অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানে আনুষ্ঠানিকভাবে আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে। স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে দেশটিতে গণভোটের আয়োজন করা হয়। যেখানে ৬০ শতাংশই ছিল বিপক্ষে। এটি দেশটির আদি অধিবাসীদের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
একটি উপদেষ্টা সংস্থা তৈরির মাধ্যমে আদিবাসী ও টরেস স্ট্রেট দ্বীপের অধিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কিনা এমন প্রশ্নে গণভোটের আয়োজন করা হয়। সেখানে অস্ট্রেলিয়ানদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ভোট দিতে হয়েছিল। দেশজুড়ে এতে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। যেখানে ৪০ শতাংশ পক্ষে থাকলেও বিপক্ষে ভোট ছিল ৬০ শতাংশ।
এবিসিসহ অন্যান্য টিভি নেটওয়ার্কগুলো জানায়, অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ১২২ বছরের পুরনো সংবিধান পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ভোট দিতে আগ্রহী। একটি সফল গণভোটে জাতীয় পর্যায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি ছয়টির মধ্যে অন্তত চারটি ভোট পক্ষে থাকতে হয়। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানান, তিনি যেমনটা প্রত্যাশা করেছিলেন ভোটে তেমন ফল হয়নি। তবে আদি অধিবাসীদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য নতুন পথ খুঁজতে হবে।
টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে আলবানিজ বলেন, ‘আমাদের দেশে সমঝোতার পথ সবসময়ই কঠিন ছিল। আজ যা ঘটেছে তা এর শেষ নয়। অধিবাসীদের একত্রিত করতে দেশটির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার আইনজীবীদের আশঙ্কা, ৬০ শতাংশ না ভোটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে আদি অধিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়ার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ আদিবাসী। ৬০ হাজার বছরের বেশি সময় ধরে দেশটির ভূখণ্ডে বসবাস করলেও তাদের সাংবিধানিকভাবে কোনো স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। এছাড়া আর্থসামাজিক সব সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত।










