জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। যে কারণে পশুপাখিদের
মৌসুমি অসুখ বিসুখ যেমন-ফ্লু বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া মানবদেহে রোগের সংক্রমণও বাড়তে পারে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
তুর্কির
আইদিনের আদনান মেন্ডারেস ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল স্কুলের ডক্টর এমিন দিদেম ইভসি
কিরাজ বলেন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রায় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব খাদ্য ও
পানির গুণমান নষ্ট করে। যে কারণে এ সম্পর্কিত রোগের আশঙ্কা বাড়ে। এছাড়া সংক্রামক রোগের জীবাণু এবং তাদের সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। তিনি নতুন
রোগের সম্ভাব্য উত্থানের কথাও তুলে ধরেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমাদের
স্বাস্থ্যের দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন।
কিরাজ বলেন, একজন মানুষের শরীরের গড় তাপমাত্রা ৩৬.১C (৯৬.৭F)
থেকে ৩৭.৮C (১০০F) পর্যন্ত
হয়, এটি বজায় রাখার জন্য শরীরে ঘাম ও তাপ স্থানান্তরের মতো ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বর্ধিত
তাপমাত্রা হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীতে চাপ সৃষ্টি করে, টিস্যু ও কোষে তরল কমে যায় এবং
কিডনির কার্যকারিতা প্রভাবিত করে।’
এছাড়া
রক্তচাপ কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত গরমের কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে বলেও জানান
তিনি।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘায়িত
তাপ এবং পানির ঘাটতি একজন ব্যক্তিকে অচল করে দিতে পারে এবং মৃত্যুর দিকে নিয়ে
যেতে পারে, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও সহিংসতার ঝুঁকিও
বাড়াতে পারে।
কিরাজ হাইলাইট
করেছেন যে ৩৭C এর কাছাকাছি তাপমাত্রা দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বাড়ানোর জন্য একটি অনুকূল
পরিবেশ প্রদান করে, যা শরীরকে অস্বাস্থ্যকর অবস্থার জন্য আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে
এবং খাদ্য ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বন্যা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘটনা পানি ও খাদ্যজনিত
অসুস্থতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা বাড়াতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন রোগ এবং সংক্রমণ ছড়ানো প্রাণীদের বিষয়ে আরবোভাইরাস,
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া জ্বর এবং ক্রিমিয়ান-কঙ্গো হেমোরেজিক জ্বরের মতো রোগ বাড়ার
কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তিনি বায়ু দূষণ, বন্যা, দাবানল ও ধূলিঝড়ের মতো ঘটনা উদ্ধৃত করে অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো রোগগুলোর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উপেক্ষা না করার আহ্বান জানান।










