অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল। তা না হলে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের হুমকি দিয়েছে তারা। এদিকে চলমান সংকটে দেশটির রফতানি ২০-৩০ শতাংশ কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বস্ত্র, চা ও অন্যান্য শিল্প খাতের নেতারা। খবর রয়টার্স ও নিউজ ফার্স্ট।
শ্রীলংকার প্রধান বিরোধী দল সামাজি জন বালাওয়েগা (এসজেবি) পার্টির নেতা সাজিদ প্রেমাদাসা আজ সংসদে বলেন, প্রেসিডেন্ট ও সরকার যদি জনগণের কথা না শোনে, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনে বাধ্য হবে বিরোধী দল। সরকারকে চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে হবে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতায় রেখে যে সামনে আগানো যাবে না এ বিষয়ে প্রেমাদাসা বলেন, আমরা অনেক বিকল্প নিয়ে কথা বলছি; তত্ত্বাবধায়ক সরকার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, অস্থায়ী সরকার ইত্যাদি। কিন্তু এ প্রেসিডেন্টকে সামনে রেখে ওই সরকারগুলো কি এগোতে পারবে? বর্তমান প্রেসিডেন্টকে নিয়ে বিকল্প সরকার কোনো কাজেই আসবে না।
সংসদে তিনি আরো বলেন, সংবিধানের ২০ম সংশোধনীর মাধ্যমে শুধু একজন এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্টই তৈরি করা হয়নি বরং একজন সুপার এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট তৈরি করা হয়েছে। কীভাবে অসীম ক্ষমতার প্রেসিডেন্টকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন বা অস্থায়ী সরকার কাজ করবে? জনগণকে জরুরি সহায়তায় অবিলম্ভে বাজেট পেশের আহ্বান জানান প্রধান বিরোধী দলীয় এ নেতা।
বৈদেশিক মুদ্রা স্বল্পতার কারণে জরুরি পণ্য আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির জন্য। এতে দেশটিতে তীব্র জ্বালানি, বিদ্যুত্, খাদ্য ও ওষুধ স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাস্তায় বিক্ষোভ করে যাচ্ছে শ্রীলংকানরা। পাঁচদিনের জরুরি অবস্থা ও দুদিনের কারফিউকে উপেক্ষা করে বিক্ষোভ চালিয়ে গিয়েছে তারা। একযোগে ২৬ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করার পর হাতেগোনা কয়েকজন মন্ত্রী নিয়ে সরকার চালিয়ে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। সরকার থেকে বেরিয়ে গেছেন অন্তত ৪১ জন এমপি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতে আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন শিল্পের প্রতিনিধিত্বশীল প্রায় দুই ডজন সংগঠন। দেশটির ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে এ প্রতিষ্ঠানগুলো।
দুই বছর ধরেই শ্রীলংকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে। গত মার্চে তা ১৯৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। জুলাইয়ে শ্রীলংকা সরকারের ১০০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সামনের মাসগুলোয় আরো কয়েক দফা ঋণ পরিশোধের তারিখ রয়েছে। দেশটির মূল্যস্ফীতি এক দশকের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।










