মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয় এখন ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত ফোনালাপ হয়েছে। যেখানে তারা যুদ্ধ শেষ করার জন্য শান্তি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হন। ট্রাম্প এ আলাপকে ‘দারুণ’ বলে উল্লেখ করেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্ক করেন, তাদের দেশকে কোনো শান্তি আলোচনার বাইরে রাখা উচিত নয়। ইউরোপীয় নেতারা এ ফোনালাপে অবাক হয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ হুঁশিয়ারি দেন যে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণমূলক কোনো শান্তি চুক্তি সবার জন্য খারাপ পরিণতি বয়ে আনবে। কবে আলোচনা শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মূল বিষয়গুলো হবে ভূখণ্ড বিতর্ক, নিরাপত্তা আলোচনা ও ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ।
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, মূলত দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাশিয়া ক্রাইমিয়া দখল করে। পাশাপাশি দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে বিদ্রোহীদের সমর্থন দেয়, যা সংঘর্ষের সূত্রপাত করে। ২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন চালালেও কিয়েভ দখলে ব্যর্থ হয়। এরপর তারা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে।
ইউক্রেন চায় রাশিয়া ২০১৪ সালের আগের সীমান্তে ফিরে যাক। কিন্তু রাশিয়া তার দখলকৃত অঞ্চলগুলোর স্বীকৃতি চায়। জেলেনস্কি ভূমি বিনিময়ের প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পুরো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারকে অবাস্তব মনে করছে। তারা বলছে, এটি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে।
ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিতে চায়। কারণ তারা মনে করে, এটি ভবিষ্যতে আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার সর্বোত্তম উপায়। রাশিয়া এর বিরোধিতা করছে। কারণ এতে ন্যাটো বাহিনী তাদের সীমান্তের খুব কাছাকাছি চলে আসবে। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন ন্যাটোর নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর বিশ্বাস রাখে এবং সদস্যপদকে ‘সবার জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প’ বলে মনে করে।
ইউরোপীয় নেতারা ভবিষ্যতে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে দেখতে চান, যুক্তরাজ্য এটিকে ‘অপরিবর্তনীয় পথ’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেছেন, ‘ন্যাটো সদস্যপদ ইউক্রেনের জন্য কোনো শান্তিচুক্তির অংশ হওয়া বাস্তবসম্মত নয়।’
জেলেনস্কি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার আগের আলোচনা শান্তি পরিকল্পনার জন্য যথেষ্ট নয়। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাগুলো শক্তিশালী হলেও সেগুলো মিশ্র। হেগসেথ দাবি করেছেন, ট্রাম্পই একমাত্র নেতা যিনি উভয় পক্ষকে একত্র করতে পারেন এবং মার্কিন শান্তি আলোচনা ইউক্রেনীয় সৈন্যদের প্রতি কোনো বিশ্বাসঘাতকতা নয়।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স বলেছেন, ‘যদি রাশিয়া আন্তরিকভাবে শান্তি আলোচনা না করে, তাহলে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর বিষয়টি এখনো বিবেচনায় রয়েছে। অক্টোবরে জেলেনস্কি একটি বিজয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যেখানে ন্যাটো সদস্যপদ, মার্কিন-ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পদ সুরক্ষা ও রাশিয়াকে প্রতিহত করার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।’
বাইডেন, ট্রাম্প ও হ্যারিস এ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তবে এটি শান্তি আলোচনায় ব্যবহার হবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন সেনারা ইউক্রেনে মোতায়েন হবে না। তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে বিমান প্রতিরক্ষা (যেমন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র) সরবরাহ করতে পারে, যদি বিনিময়ে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের প্রবেশাধিকার পায়। —বিবিসি অবলম্বনে










