ইরান আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলে হামলা চালাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার দেশটির দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলা পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে। ইহুদি রাষ্ট্রের দক্ষিণ বা উত্তর অংশকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে ইরান। তবে ইরান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি জানান, হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। অবশ্য হামলা নিয়ে দেশটির নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

গত সপ্তাহে সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে বিমান হামলা চালিয়ে দুই শীর্ষ কমান্ডারসহ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সাত সদস্যকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এরপর ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি বা আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা আসন্ন বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দারা এখন ইঙ্গিত করছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোথাও মার্কিন বা ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুর পরিবর্তে সরাসরি সম্ভবত ইহুদিবাদী দেশটির মাটিতেই প্রতিশোধমূলক হামলার দিকে মনোনিবেশ করছে। হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার বাইরে ভ্রমণ না করার জন্য সতর্ক করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একজন উপদেষ্টা বলেছেন, ‘হামলার পরিকল্পনা সুপ্রিম লিডারের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তিনি এখন এর রাজনৈতিক ঝুঁকির কথা ভেবে দেখছেন। তার দেয়া মতামতের পর হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

তবে সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে বিমান হামলার পর খামেনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘কনস্যুলেটে হামলা করে ইসরায়েল যেন ইরানের মাটিতেই হামলা চালিয়েছে। তারা একটি ভুল করেছে। এর শাস্তি তাদেরকে পেতেই হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলা বৃহস্পতিবার ইসরায়েলে গেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ইরান ও এর আঞ্চলিক সহযোগী শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য দৃঢ় মার্কিন সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।