে দুর্বল করে তোলে এবং যারা আমাদের সভ্যতার পতন দেখতে চায়, তাদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে।

অপরদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ও এস্তোনিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কাইয়া কালাস খোলাখুলি মত প্রকাশ করে বলেন, ওয়াশিংটন আর মুক্ত বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে পারবে না। তিনি বলেন, আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, মুক্ত বিশ্বের নতুন নেতা দরকার। এটি আমাদের, ইউরোপীয়দের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরো লেখেন, আমরা ইউক্রেনের প্রতি আমাদের সমর্থন আরো বাড়াব, যাতে তারা আগ্রাসন প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে।

বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন এবং সুইডেনের নেতারাও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।

তবে হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভিক্টর ওরবান উল্টো মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, শক্তিশালী নেতারা শান্তি আনেন, দুর্বল নেতারা যুদ্ধ বাধান।

উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। উভয় নেতার মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ হয়, যা বিশ্ব মিডিয়ার সামনেই ঘটে। ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার চুক্তি সইয়ের কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।