রাশিয়ার বরফাচ্ছাদিত সাইবেরিয়া অঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম বেলায়া গোরা। গ্রামটি বছরের বেশির ভাগ সময় পুরু বরফে ঢাকা থাকে। তীব্র শীত ও তুষারকে কেন্দ্র করে টিকে তাকে এখানকার প্রাণ-প্রতিবেশ ও মানুষের জীবন। সম্প্রতি এ গ্রামে গবেষণার কাজে গিয়েছিলেন সুইডিশ মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির গবেষক নিকোলাস ডুসেক্স ও লাভ দালেন। তাদের সঙ্গে এক দল হাতির দাঁতের ফসিল সন্ধানকারীও ছিলেন। অনুসন্ধানে তারা বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা পুরু বরফের মধ্যে ৪৬ হাজার বছরের পুরনো একটি পাখির ফসিল খুঁজে পেয়েছেন। এটিকে সাইবেরিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো প্রাণের অস্তিত্ব বিবেচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এ আবিষ্কার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কমিউনিকেশন বায়োলজি জার্নাল। এতে বলা হয়েছে উদ্ধার হওয়া ফসিলটি হর্নড লার্ক পাখির। এর বৈজ্ঞানিক নাম এরিমোফিলা আল্পেস্ট্রিজ। রেডিওকার্বন পদ্ধতি ব্যবহার করে অনুমান করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া পাখিটি প্রায় ৪৬ হাজার বছর আগে জীবিত ছিল। বর্তমানে পৃথিবীতে সাকল্যে দুই প্রজাতির হর্নড লার্ক পাওয়া যায়। এদেরই পূর্বপুরুষ বরফে জমে থাকা মৃত পাখিটি। অত্যধিক কম তাপমাত্রার কারণে মারা যাওয়ার পর পাখিটি এত বছর ধরে বরফের চাঁইয়ের মাঝে ফসিল হিসেবে ছিল।

গবেষক নিকোলাস ডুসেক্স বলেন, এ আবিষ্কার থেকে এটাই প্রমাণিত হয়, বরফ যুগের শেষ দিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছিল। ওই সময় থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের সূচনা। এখন হর্নড লার্ক পাখি ছাড়াও অন্য জীবজন্তুর পুরনো ফসিল খুুঁজে পেতে ওই অঞ্চলে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পাখিটির পূর্ণাঙ্গ জিনোম নিয়ে গবেষণার পরবর্তী স্তরের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ আবিষ্কার অমূল্য। এ থেকে একদিকে সাইবেরিয়ার প্রাচীন জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বরফ যুগের প্রাণ নিয়ে নতুন করে গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

সিএনএন অবলম্বনে