যুক্তরাষ্ট্রে বার্লিংটনে বন্দুক হামলায় আহত হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। গত শনিবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার এ ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ ও ফেডারেল এজেন্টরা। তাদের ধারণা, আরবদের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত এ হামলা চালানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।

বার্লিংটন পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, শনিবার সন্ধ্যায় ভারমন্ট ইউনিভার্সিটির কাছাকাছি সড়কে এক ব্যক্তি তিন শিক্ষার্থীকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনার দুই ভুক্তভোগী মার্কিন নাগরিক ও অন্যজন বৈধ বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার সময় তারা মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী কালো-সাদা চেকের স্কার্ফ কেফিয়েহ পরেছিলেন।

অলাভজনক ফিলিস্তিনি-পন্থী পরামর্শক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিং জানায়, হামলার সময় শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় কথা বলছিলেন। আততায়ী চিৎকার ও শিক্ষার্থীদের হয়রানির পর গুলি চালায়। তবে পুলিশ বলছে, কোনো কথা না বলেই চারটি গুলি করেছে।

চলমান হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইসলাম-বিদ্বেষ ও ইহুদি-বিদ্বেষী ঘটনা বেড়েছে বলে জানানো হয় রয়টার্সের এ প্রতিবেদনে।

বার্লিংটন পুলিশ প্রধান জন মুরাদ এক বিবৃতিতে বলছেন, এ মুহূর্তে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ‘ঘৃণা-প্রণোদিত অপরাধ’ নয় এটা কেউ ভাবতে পারে না। তদন্ত কর্মকর্তারা সেই আশংকা সামনে রেখে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারে কাজ করছে।

স্থানীয় মেয়র মিরো ওয়েইনবার্গার বলেছেন, বিদ্বেষ থেকে এ হামলা বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই আশংকাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছে পুলিশ।

ভুক্তভোগীদের পরিবার গতকাল রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ হিসেবে এ ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। একই আহ্বান রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক পরামর্শক সংস্থা আমেরিকান-আরব অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটি বা এডিসি।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবেদ আইয়ুব বলেন, "আরব-বিরোধী ও ফিলিস্তিনি-বিরোধী মনোভাবের যে উত্থান আমরা দেখছি তা নজিরবিহীন। সেই ঘৃণাকে সহিংসতায় পরিণত করার আরেকটি উদাহরণ এ ঘটনা।"