ইসরায়েলের দখলকৃত গোলান মালভূমি এলাকায় শনিবার (২৭ জুলাই) হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে ইসরায়েল। গোলান মালভূমির একটি ফুটবল মাঠে ওই রকেট হামলায় শিশুসহ ১২ জন নিহত হন। এরপর ওই দিন রাতে লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে হিজবুল্লাহ এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে। খবর রয়টার্স। 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই হামলার জবাব দেবে ইসরায়েল। এই হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে চড়া মূল্য গুনতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফর দ্রুত শেষ করে রোববার (২৮ জুলাই) ইসরায়েলে ফিরবেন। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য রোববার বিকেলে তিনি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা আহ্বান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। 

শনিবার সন্ধ্যায় গোলান মালভূমির একটি ফুটবল পিচে রকেট হামলা হয়। হিজবুল্লাহ এর আগে ঘোষণা করেছিল যে এটি ইসরায়েলি সামরিক সাইটগুলোতে রকেট নিক্ষেপ করেছে। তবে পরে হামলার সব দায় স্পষ্ট অস্বীকার করে তারা। 

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে,  হিজবুল্লাহ হলো সেই সত্ত্বা যা শনিবারের গণহত্যার জন্য দ্ব্যর্থহীনভাবে দায়ী। যে রকেটটি আমাদের ছেলেমেয়েদের হত্যা করেছে সেটি একটি ইরানি রকেট এবং হিজবুল্লাহ একমাত্র সন্ত্রাসী সংগঠন যার অস্ত্রাগার রয়েছে।  

ইসরায়েলের একজন সামরিক মুখপাত্র এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ফরেনসিক রকেটটি ইরানের তৈরি ফালাক-১ বলে প্রমাণিত হয়েছে। 

হিজবুল্লাহ শনিবার একটি ইসরায়েলি সামরিক সদর দফতরকে লক্ষ্য করে একটি ফালাক-১ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিল।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট মাজদাল শামস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, আমরা শত্রুকে কঠোরভাবে আঘাত করব। 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের চেবা গ্রামের উত্তরে অবস্থিত একটি এলাকা থেকে রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের শহর এবং বিস্তীর্ণ পূর্ব বেকা উপত্যকার একটি স্থানে বেশ কয়েকটি বিমান হামলা হয়েছে।

এদিকে এর মধ্যেই ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে , তারা লেবাননের গভীরে হিজবুল্লাহ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে  একটি সিরিজ আক্রমণ করেছে। তবে যে কোনো  বড় আকারের অভিযানের জন্য সুরক্ষা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলেও জানান তারা।