জার্মানির মিউনিখে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী ‘৬১তম মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স’ (এমএসসি)। বায়েরিশার হফ হোটেলে উচ্চ পর্যায়ের এ নিরাপত্তা সম্মেলন চলবে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিশ্বের দেশগুলোর বিদেশ ও নিরাপত্তা নীতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা ও বিতর্কের দারুণ এক মঞ্চ এই এমএসসি।
আজ প্রথম দিনের আলোচনায় স্থান পাচ্ছে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যু, জলবায়ু নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতাসহ আরো অনেক বিষয়। শনিবার আলোচনায় স্থান পাবে বিশ্বের দেশগুলোর শান্তি, আঞ্চলিক সংঘাত ও সংকটের কথা। ট্রান্স-আটলান্টিক পার্টনারশিপের বিষয়টিও এদিন আলোচনায় থাকবে। বিশ্বে ইউরোপের নেতৃত্ব আর ভূমিকা নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে রোববার সম্মেলনের পর্দা নামবে।
এবার এমএসসিতে অংশ নেয়া বিশ্বনেতাদের মূল লক্ষ্য থাকছে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তি চুক্তি কীভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা। সম্প্রতি এক বক্তব্যে এ আশার সঞ্চার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তার সঙ্গে টেলিফোন আলাপে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা এমএসসিতে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন। যদিও এমএসসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ করছে না রাশিয়া, এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্যও করেনি। এদিকে ইউক্রেনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, মিউনিখে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার ‘সম্ভাবনা কম’। এ নিয়ে ন্যাটোর নেতারাও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
এমএসসিতে অংশ নেবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং তিনি বৈঠক করবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেমস ভ্যান্স ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ভ্যান্স বলেছেন, পুতিন যদি ইউক্রেন নিয়ে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হন তাহলে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারে মস্কো। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, তার দেশের সম্পৃক্ততা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া প্রস্তাবিত কোনো শান্তি চুক্তিতে কিয়েভ রাজি হবে না।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, এমন আলোচনায় ইউক্রেনের পক্ষে অবশ্যই থাকতে হবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে। তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, শান্তি চুক্তিতে রাশিয়ার আধিপত্য কিংবা তাদের সুবিধা দেয়ার মানে, সেটা সবার জন্য এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘দুঃসংবাদ’। তিনি ইউরোপের মিত্রদের প্রতি সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
সাবেক ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা রিচার্ড কেম্প বলেছেন, নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে রাশিয়াই চায় ইউক্রেন যুদ্ধটা থামাতে। তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়া হয়তো যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, তবে কতদিন নাগাদ পারবে, তার নিশ্চয়তা নেই। আমি মনে করি, রাশিয়ার উচিত যুদ্ধটা বন্ধ করা। তবে আমি মনে করি, শান্তি আলোচনাটা ইউক্রেনের চেয়েও রাশিয়ার পক্ষে যাবে। নির্মম হলেও সত্য হলো, এখানে ইউক্রেন কিংবা ন্যাটোর চেয়েও রাশিয়ার বিজয় দৃশ্যমান মনে হবে।’










