তাইওয়ান সংঘাতকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপড়েনে বিকল্প পথ খুঁজছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার প্রতি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় নড়েচড়ে বসেছে দেশটির অর্থনীতিবিদ ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাইওয়ানকে ঘিরে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে চীন কী উপায় অবলম্বন করবে, তা নিয়ে লেখা হয়েছে দুই শতাধিক প্রবন্ধ ও গবেষণাপত্র। খবর রয়টার্স।
পিপলস ব্যাংক অব চায়নার (পিবিওসি) গবেষক হিংশিয়াং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতার মধ্যে এবং তাইওয়ান ইস্যুতে টানাপড়েনের কারণে আমাদেরও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ চীনের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পদ্ধতিই প্রয়োগ করতে পারে।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক পেপার ও একাডেমিক আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে চীনা ভাষায়। তারা দেখিয়েছেন চীন কীভাবে এ পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে পারে। বিশেষ করে ডলারে লেনদেন থেকে বের হওয়ার পর রাশিয়ার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরেন চীনা গবেষকরা। এজন্য পশ্চিমা ও বিদেশীনির্ভরতা কমানোর প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ অবশ্য বিকল্প সরবরাহ চেইন তৈরির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানে অভিযান চালানোর জন্য তার বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পর্কে এখনো তেমন কিছু প্রকাশ করা হয়নি। চীনের ন্যাশনাল নোলেজ ইনফ্রাস্ট্রাকচার অনুসারে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী সম্ভাব্য উপায় সম্পর্কে গবেষকদের মধ্যে আলোচনা ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
চায়না ইন্টারন্যাশনাল ফিউচার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াং ইয়ংলি দাবি করেন, বহির্বিশ্বে চীনের সম্পদ আটকে যেতে পারে। এক্ষেত্রে তিনি সুইফট থেকে রাশিয়ার ব্যাংকগুলোকে সরিয়ে দেয়ার কথা উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ আটকে দেয়ার ব্যাপারেও প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। তবে অধিকাংশ গবেষকই স্বীকার করেছেন, রাশিয়ার পরিস্থিতি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
জ্বালানি তেল, গ্যাস, ধাতব ও চিপ খাতে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা চীনের জন্য চিন্তার খোরাক তৈরি করেছে। সাংহাই একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সের গবেষক মৌ লিংজি জানান, রাশিয়া যেমন প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির ক্ষেত্রে রুবলের ব্যবহার বাড়াতে চাইছে, একইভাবে চীন লিথিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রফতানির সময় ইউয়ানের ব্যবহার বাড়াতে পারে। অনেক গবেষক লোহা, কপার, নিকেলের মতো খনিজ উপাদানগুলো বিক্রির সময় ইউয়ানকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেছেন।
অনেকে আবার নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও নেটওয়ার্ক তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হয়। কেউ অবশ্য ইউয়ানের সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরেছেন। বেইজিং যদি অভ্যন্তরীণভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে, তাহলে তার প্রভাব পড়বে পরবর্তী সময়ে। ফলে তাইওয়ানকে ঘিরে সৃষ্ট টানাপড়েনে চীন কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে বিকল্প পথ অনুসন্ধানে রয়েছেন গবেষকরা।









