ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভূমিতে হামলাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই হামলায় ১২ জন নিহতের পর ইসরায়েল বলছে, তারা রাফা আক্রমণ বন্ধ করে লেবাননের দিকে অভিযান স্থানান্তরের কথা ভাবছে। এরই মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। লেবাননে হামলা করলে ইসরায়েলকে চরম মূল্য দিতে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সব মিলিয়ে ইসরায়েল- হিজবুল্লাহ উত্তেজনা এ অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে শনিবার ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভূমিতে একটি ফুটবল মাঠে রকেট হামলায় শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়। শনিবার মাজদাল শামস গ্রামে এ হামলা করা হয়। নিহতদের বেশির ভাগই শিশু-কিশোর। তারা মাঠে খেলা করছিল বলে বলা হচ্ছে। ভয়াবহ এ হামলার জন্য লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে ইসরায়েল। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ।

ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ‘‌নিহতদের মধ্যে একাধিক শিশু রয়েছে। এ হামলা হিজবুল্লাহই চালিয়েছে। আমাদের কাছে থাকা তথ্যে কোনো ভুল নেই। আমরা কোনোভাবেই চুপ থাকব না। হিজবুল্লাহকে কঠোর জবাব দেব।’

জবাবে হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, মাজদাল শামসে করা হামলায় আমাদের অভিযুক্ত করছে। আমরা পরিষ্কারভাবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের সশস্ত্র শাখা ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কোনো সম্পর্ক নেই।

গোলান মালভূমির চারটি গ্রামের মধ্যে মাজদাল শামস একটি, যেখানে প্রায় ২৫ হাজার ড্রুজ জনগণ বসবাস করে। ১৯৮১ সালে সিরিয়ার গোলান মালভূমি অধিভুক্ত করার সময় তাদের ইসরায়েলি নাগরিকত্বের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন তারা তা ফিরিয়ে দেয়। ফলে তারা ইসরায়েলে পড়াশোনা ও কাজ করতে পারলেও ভোট দিতে পারে না।

গোলান মালভূমিতে হামলার পর হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু। তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাকে বলেছেন, ইসরায়েল এ হত্যাকাণ্ডের জবাব না দিয়ে যাবে না। হিজবুল্লাহকে এজন্য কঠিন মূল্য দিতে হবে।

এরপর হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েল। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর সাতটি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

গাজায় স্কুলে হামলায় নিহত ৩০ এদিকে গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের কাছে একটি স্কুলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শিশুসহ কমপক্ষে ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো শতাধিক। হামাস–নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘খাদিজা স্কুল’ নামে ওই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুরা আশ্রয় নিয়েছিল।

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, খাদিজা স্কুলের ভেতরে হামাসের একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ছিল, তাই এ হামলা তারা চালিয়েছে। সেখানে হামাসের অস্ত্র মজুদ এবং বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনা ও নির্দশনা দেয়ার দাবিও করেছে আইডিএফ।