আন্তর্জাতিক অপরাধী ও চরমপন্থীদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলায় গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পরিকল্পনা করছে কানাডা ও ভারত। আসন্ন জি৭ সম্মেলনে দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের কয়েক দিন আগে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পরিকল্পনা কার্যকর হলে দুই দেশের সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন আসতে পারে।

বছর দু-এক আগে কানাডায় হারদিপ সিং নিজ্জার নামে একজন শিখ অ্যাক্টিভিস্টের হত্যার পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয় দেশটির। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ওই ব্যক্তি কানাডার নাগরিক ছিলেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তখন প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতের হাত রয়েছে। তার এ অভিযোগের পর থেকে অটোয়া ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক খারাপের দিকে যাচ্ছিল। ভারত তখন সাময়িকভাবে কানাডায় ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেয়। এর পর পরই কানাডা দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার সঞ্জয় ভার্মাসহ ছয় সিনিয়র কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। ভারতও এর জবাবে সেখানে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারসহ ছয় কানাডিয়ান কূটনীতিককে বহিষ্কারের নির্দেশ দেয়।

ওই সময় ট্রুডো বলেছিলেন, ‘ভারত সরকার ভেবেছিল, তারা কানাডার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা ভয়ানক ভুল ছিল।"

তবে কানাডা ভারতের সঙ্গে মূল্যবান সম্পর্ক উড়িয়ে দিতে চায়নি। নিজ্জার নিহত হওয়ার পর আমাদের কাছে পরিষ্কার এবং এখন আরো পরিষ্কার ইঙ্গিত রয়েছে যে ভারত কানাডার সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করেছে।’

এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল দুই দেশের মধ্যে। কূটনৈতিক এ জটিলতার মধ্যেই গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পরিকল্পনা করল দেশ দুটি। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে কানাডায় জি৭ সম্মেলনের সময় গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের চুক্তিটি ঘোষণা করা হতে পারে। চুক্তির অধীনে দুই দেশের পুলিশ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা বাড়াবে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে আলবার্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি৭ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। পরে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে মার্ক কার্নি বলেন, ‘কানাডায় একটি আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং এটি বেশ ভালো পর্যায়ে রয়েছে। নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে কানাডায় বসবাসকারী চার ভারতীয় নাগরিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।’