২০২০ সালজুড়ে কভিড-১৯
পৃথিবীতে
ঝড়
তুলে
এশিয়ায়
প্রথম
আঘাত
হানার
পর
ইউরোপ
ও
আমেরিকাজুড়ে
ছড়িয়ে
পড়ে,
যাকে
আমাদের
মনে
হয়েছিল
দুর্দশার
অন্তহীন
তরঙ্গ
বলে।
আমরা
একের
পর
এক
পর্যায়
পার
হচ্ছিলাম—জানুয়ারিতে
১০০
মানুষের
মৃত্যু,
ফেব্রুয়ারিতে
এক
হাজার,
মার্চে
১০
হাজার,
এপ্রিলে
এক
লাখ
এবং
সেপ্টেম্বর
নাগাদ
১০
লাখ।
উপায়হীন
হয়ে
আমরা
পরস্পরের
কাছে
প্রশ্ন
করে
যাচ্ছিলাম,
মহামারীর
শেষ
কোথায়?
ভাইরাসটির তীব্রতা
বৃদ্ধি
সত্ত্বেও
অনেকেই
স্বাভাবিকভাবে
ধরে
নিয়েছেন,
মহামারীটি
২০২১
সালের
কোনো
এক
সময়
শেষ
হবে।
তবে
এ-জাতীয়
আশা
করা
ভুল।
একটি
মহামারী
নিয়ন্ত্রণের
সঙ্গে
চারটি
মৌলিক
বিষয়
জড়িত:
নেতৃত্ব,
সুশাসন,
সামাজিক
সংহতি
আর
চিকিৎসা
ব্যবস্থা।
বিশ্বের
বেশির
ভাগ
রাষ্ট্রই
প্রথম
তিনটি
উপাদানের
ক্ষেত্রে
ব্যর্থ
হয়েছে
এবং
নিশ্চিত
করেছে
নতুন
বছরেও
এ
অতিমারীর
সঙ্গেই
আমাদের
বসবাস
করতে
হবে।
সম্ভবত
শীতের
জন্য
উত্তর
গোলার্ধে
সংক্রমণ
ও
মৃত্যুর
ঘটনা
বেশি
ঘটছে।
বিশেষ
করে
ইউরোপ
ও
আমেরিকায়
ক্ষতির
মাত্রা
বেশি
হবে।
তাছাড়া
শরতের
মাঝামাঝি
থেকে
এ
অঞ্চলগুলোতে
আক্রান্তের
সংখ্যাও
তীব্র
হচ্ছিল।
এদিকে
উত্তর
আমেরিকার
আবহাওয়া
উষ্ণ
হতে
শুরু
করেছে,
তবে
দক্ষিণ
আমেরিকায়
ঠাণ্ডার
প্রকোপ
বৃদ্ধির
সঙ্গে
সঙ্গে
মহামারীর
আরো
একটি
ঢেউ
আছড়ে
পড়ার
শঙ্কা
তৈরি
হয়েছে।
মহামারী নিয়ন্ত্রণের
চার
নম্বর
উপাদানটির
বিষয়ে
অনেকেই
হয়তো
ধরে
নিয়েছেন,
ভ্যাকসিন
অথবা
জীবনরক্ষাকারী
চিকিৎসা
ব্যবস্থা
বুঝি
আসন্ন।
সত্যিটা
হচ্ছে,
মহামারী
আমাদের
চিকিৎসা
ও
বিজ্ঞানের
সবচেয়ে
সেরাটা
বের
করে
এনেছে।
বিশ্বজুড়ে
গবেষকরা
দ্রুততার
সঙ্গে
তাদের
গবেষণা
কাজগুলো
করেছেন।
ভাইরাস
শনাক্তকরণ,
জেনেটিক
কোড
বিশ্লেষণ,
সম্ভাব্য
চিকিৎসা
পদ্ধতি
ও
ভ্যাকসিন
আবিষ্কারের
লক্ষ্যে
অতীতের
যেকোনো
সময়ের
চেয়ে
ঘনিষ্ঠভাবে
পরস্পরকে
সহযোগিতা
করেছেন।
স্বল্প সময়ের
ব্যবধানে
অনেকটা
সফল
হলেও
আবিষ্কৃত
ভ্যাকসিনগুলো
কতটা
নিরাপদ,
বিশ্বজুড়ে
সবাই
তা
পাবে
কিনা
এবং
২০২১
সালের
মধ্যে
এটি
বিশ্ব
থেকে
কভিড-১৯
নির্মূল
করতে
পারবে
কিনা
সে-বিষয়ক
সম্ভাবনাগুলো
খুবই
ক্ষীণ।
২০২০ সালের
শেষে
এসে
আমি
যখন
লেখাটি
লিখছি,
তখনো
কিন্তু
ভ্যাকসিন
প্রার্থীদের
মধ্য
থেকে
কারোই
ক্লিনিক্যাল
ট্রায়ালের
পূর্ণাঙ্গ
প্রকাশিত
ফলাফল
আমরা
পাইনি।
ফার্মাসিউটিক্যাল
কোম্পানিগুলো
চূড়ান্ত
রকমের
আশাবাদী
হলেও
তাদের
গবেষণাসংশ্লিষ্ট
ঘোষণাগুলোতে
তথ্যগত
কিছু
অসম্পূর্ণতা
চোখে
পড়ে।
তাই
আমরা
যা
জানি
তার
ভিত্তিতে
আজ
নিশ্চিত
হতে
পারি,
যে
ভ্যাকসিনগুলো
তৈরি
করা
হচ্ছে
সেগুলো
চিরতরে
সংক্রমণ
রোধ
বা
আজীবনের
জন্য
প্রতিরোধক্ষমতা
সরবরাহে
সক্ষম
নয়।
ভ্যাকসিনগুলো
সর্বোচ্চ
যা
করতে
পারে
তা
হচ্ছে,
এগুলো
সংক্রমিতদের
লক্ষণগুলোকে
সীমিত
করবে
এবং
কভিড
আক্রান্তের
সংখ্যা
কমাবে,
যা
গুরুতর
অসুস্থ
হওয়ার
বিপরীতে
এক
ধরনের
অগ্রগতি।
তাছাড়া
বর্তমানে
গবেষণায়
থাকা
ভ্যাকসিনগুলো
কয়েকটি
ডোজের
হতে
পারে
এবং
এ
থেকে
সুবিধা
পেতে
মাস
দুয়েকের
মতো
সময়
লাগতে
পারে।
একইভাবে কভিড-১৯-এ
আক্রান্তদের
জন্য
রাতারাতি
জীবনরক্ষাকারী
চিকিৎসা
ব্যবস্থা
চলে
আসবে
না।
তাছাড়া
কভিড
চিকিৎসার
শুরুতে
রেমডেসিভির,
কনভালসেন্ট
প্লাজমা,
ও
ডেক্সামেথাসন
নিয়ে
যতটা
হইচই
পড়ে
গিয়েছিল,
পরবর্তী
সময়ে
দেখা
যায়
সামগ্রিক
অসুস্থতা
বা
মৃত্যুর
ওপর
এগুলো
সামান্য
থেকে
তেমন
কোনো
প্রভাবে
ফেলতে
সক্ষম
হয়নি।
এদিকে
সম্ভাবনাময়
মনোক্লোনাল
অ্যান্টিবডি
চিকিৎসা
আসতে
এখনো
কয়েক
মাস
বাকি।
তাছাড়া
সামগ্রিকভাবে
একে
সহজলভ্য
করাটাও
বেশ
খানিকটা
ব্যয়বহুল।
তাই চতুর্থ
উপাদান
কভিড
চিকিৎসা
ব্যবস্থার
অভাবটি
নেতৃত্ব,
সুশাসন
ও
সামাজিক
সংহতির
প্রয়োজনীয়তাকে
বাড়িয়ে
তোলে।
কভিডের
কারণে
যে
প্রাণহানির
ঘটনা
ঘটছে,
রাজনৈতিক
নেতাদের
অবশ্যই
সম্পূর্ণভাবে
এর
দায়
স্বীকার
করতে
হবে।
তিন
সপ্তাহেরও
কম
সময়ে
বিজ্ঞানীদের
ভাইরাসটি
শনাক্তকরণ
এবং
উহানে
প্রথম
মৃত্যুর
ঘটনার
পর
চীনের
প্রেসিডেন্ট
শি
জিনপিং
হুবেই
প্রদেশের
৫৭
মিলিয়ন
মানুষকে
লকডাউন
করে
রাখেন।
খুব
বেশি
প্রয়োজন
ছাড়া
ঘরের
বাইরে
বের
হওয়াসহ
অন্য
প্রদেশে
তাদের
ভ্রমণের
ওপরও
নিষেধাজ্ঞা
জারি
করেন।
জনগণকে মাস্ক
পরতে
বাধ্য
করা,
শারীরিক
দূরত্ব
পরিপালন
এবং
বাধ্যতামূলক
কোয়ারেন্টিন
ও
আইসোলেশনের
মাধ্যমে
চীন
দেখিয়েছে,
মাত্র
দুই
সপ্তাহের
মধ্যে
নতুন
সংক্রমণের
মাত্রা
অর্ধেকে
কমিয়ে
ফেলা
সম্ভব।
বিপরীতে
ব্রাজিল,
যুক্তরাজ্য
ও
আমেরিকার
জাতীয়
রাজনৈতিক
নেতারা
কভিড
হুমকিকে
অগ্রাহ্য
করেছেন
এবং
উপযুক্ত
ব্যবস্থা
গ্রহণে
উদাসীন
থেকেছেন।
চীনের
এ
সাফল্যকে
অনেকে
অবশ্য
টোটালিটারিয়ানিজমের
(যে রাজনৈতিক
দল
একটি
দল
ভিন্ন
অন্য
কোনো
প্রতিদ্বন্দ্বী
দলকে
মানতে
রাজি
নয়)
সাফল্য
হিসেবে
আখ্যায়িত
করছেন।
তবে
একটি
দেশের
সরকার
ব্যবস্থা
এক্ষেত্রে
আসলে
সিদ্ধান্ত
গ্রহণের
অন্যতম
কারণ
হিসেবে
কাজ
করে
না।
অধিক
গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়টি
হচ্ছে,
রাজনৈতিক
নেতারা
নাগরিকদের
সুরক্ষার
জন্য
স্বল্পমেয়াদি
অর্থনৈতিক
পীড়া
ও
প্রাত্যহিক
সুবিধার
সঙ্গে
সমঝোতা
করতে
উৎসাহী
কিনা।
অস্ট্রেলিয়া
ও
নিউজিল্যান্ডের
মতো
স্বতঃস্ফূর্ত
গণতান্ত্রিক
দেশগুলো
সাহসী
নেতৃত্ব
ও
শক্তিশালী
সুশাসনের
মাধ্যমে
নতুন
করে
সংক্রমণের
হার
শূন্যে
নামিয়ে
আনতে
সম্ভব
হয়েছে।
বিশেষ
করে
নিউজিল্যান্ডের
প্রধানমন্ত্রী
জেসিন্ডা
আর্ডার্নের
কথা
বলতেই
হয়।
দেশটির
জনগণ
কিন্তু
রাজনৈতিক
এ
নেতৃত্বকে
পুরস্কৃত
করেছে
ব্যালট
বাক্সে
স্বীকৃতির
মাধ্যমে।
কভিড মোকাবেলার
প্রথম
বছরটি
আমাদের
শিখিয়েছে
ধাপে
ধাপে
সংক্রমণের
মাধ্যমে
কভিড
বেগবান
হয়।
এ
অবস্থায়
জাতীয়
ও
বৈশ্বিক
সংকটগুলো
একটি
জাতীয়
ও
বৈশ্বিক
সমন্বিত
ব্যবস্থা
গ্রহণের
আহ্বান
করে।
আমেরিকা,
যুক্তরাজ্য,
ব্রাজিল
উভয়
ক্ষেত্রেই
ব্যর্থ
হয়েছে।
এমনকি
এখনো
অনেক
রাষ্ট্রই
হার্ড
ইমিউনিটির
মতো
অকেজো
তত্ত্ব
আঁকড়ে
ধরে
বসে
আছে।
অথচ
বৈজ্ঞানিক
গবেষণা
বলছে,
কভিড-১৯
প্রতিরোধে
এ
ধরনের
ব্যবস্থা
কার্যকর
নয়।
সাধারণত
চার
ধরনের
করোনাভাইরাস
আছে।
প্রতি
বছর
বিশ্বের
১৫
শতাংশেরও
বেশি
লোক
এতে
আক্রান্ত
হয়।
বছরের
পর
বছর
এগুলো
ফিরে
আসে
এবং
প্রায়ই
পুনর্বার
সংক্রমণের
ঘটনাও
ঘটে।
ধরে
নিলাম,
সার্চ
কোভ-টু
আলাদা
কিছু
নয়।
তবে
যে
দেশটি
হার্ড
ইমিউনিটি
কৌশল
নিয়ে
অগ্রসর
হবে,
তারা
কিন্তু
বছরের
পর
বছর
ধরে
বাকিদের
আক্রান্ত
করতে
থাকবে।
প্রথম দিকে
চীন
সরকারও
কিন্তু
কিছু
ভুল
সিদ্ধান্ত
নিয়েছে,
যা
সমালোচনাযোগ্য।
তবে
তারা
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ
ও
সঠিক
যে
কাজটি
করেছে
তা
হচ্ছে
গোটা
বিশ্বকে
ভাইরাসটি
সম্পর্কে
সতর্ক
করেছে
এবং
এর
বৈশিষ্ট্য
সম্পর্কে
জানিয়েছে
যে
এটা
সংক্রমণযোগ্য,
বায়ুবাহিত
এবং
শুধু
কঠোর
ও
তাত্ক্ষণিক
ব্যবস্থার
মাধ্যমে
নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
যেসব
রাষ্ট্র
সতর্কবার্তাগুলোকে
আমলে
নেয়নি
তাদের
অর্থনৈতিক
ও
মানবিক
ভোগান্তির
মাত্রাটা
বেশি।
এদিকে
যে
দেশগুলো
প্রকোপ
নিয়ন্ত্রণে
সামাজিক
সংহতি
দেখিয়েছে,
তারা
তাদের
সীমান্ত
খুলে
দিতে
না
পারলেও
অর্থনীতিকে
চালু
করতে
সক্ষম
হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত
যদিও
একটি
সম্মিলিত
প্রতিক্রিয়া
শুধু
স্বতন্ত্র
ক্রিয়াগুলোর
সমষ্টিকে
প্রতিফলিত
করে।
বিভিন্ন
দেশে
অনেকেই
এটা
ভেবে
ভয়
পান
যে
প্রতিরক্ষামূলক
ব্যবস্থা
গ্রহণের
মাধ্যমে
ব্যক্তির
স্বাধীনতা
খর্ব
হতে
পারে।
তবুও
যুদ্ধের
সময়
বিপদের
মাত্রা
যখন
প্রকট
হয়,
তখন
লোকেরা
কিন্তু
এটাও
দেখিয়েছে
যে
অন্য
নাগরিকদের
জন্য
তারা
কতটা
ত্যাগ
স্বীকার
করতে
ইচ্ছুক।
স্পষ্টভাবেই কিন্তু
পর্যায়ক্রমে
বার্তাগুলো
পরিবর্তন
করতে
হবে।
ভাইরাসটির
বিরুদ্ধে
আমরা
একটি
যুদ্ধে
লিপ্ত।
কেউ
কেউ
ব্যক্তিগত
স্বাধীনতা
নিয়ে
চিন্তিত
হচ্ছেন।
তবে
বর্তমানে
আমরা
এমন
একটি
সময়ের
মধ্য
দিয়ে
যাচ্ছি,
যেখানে
আমাদের
চারপাশের
মানুষগুলোর
জন্য
নিজেদের
সুনির্দিষ্ট
কিছু
সুযোগ-সুবিধা
ত্যাগ
করা
জরুরি।
প্রত্যেকটি বড়
বড়
ভূমিকম্পের
ঘটনা,
সুনামি
কিংবা
নতুন
কোনো
রোগের
আবির্ভাব
আমাদের
প্রকৃতির
অসীম
শক্তির
কথা
স্মরণ
করিয়ে
দেয়।
এখন
যদি
কারণ
সন্ধান
করা
হয়,
এশিয়ার
দেশগুলো
কভিড-১৯-এর
বিপরীতে
কেন
অন্যদের
তুলনায়
কার্যকরভাবে
ও
দ্রুততার
সঙ্গে
সাড়া
দিতে
সক্ষম
হয়েছে,
তাহলে
বলা
যায়
তাদের
স্মৃতিতে
এখনো
সার্স,
এইচওয়ানএনওয়ান
কিংবা
এভিয়ান
ফ্লুর
ভয়াবহতাগুলো
উজ্জ্বল।
সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে
তাদের
অভিজ্ঞতা
থেকে
দেখা
যায়,
শক্তিশালী
নেতৃত্ব,
সুশাসন
ও
সামাজিক
সংহতির
মাধ্যমে
স্বল্প
সময়ের
মধ্যে
মহামারী
নিয়ন্ত্রণে
এনে
মানুষের
মৃত্যুর
মিছিলকে
রোধ
করা
সম্ভব।
এটাই ২০২০
সালের
সেরা
শিক্ষা।
তাই
একে
যদি
২০২১
সালের
জাতীয়
নীতিতে
অন্তর্ভুক্ত
করা
না
যায়,
তাহলে
মহামারীটি
কেবল
নতুন
এ
বছরজুড়ে
নয়,
আগামী
বহু
বছরজুড়ে
টিকে
থাকবে।
[স্বত্ব:প্রজেক্টসিন্ডিকেট
]
উইলিয়াম এ.
হেসল্টাইন: বিজ্ঞানী, বায়োটেক
উদ্যোক্তা,
সংক্রমণ
রোগ
বিশেষজ্ঞ
ও
থিংকট্যাংক
এসিসিইএসএস
হেলথ
ইন্টারন্যাশনালের
সভাপতি
ভাষান্তর: রুহিনা ফেরদৌস





