হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর গাজায়
পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। এতে বিপর্যস্ত হয়ে
পড়েছে লাখ লাখ বেসামরিক ফিলিস্তিনির জীবন। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে গাজা জুড়ে কলেরাসহ
বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। খবর আল জাজিরা।
অক্সফাম ও জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক সংস্থা
এরই মধ্যে গাজার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংস্থাগুলো বলেছে, বিশুদ্ধ পানির অভাবে
কলেরাসহ সংক্রামক বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে গাজার দক্ষিণাঞ্চল। এই অবস্থায়
ওই সব অঞ্চলে মানবিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গাজার
অন্তত ৬৫টি পয়ঃনিষ্কাশন পাম্পিং স্টেশন বর্জ্য পরিশোধনের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
অপরিশোধিত ময়লা এখন সরাসরি সমুদ্রে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বায়ো মেডিকেল বর্জ্য
হামাস-ইসরায়েল সংঘাতে নিহতদের সঙ্গে মাটি চাপা দেয়া হচ্ছে।
বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে গাজার পৌরসভা
পানি সরবরাহ করতে পারছে না। গাজাবাসীকে এখন অন্যান্য উৎসসহ সমুদ্রের নোনা পানির ওপর
নির্ভর করতে হচ্ছে। এসব উৎস আবার নর্দমার পানিতে দূষিত বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)
মতে, গড়ে প্রতিদিন একজন মানুষের ৫০-১০০ লিটার পানির প্রয়োজন। সেখানে একজন গাজাবাসী
তার দৈনন্দিন কাজের জন্য পাচ্ছে মাত্র তিন লিটার পানি।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলেছে, অবরুদ্ধ
গাজা অধিবাসীদের জন্য পানি ‘জীবন-মরণের বিষয়’হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনাইটেড ন্যাশনস রিলিফ
অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর ফিলিস্তিন রিফিউজিস ইন নিয়ার ইস্ট (ইউএনআরডব্লিউএ) বলেছে,
পানি শেষ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে ২০ লাখের বেশি মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইউএনআরডব্লিউএ
কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, গাজায় পানি জীবন-মরণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।









