ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। এতে কমপক্ষে ৪১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো দেড় শতাধিক মানুষ। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া স্থানীয় সময় সোমবার দিনে কিয়েভের প্রধান শিশু হাসপাতালে
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনজুড়ে অন্যান্য শহরগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ
করেছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের জন্য ওয়াশিংটনে
যাওয়ার আগে পোল্যান্ডে যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে তিনি বলেন, রাশিয়ার এ হামলায় তিন
শিশুসহ ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে আহত হয়েছেন আরো ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ।
তবে রয়টার্স বলছে, হামলা সংঘটিত হওয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থান থেকে
পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে।
টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে লেখা এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, হামলায়
শিশুদের হাসপাতাল এবং কিয়েভের একটি মাতৃত্ব কেন্দ্র, শিশুদের নার্সারি এবং ব্যবসায়িক
কেন্দ্র ও বাড়িসহ ১০০টিরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, রুশ সন্ত্রাসীদের অবশ্যই এর জবাব দিতে হবে। কেবল উদ্বিগ্ন
হলেই সন্ত্রাস বন্ধ হয় না। সমবেদনা কোনো অস্ত্র নয়।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রিভি রিহ এবং ডিনিপ্রো ও আরো দুটি পূর্বাঞ্চলীয় শহরেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ হামলা ও হতাহতের পর জেলেনস্কির সরকার মঙ্গলবার (৯ জুলাই) শোক দিবস ঘোষণা করেছে।
দেশটির সরকার বলেছে, ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে জরুরিভাবে
তাদের আকাশ প্রতিরক্ষার উন্নত করা প্রয়োজন।
সোমবার ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ৩৮টির মধ্যে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র
ভূপাতিত করেছে বলে দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে।
রয়টার্সের এক অনলাইন ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র শিশু হাসপাতালের দিকে পতিত হয়েছে এবং এর পরপরই একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইউক্রেনের সিকিউরিটি সার্ভিস মিসাইলটিকে কেএইচ-১০১ মিসাইল হিসেবে চিহ্নিত করেছে।










