ইউরোপের দেশগুলো ইউক্রেনকে নতুন করে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার বা ২১ বিলিয়ন পাউন্ড সামরিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্প্রতি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানান, এটি ইউক্রেনের জন্য সর্ববৃহৎ সামরিক সহায়তা প্যাকেজ। এমন এক সময় এ ঘোষণা এল যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর আরব নিউজ।

ঘোষিত সহায়তার মধ্যে রয়েছে ড্রোন, রাডার, অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন ও যুদ্ধযান মেরামতের সরঞ্জাম ব্যবস্থা। যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে যৌথভাবে ৫৮ কোটি ডলারের সরঞ্জাম দেবে। জার্মানি চারটি আইআরআইএস-টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেবে। নেদারল্যান্ডস দেবে আকাশপথে নজরদারি সিস্টেম।

গত শুক্রবারের এ বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ ও কার্যকর’ বলে উল্লেখ করেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করাই ছিল মূল লক্ষ্য।’

তবে এর আগে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, অনেক দেশ পুরনো প্রতিশ্রুতি নতুন করে ঘোষণা দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তারা অস্ত্র বা সহায়তা পাঠাচ্ছে না।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট জানান, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ইউক্রেনের জন্য প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাঠানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেন, ‘মোট সহায়তার প্রতিশ্রুতি এখন ২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।’

এদিকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ সংবাদ সংস্থা বলছে, এ বৈঠক সাড়ে ৪ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া এখনো কঠিন শর্ত দিয়ে আলোচনা বিলম্বিত করছে। ইউরোপীয় দেশগুলো পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে গড়িমসি করার অভিযোগ তুলেছে।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এ বৈঠক ছিল শান্তিচুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার অংশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে বলেন, ‘এ যুদ্ধ ভয়ংকর ও অকার্যকর। রাশিয়াকে এখনই শান্তির পথে আসতে হবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া শিগগিরই নতুন হামলা শুরু করতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এরই মধ্যে মিত্রদের কাছে আরো প্যাট্রিয়ট সিস্টেম চেয়েছেন। অন্যদিকে পশ্চিমা নেতারা বলছেন, ভ্লাদিমির পুতিন ৯ মে রাশিয়ার বিজয় দিবসের আগেই একটি সমঝোতার চেষ্টা করতে পারেন।