অবরুদ্ধ গাজায় ত্রাণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয় নিয়ে নিজেদের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এরই মধ্যে তিনি মিশর এবং গাজা উপত্যকার মধ্যে রাফাহ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবার (২০ অক্টোবর) গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মিসর, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রসহ সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে কাজ করছি, যাতে করে ত্রাণের ট্রাকগুলো চলাচল করতে পারে।’ তবে এখনো মিসরের সিনাই উপত্যকায় মজুদকৃত ত্রাণসামগ্রী কবে বা কখন বিতরণ শুরু হতে পারে তা স্পষ্ট নয়।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সীমান্ত দিয়ে সাহায্য পাঠানোর বিষয়ে কোনো না কোনো পথ খুঁজে বের করা হবে। এর আগে
তারা বলেছিল, প্রথম ২০ ট্রাক ত্রাণ পাঠোনোর বিষয়ে একটি চুক্তি হয়।
গাজার ২৩ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন
ধরেই ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ২০০৭ সালে হামাস নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকেই এলাকাটি এক প্রকার অবরুদ্ধ করে রেখেছে মিসর ও ইসরায়েল। ওই এলাকার সঙ্গে মিসর ও ইসরায়েল ছাড়া অন্য
কোনো দেশের স্থল সীমান্ত নেই।
সম্প্রতি হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘর্ষ
শুরুর আগে প্রতিদিন ওই গাজায় ৪৫০ ট্রাক করে ত্রাণ সহযোগিতা যেত। তবে এই মুহূর্তে
এলাকাটি ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের আওতায় রয়েছে। প্রতিদিনই সেখানে বোমা হামলা করছে ইসরায়েল। গত ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলার পর ওই এলাকায় বিদ্যুৎ,
পানি ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা
বিষয়ক শাখা ওসিএইএর মুখপাত্র জেনস লারকে বলেছেন, যত দ্রুত
সম্ভব গাজায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা
চালিয়ে যাচ্ছি। খুব শিগগিরই ওই এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা হতে পারে বলেও
আশার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে ত্রাণ সহযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার
পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত রাতে গ্রিক অর্থোডক্স সেন্ট পোরফিরিয়াস
চার্চ কম্পাউন্ডে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল গাজায় স্থল অভিযান
চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।









