গত সপ্তাহে পঞ্চম দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। মূলত রাশিয়াকে নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছেন তিনি। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার সপ্তাহ না পেরোতেই মস্কোর কাছেই ক্রোকাস সিটি হলে সন্ত্রাসী হামলার নিহত হয়েছেন ১৩০ জনেরও বেশি। এ ঘটনা পুতিনকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখেই ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর সিএনএন।
শুধু এ সন্ত্রাসী হামলাই নয়, সম্প্রতি রাশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিন ধরেই রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন। তারও আগে গত বছর ভাড়াটে গোষ্ঠী ভাগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিনের বিদ্রোহ পুতিনকে বেশ চাপের মুখে ফেলেছিল। বিদ্রোহ ঘোষণা করেই ক্ষান্ত থাকেননি প্রিগোশিন। রওনা দিয়েছিলেন মস্কো অভিমুখেও, যা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করে রাশিয়ানদের মধ্যে।
রাশিয়ার মতো দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার নিশ্চয়তা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে ক্রেমলিনের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত পুতিন। কিন্তু পুতিনের ২৪ বছরের ক্ষমতায় বর্তমানে সবচেয়ে অনিরাপদ ও অস্থির সময় পার করছে রাশিয়া।
মস্কোয় সন্ত্রাসী হামলার ঘোর এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি রুশ নাগরিকরা। দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে শোক। হাসপাতালের বেডে শুয়ে জীবন-মরণের সঙ্গে লড়াই করছে আরো বহু মানুষ। কে বা কারা এমন ধরনের নৃশংস আর নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞ চালাল, তাই নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
এ হামলার পর পরই দায় স্বীকার করে নেয় ইসলামিক স্টেট-আইএসের খোরাসান শাখা। হামলাকারী চার ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করার পর হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে জঙ্গি গোষ্ঠীটির মুখপাত্র আমাক। যদিও আইএসের দায় স্বীকার এবং ছবি ও ভিডিও নিয়ে অফিশিয়ালি কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়া।
এরই মধ্যে হামলায় জড়িত সন্দেহে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে চারজন সরাসরি হামলায় জড়িত ছিলেন। এ চারজন ও আটক অন্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এরা বিদেশী নাগরিক।
কনসার্ট হলে হামলার ঘটনাকে ‘বর্বর সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন পুতিন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘যে চার সন্ত্রাসী বন্দুক হামলা চালিয়েছে, তাদের আটক করা হয়েছে। হামলাকারী চার ব্যক্তিকে আটকের সময় তারা ইউক্রেনের দিকে যাচ্ছিল। ওই চারজন সীমান্ত পাড়ি দেয়ার পরিকল্পনা করছিল।’
পুতিন আরো বলেন, ‘ইউক্রেনের অংশে কিছু লোক তাদের রাশিয়া থেকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তারা লুকিয়ে ইউক্রেনের দিকে যেতে চেয়েছিল। প্রাথমিক তথ্যমতে, তাদের সীমান্ত পাড়ি দেয়ার জন্য ইউক্রেনের অংশ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।’ তবে এ হামলায় কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকার বিষয় অস্বীকার করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, এ হামলার পেছনে কাদের হাত রয়েছে, কারা অর্থ ও অস্ত্র দিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে একযোগে কাজ করছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে মাঠের গোয়েন্দারা। এরপর যথাযথ ব্যবস্থা নেবে ক্রেমলিন। পুতিনের এমন ঘোষণার পর হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে রাশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোয় এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে নানা কাহিনী।










