ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গতকালের এসব হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছে। আগুন ধরে গেছে দেশটির কয়েকটি তেল স্থাপনাতেও।
ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির অধিকাংশ জনবহুল এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা জানিয়েছে, সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে তারা বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের একটি সৌদি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে আবহা, ইয়েমেন সীমান্তবর্তী নাজরান এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী জাজানে হামলা হয়েছে।
জাজানে একটি বড় তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। নাসার স্যাটেলাইট ছবিতে জাজানের শোধনাগারের ওপর ঘন কালো ধোঁয়ার মেঘ দেখা গেছে। আবহার একটি তেল বিতরণ কেন্দ্র থেকেও বড় আকারের সাদা ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। আহত ৭৩ জনের মধ্যে নারী-শিশুও রয়েছে। এত বেশি মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সৌদি আরবে চালানো সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে। গতকাল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছে, যা ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালির বাইরে অন্যান্য তেল স্থাপনা ও পরিবহন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে যুদ্ধের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব আরো বাড়তে পারে। এক দশকের বেশি সময় ধরে সৌদি আরব ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে আরব জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ওই সংঘাত অনেকটা স্তিমিত হয়ে এলেও এখন যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের প্রবেশপথে নৌযান চলাচলের ওপর হামলার হুমকিও দিয়েছে হুথিরা।
সম্প্রতি সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দিক থেকে অভিযান শুরু করেছে। তার আগে হুথিরা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন অবস্থানে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেছিল। ১২ বছর আগে রাজধানী সানা থেকে বিতাড়িত ইয়েমেন সরকার এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, গত তিনদিনে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের লড়াইয়ে ১৮ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি বলেছেন, হুথি মিলিশিয়াদের প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব সামরিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি অভিযোগ করেছেন, ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়ে রিয়াদই সংঘাত বাড়িয়েছে এবং এর জবাব দেয়া হবে।
উপসাগরের বৃহত্তর যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শক্তি ও অর্থনৈতিক চাপের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সচল রেখে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, পাশাপাশি অবরোধের মাধ্যমে ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করতে চাইছে। তেহরান পাল্টা ‘মেরিটাইম এক্সক্লুশন জোন’ ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরের ভেতর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। রয়টার্স










