কভিড-১৯-এর বৈশ্বিক ও দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী অর্থবছরের জন্য ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যকে বেশ উচ্চাভিলাষী বলে মনে করে ব্যবসায়ীদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই)। প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল এমন মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবৃদ্ধি অর্জনে জোর দেয়ার প্রয়োজন নেই জানিয়ে এমসিসিআই বলেছে, কভিড-১৯-এর কারণে হারানো কাজ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে বাজেটে আরো দৃষ্টি দেয়া যেত। সেই সঙ্গে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের বিষয়েও বাজেটে দৃষ্টি দেয়া যেত।
এমসিসিআই তাদের প্রতিক্রিয়ায় নতুন কাজ সৃষ্টি এবং বিদ্যমান কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়ে আলোকপাত করেছে। সংগঠনটি মনে করে, গোটা বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আগামী অর্থবছরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা। রাজস্ব আহরণ হবে দুরূহ কাজ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণ ঘাটতি ২৫ শতাংশ হতে পারে, আগামী অর্থবছরে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধিতে লক্ষ্য অর্জন হবে বেশ কঠিন। যার প্রভাবে ট্যাক্স কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া লক্ষ্য অর্জনে বাজেটে কর প্রশাসন সংস্কার ও পুনর্গঠনের কোনো ইঙ্গিতও দেয়া হয়নি।
এমসিসিআই বিশ্বাস করে সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত জনগণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। প্রয়োজনে বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধিতেও যেন সরকারের ইতস্তত বোধ করা উচিত না। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কঠোর হয়ে অতিরিক্ত খরচ, অপব্যবহার রোধেও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। রাজস্ব আহরণের বিলাসী লক্ষ্য উন্নয়ন-সহযোগীদের থেকে তহবিল আদায়ের সুযোগ থেকে সরকারকে বঞ্চিত করতে পারে বলে মনে করে এমসিসিআই।
ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার বিষয়ে সরকারের সতর্ক হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করে এমসিসিআই বলেছে, এ প্রবণতা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহকে আরো কমিয়ে দিতে পারে। সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে ব্যাংকের ওপর এমনিতেই চাপ রয়েছে উল্লেখ করে এমসিসিআই প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে তহবিল সংগ্রহের শর্ত শিথিল করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে।
বিদেশী বিনিয়োগ ছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর অন্য কোনো বিকল্প নেই বলে মত প্রকাশ করেছে এমসিসিআই। সংগঠনটি বলছে, উচ্চপ্রযুক্তির কৃষি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম ফাইবার, হালকা প্রকৌশল ইত্যাদি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে বাজেটে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ থাকা উচিত ছিল। শুধু করছাড় দিয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারী আকর্ষণ করা যাবে না বলেও মত জানিয়েছে এমসিসিআই।
মহামারী বিবেচনায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ অনেক অভিলাষী জানিয়ে এমসিসিআই বলছে, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের উচিত হয়নি এ বিষয়ে বেশি জোর দেয়া। বরং অর্থনীতিতে চাহিদা সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন ছিল বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।





