গাজায় ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করতে রাজি হামাস। তবে তারা অস্ত্র ত্যাগের শর্ত মানতে নারাজ। হামাসের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা শনিবার এ কথা জানান। তিনি এমন এক সময় বিষয়টি জানিয়েছেন যখন ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি কায়রোয় জাতিসংঘ ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করছে। খবর রয়টার্স।

হামাসের মিডিয়া উপদেষ্টা তাহের আল-নোনো বলেন, ‘‌সংগঠনটি পাঁচ-সাত বছরের জন্য যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত। তবে এর শর্ত হিসেবে গাজার পুনর্নির্মাণ, ইসরায়েলে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি ও সব জিম্মির মুক্তি চাইছে তারা।’

তিনি আরো বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির ধারণা বা এর মেয়াদ নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই। আমরা এ নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তাছাড়া যুদ্ধ শেষ করতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এলে তা আমরা খোলা মনে বিবেচনা করব।’

তবে হামাসের এ কর্মকর্তা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ এক দাবি মানতে রাজি নয়। তা হলো হামাসকে অস্ত্র ত্যাগের শর্তে সম্মতি দিতে হবে। ইসরায়েল গাজাকে নিরস্ত্র করতে চাইলেও হামাস তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আল-নোনো বলেন, ‘প্রতিরোধের অস্ত্র আলোচনা সাপেক্ষ নয়। যতদিন ইসরায়েলি দখল থাকবে, ততদিন এটি আমাদের হাতে থাকবে।’

হামাসের প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণায় ইসরায়েল বিনাশের কথা বলা রয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে সংগঠনটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইসরায়েলি দখল শেষ হলে তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নিতে পারে।

ইসরায়েলের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী শারেন হাসকেল নতুন এ প্রস্তাবকে একটি সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম বলে মন্তব্য করেছেন, যদি না হামাসের মূল দাবিগুলো পূর্ণ হয়। তিনি বলেছেন, ‘যুদ্ধ আগামীকাল শেষ হতে পারে, যদি হামাস বাকি ৫৯ জন বন্দিকে মুক্তি দেয় ও তাদের অস্ত্র ত্যাগ করে।’

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৫১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে ইসরায়েল গাজায় মানবিক সাহায্য প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে এবং নির্ধারিত এলাকা দখল করায় কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন ও ২৫১ জনকে গাজায় বন্দি করা হয়। যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। শান্তির পথ এখনো অনিশ্চিত। হামাস দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে সমঝোতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।