ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। গাজা নিয়ে ‘ভয়ংকর’ ও উসকানিমূলক মন্তব্য, সেইসঙ্গে পশ্চিম তীরে সহিংসতার মাধ্যমে বসতি সম্প্রসারণের হুমকির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর গার্ডিয়ান।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইসরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের সম্পদ জব্দ করা হবে, তাদের ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এই যৌথ সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সরকার মঙ্গলবার দুপুরে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অবগত হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা জারির আগে সংশ্লিষ্টদের আগাম সতর্ক না করাই প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি, যাতে তারা ওই দেশগুলো থেকে তাদের সম্পদ সরিয়ে নিতে না পারে। ব্রিটিশ মন্ত্রীরা গত এক বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার এই বিকল্পটি বিবেচনায় রেখেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক সমর্থন সুনিশ্চিত করতে সময় লেগেছে। দুই সপ্তাহ আগেও তারা সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছিলেন।

স্মোত্রিচ পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণে অনুমোদন দিয়েছেন, সেইসঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন। মে মাসে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাঞ্চলে এক মুঠো গমও ঢুকতে দেব না।’ ৬ মে তিনি বলেন, ‘গাজা পুরোপুরি ধ্বংস হবে, বেসামরিক মানুষদের দক্ষিণে একটি মানবিক অঞ্চলে পাঠানো হবে যেখানে হামাস থাকবে না, সন্ত্রাস থাকবে না, সেখান থেকে তারা ধাপে ধাপে তৃতীয় দেশে চলে যাবে।’ তার এ ধরণের বক্তব্যকে ‘ভয়ঙ্কর’ ও উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাজ্য ও মিত্র দেশগুলো।

এদিকে, বেন-গভির ২৬ মে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন । সেসময় তিনি বলেন মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থানটি ভেঙে সেখানে একটি সিনাগগ নির্মাণ করা উচিত। তিনি বারবার গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের দেশছাড়া করার ডাক দিয়েছেন। গত বছর তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের উচিত গাজার বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহিত করা।’

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি দুই সপ্তাহ আগে কমন্সে স্মোত্রিচের মন্তব্যকে ‘ভয়ঙ্কর ও ঘৃণ্য’ বলে অভিহিত করেন। তবে তখন নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বিরত ছিলেন।