জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কীটনাশক মেশানো ফল ও সবজি আমদানিতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে কম্বোডিয়া। এর আওতায় নিজ দেশে নিরাপদ খাবার উৎপাদন বাড়ানো হবে ও মানুষকে নিরাপদ খাবারের বিষয়ে সচেতন করা হবে। একই সঙ্গে আমদানি করা কীটনাশক মেশানো ফল ও সবজি প্রয়োজনে সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠাবে দেশটি।

ফ্রেশপ্লাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন প্রথম কীটনাশক মেশানো কৃষিপণ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান। তিনি যেসব ফল ও সবজিতে বাইরে থেকে কীটনাশক স্প্রে করা হয়, এমন কৃষিপণ্য আমদানি বন্ধে আরো কঠোর হওয়ার জন্য দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। তার মতে, এ অবস্থান দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর পরই কম্বোডিয়ার কৃষিমন্ত্রী ভেং শাখোন দেশটির অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি চিঠি দিয়েছেন। কম্বোডিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শেরি ভুথাই জানান, চিঠিতে কীটনাশক মেশানো ফল ও সবজি আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় দুটির পক্ষ থেকে আমদানিকারক ও সীমান্তে কর্মরত ইমিগ্রেশন পুলিশকে এ-সংক্রান্ত কার্যকর নির্দেশনা দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।


তিনি বলেন, কীটনাশক মেশানো ফল ও সবজির দেশে প্রবেশ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন আমদানিকারক ও ইমিগ্রেশন পুলিশ। আমদানিকারকরা এ ধরনের পণ্য আমদানি না করলে সমস্যা অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে। অন্যদিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ পণ্য খালাসের আগেই তা যাচাই-বাছাই করতে পারেন। ফলে সমস্যা মনে হলে, তারা আমদানি করা পণ্যের চালান সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠাতে পারবেন। আর কৃষি মন্ত্রণালয় জনগণকে নিরাপদ খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে উদ্যোগ নেবে। এরই মধ্যে কীটনাশক ছাড়া ফল ও সবজি উৎপাদনের কৌশল নিয়ে অনেক কৃষককে সরকারের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।