কভিড মহামারীর ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে নতুন রোগ ছড়িয়ে পড়েছে চীনে। সংবাদমাধ্যমে এটিকে বলা হচ্ছে রহস্যময় নিউমোনিয়া। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা। নতুন এ রোগে মূলত শিশুরা আক্রান্ত হলেও ছাড় পাচ্ছে না বড়রাও। এরই মধ্যে বেইজিং ও লিয়াওনিংয়ের বেশকিছু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খবর আল জাজিরা।
চীনের রাজধানী বেইজিং ও পার্শ্ববর্তী লিয়াওনিং প্রদেশে রোগটির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। হাসপাতালগুলোয় উপচে পড়া ভিড়। দেখা দিচ্ছে পর্যাপ্ত শয্যার অভাব। রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। দিনে সাত হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
বেইজিং চিলড্রেন্স হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, রেকর্ডসংখ্যক রোগী দেখা গেছে তিয়ানজিনের সবচেয়ে বড় শিশু হাসপাতালে। বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি।
হঠাৎ করে এমন প্রাদুর্ভাবের খবরে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছে চীনের স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া বিশ্বজুড়ে আবারো দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। তবে এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন।
দেশটির দাবি, বেইজিং ও লিয়াওনিং প্রদেশে প্রকোপ দেখানো নিউমোনিয়া নিয়ে বাড়তি উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোগটির মূল উপসর্গ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট। সর্দি বা কাশি এ নিউমোনিয়ার উপসর্গের মধ্যে পড়ছে না। রোগটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ডব্লিউএইচও জানায়, গত তিন বছরের তুলনায় এ বছর চীনে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ কয়েক গুণ বেড়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। ডব্লিউএইচও রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল চীন সরকারের কাছে।
জবাবে চীনা প্রশাসন ডব্লিউএইচওকে জানায়, এটা নতুন কোনো প্যাথোজেন বা কোনো নভেল ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়নি। সাধারণ জীবাণুর প্রকোপে শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাছাড়া এর প্রাদুর্ভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটিও সত্যি নয়।
চীনের দাবি, এখনো কোনো হাসপাতালে রোগী ‘ওভারলোড’ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
চীনের জবাবে আপাতত সন্তুষ্ট হয়েছে ডব্লিউএইচও। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।










