ভেনিজুয়েলায় সামরিক হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এ বক্তব্য তার চলতি মাসের শুরুতে দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও হাজার হাজার সেনা পাঠানো হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জোরাল্ড আর ফোর্ড’ ভেনিজুয়েলার উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খবর আলজাজিরা।

গত শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ভেনিজুয়েলায় হামলার বিষয়ে যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তা সত্য নয়।’ তবে এর আগে কয়েক দফা বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারের অভিযোগে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি যুদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য নই। আমরা শুধু সেসব মানুষকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাব যারা আমাদের দেশে মাদক আনছে। এখন তারা মাদক আনছে স্থলপথে। পরবর্তী অভিযান হবে স্থলে।’

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘এ খবরগুলো ভুয়া।’ তবে জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান ভলকার তুর্ক সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন হামলায় অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এ হামলাগুলো ছিল মাদক পাচারের বিরুদ্ধে। তবে তাদের দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

তুর্ক বলেন, ‘অভিযুক্ত অপরাধ যা-ই হোক না কেন, এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে নতুন এক চিরস্থায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাদক চোরাচালানের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ভেনিজুয়েলা কোকেনের গাছ উৎপাদন করে না।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে আসে মেক্সিকো সীমান্তপথে, যেখানে জড়িত থাকে মূলত মার্কিন নাগরিকরাই।

ট্রাম্পের মন্তব্য সত্ত্বেও প্রতিবেশী দেশ ত্রিনিদাদ ও টোবাগো শুক্রবার সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির সেনাদের ঘাঁটিতে ফিরে যেতে বলা হয়েছে এবং ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি ভেনিজুয়েলা ত্রিনিদাদের সঙ্গে একটি বড় গ্যাস চুক্তি স্থগিত করেছে, কারণ মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দেশটির সীমানায় অবস্থান করছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের দুই দলীয় আইনপ্রণেতারা মার্কিন সামরিক হামলার আইনি ভিত্তি জানতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে পাঠানো চিঠির কোনো উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।