মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাত চলছে একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর। বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে আত্মসমর্পণ ও প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাচ্ছেন দেশটির সেনাসদস্যরা। আটকও হয়েছেন কয়েকজন। দুটি সীমান্তপথ ও শতাধিক সেনাছাউনি দখলে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। খবর রয়টার্স ও ডয়েচে ভেলে।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের হত্যা ও দেশত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার করা মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছে কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ সাত দেশ। সব মিলিয়ে ঘরে-বাইরে কঠিন সময় পার করছে সামরিক সরকার।
সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দুদিনের যুদ্ধ শেষে মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরাম রাজ্যের একটি সীমান্ত ক্রসিং দখলে নিয়েছে জান্তাবিরোধী তিন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী। সীমান্তপথটির অবস্থান মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ চিনে।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএফ) জানায়, গত শনি ও রোববার সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যুদ্ধ শেষে সীমান্তপথটির দখল নেয়া সম্ভব হয়েছে। মিজোরামের সঙ্গে চিনের অবশ্য এটা একমাত্র সীমান্তপথ নয়, তবে পথটি গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরুর পর জীবন বাঁচাতে মিজোরামে পালিয়ে গিয়েছিল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। বিদ্রোহীদের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর ফিরে এসেছে অধিকাংশ বাসিন্দা। ওইদিন সীমান্ত পেরিয়ে মিজোরামে পালিয়ে গেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অন্তত ৪৩ সদস্য।
এদিকে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ রাখাইনে আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ১০ সেনা ও ২৮ পুলিশ সদস্য। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে মিয়ানমার ও চীনের মধ্যকার একটি সীমান্তপথের দখল নিয়েছিল জান্তাবিরোধী বিদ্রোহীরা। সীমান্তপথটি মিয়ানমারের শান প্রদেশে অবস্থিত। শানের সঙ্গে লাওস ও থাইল্যান্ডেরও সীমান্ত রয়েছে।
যদিও ক্ষমতাসীন জান্তা সরকারের মুখপাত্র জাও মিন তুন সংবাদ সম্মেলনে বিদ্রোহীদের দাবিকে ‘প্রপাগান্ডা’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্রোহীরা পুরো দেশকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে। এ কারণে তারা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।’
গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে বেশ কয়েকটি জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ গোষ্ঠীগুলোর সবই দেশটির জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (নাগ) সদস্য। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এ যুদ্ধের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ১০২৭’। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি শহর ও শতাধিক সেনাছাউনির দখল নিয়েছে বিদ্রোহীরা।
২০২০ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে অং সান সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতীয় ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। ক্ষমতা দখলে নেয়ার পর থেকে বিদ্রোহীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে জান্তা সরকার।
দশকের পর দশক ধরে বিভিন্ন আদিবাসী সংখ্যালঘু বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বিদ্রোহী গেরিলাদের সঙ্গে লড়াই করে আসছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর জান্তাবিরোধী অভূতপূর্ব এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সেনাবাহিনীকে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। এরই মধ্যে জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জান্তা সরকর।










