ইসরায়েলি বন্দরে চারটি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীরা। তারা জানিয়েছে, চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। গত শনিবার ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে যৌথ এ অভিযান চালায় তারা। আরব সাগরে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ট্রান্সওয়ার্ল্ড নেভিগেটরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা এ হামলা চালানো হয়েছে। হুথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি একটি টেলিভিশনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর রয়টার্স ও আল জাজিরা।
ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘দল দুটি শনিবার হাইফা বন্দরে দুটি সিমেন্ট ট্যাংকার ও দুটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালায়। জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। কারণ জাহাজগুলোর মালিকানাধীন কোম্পানি অধীকৃত ফিলিস্তিনের বন্দরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে।’
তিনি দাবি করেছেন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আইজেনহাওয়ারে হামলা চালানো হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকা ও পণ্যবাহী জাহাজও। এছাড়া আরো দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটিকে এ অঞ্চলে নিয়ে আসে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ না দিয়ে সারি বলেন, ‘তাদের অপারেশনটি লক্ষ্য অর্জন করেছে।’ তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘হুথিদের এ দাবি সঠিক নয়।’
মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলছেন, ‘হুথি ও সামাজিক মাধ্যমে তাদের সমর্থনকারী বিভিন্ন অ্যাকাউন্টগুলো থেকে বারবার মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে যে লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীটিকে আঘাত করা হয়েছে। এমনকি ওই রণতরীটি ডুবিয়ে দেয়ার মিথ্যা দাবিও করা হয়েছে।’ তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অভিযানের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন হুথিরা গত নভেম্বর থেকে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন জলসীমায় ইসরায়েল ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত বা গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থনকারী দেশের জাহাজগুলোয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করতে তারা এসব হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি ইরানের সমর্থন পাওয়া হুথিদের।
মার্কিন সেনা সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ নভেম্বর থেকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে ৫০টির বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। তাদের হামলার ভয়ে বেশির ভাগ জাহাজ কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ এ দুই নৌপথ এড়িয়ে গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছে।
এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে পশ্চিমারা।
হুথিদের হামলার জবাবে বেশ কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে একটি টহল জোট গঠন করে যুক্তরাষ্ট্র। এ জোট গঠন করেও ইরানপন্থী যোদ্ধাদের থামাতে না পেরে ইয়েমেনে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী। তবে হামলা করেও এখন পর্যন্ত তাদের থামাতে পারেনি পশ্চিমারা।










