৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানির মাইলফলক অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে উদ্যোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষরা। বণিক বার্তার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এমন কথা বলেছেন এনভয় লিগ্যাসি ও শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ
স্বাধীনতার ৫০
বছরে এসে
৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করা
এবং একই
বছরে আমাদের বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র পদ্মা
সেতুর উদ্বোধন হলো এ
নিয়ে আপনার
অনুভূতি জানতে
চাই।
সত্যি
বলতে এ
অনুভূতি বলে
শেষ করা
যাবে না।
আমরা যারা
১৯৮৪ সালে
ব্যবসা শুরু
করি, তখন
যে পরিসংখ্যান
ছিল, প্রায়
দেড়শ গার্মেন্টস
কারখানা ছিল।
তার মধ্যে
মাত্র ১৫-১৬টি
অর্ডার পেত।
আর বেশির
ভাগ কারখানা
সাব-কন্ট্রাক্ট
করত। সে
পরিবেশ থেকে
উতরে আস্তে
আস্তে রফতানি
বাড়তে থাকে।
যখন রফতানি
১ বিলিয়ন
ডলার স্পর্শ
করল, তখন
এক রকমের
অনুভূতি। এরপর
৫ বিলিয়ন,
১০ বিলিয়ন,
২৫ বিলিয়ন
এখন রফতানি
হয়েছে ৫০
বিলিয়ন ডলারের।
এ অনুভূতি
আসলে বলে
বোঝানো সম্ভব
না। এর
জন্য আমি
বলব আমাদের
যারা উদ্যোক্তা
আছেন তারা
অনেক শ্রম
দিয়েছেন। সেই
সঙ্গে আমাদের
বিশাল কর্মীবাহিনী,
যারা আমাদের
সহযোগিতা করেছেন
তাদের অবদান
বলে শেষ
করা যাবে
না। তাদের
অবদান এ
সেক্টরের জন্য
স্বর্ণাক্ষরে লেখা
থাকবে। আজকের
৫০ বিলিয়নের
পর আমরা
টার্গেট করব
৭৫ বিলিয়ন,
তারপর হয়তো
টার্গেট নেব
১০০ বিলিয়ন।
টার্গেট হয়তো
অর্জনও হবে।
কিন্তু শ্রমজীবী
মানুষ যারা
সকাল থেকে
রাত পর্যন্ত
কঠিন পরিশ্রম
করে, এ
রকম পরিস্থিতিতেও
আমাদের শ্রমিক
ভাইবোনেরা যেভাবে
সাপোর্ট দিয়ে
গেছেন। এটা
একটা
বিষয়। প্রথম
জেনারেশনের যারা
উদ্যোক্তা তাদের
স্বপ্ন ছাড়া
কিছু ছিল
না। তারাও
অনেক সাহসী
ছিল। তাদের
কোনো বাস্তব
জ্ঞান ছিল
না। এখানে
আমি বলব
যে সরকারের
একটা বিরাট
ভূমিকা এখানে
ছিল এবং
এখনো আছে।
কারণ পলিসি
সাপোর্ট ছাড়া
এ সেক্টর
এত দূর
এগিয়ে যেতে
পারত না,
এটা সত্যি।
বিশেষ করে
এই কভিডের
সময়ে পোশাক
শিল্প বা
বস্ত্র শিল্প
সবগুলোই বিশাল
একটা দুশ্চিন্তার
মধ্যে পড়ে।
সেক্ষেত্রে যখন
না চাওয়া
সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর
কাছ থেকে
প্রণোদনা আসে,
এটার জন্য
লবিং করা
বা দাবি
তোলার আগেই
সরকারের এ
ঘোষণা আসে;
সেটা আসলে
ম্যাজিকের মতো
কাজ করেছিল।
এই টনিকের
কারণেই গার্মেন্টসগুলো
ধসে পড়েনি।
প্রথম তিন
মাস ছিল
একদম ক্রান্তিকাল।
এ ক্রান্তিকাল
থেকে উত্তরণে
সরকারের সহায়তা
বিশাল ভূমিকা
রেখেছে আমাদের
জন্য। এর
মধ্যেই আবার
ইউক্রেন-রাশিয়ার
যুদ্ধ। তবু
আমাদের হাসি
তো থাকতেই
পারে। একদিকে
স্বাধীনতার ৫০
বছর, আবার
একই সঙ্গে
৫০ বিলিয়ন
ডলারের মাইলফলক
এটা ইউনিকভাবে
মিলে গেছে।
বিষয়টা চিন্তা
করলেও আনন্দ
লাগে। এ
আনন্দ উদযাপন
করা উচিত।
আমার কাছে
মনে হয়
বিজিএমইএর উদ্যোগে
মালিক-শ্রমিক
সবাইকে নিয়ে
উদযাপন করা
উচিত। প্রত্যেক
বিজনেস ফ্যাক্টরিতে
আলাদাভাবে আয়োজন
করা যেতে
পারে। আবার
কেন্দ্রীয়ভাবেও ৪০-৫০
লাখ মানুষ
নিয়ে বড়
একটি স্টেডিয়ামে
আয়োজন করা
সম্ভব। প্রত্যেক
বিজনেস ফ্যাক্টরি
থেকে ৫০
বা ১০০
জন করে
থাকল। এর
মধ্যে ক্রেতারাও
থাকতে পারে।
ক্রেতাদের অবদান
অনস্বীকার্য। তারা
সাপোর্ট দেয়
বাস্তবতার নিরিখে।
তারা যে
জায়গায় অর্ডার
দিলে অর্ডারটা
উঠে আসবে
সেই জায়গায়ই
দিচ্ছে। আর
এ কারণেই
কিন্তু বাংলাদেশ
অর্ডারটা পাচ্ছে।
বাংলাদেশের সরবরাহ
প্রমাণিত। সবার
কাছ থেকে
এ বিশ্বাসযোগ্যতা
অর্জন করতে
পেরেছে যে
অর্ডার দিলে
অর্ডার ফেরত
আসবে। বিশ্বাসযোগ্যতাটা
অনেক বড়
ব্যাপার। ক্রেতারা
এটা দেখে।
আরেকটা জায়গা
তারা দেখে
সেটা হচ্ছে
দাম। দামের
বিষয় যদি
সংক্ষেপে বলি
এটা নিট
দর। তারা
সব সময়
তুলনা করে
কোন জায়গায়
কত কমে
পাওয়া যায়।
আমরা তো
সব জায়গায়
শুল্ক সুবিধায়
বাজার প্রবেশাধিকার
পাই না।
আমরা ইউরোপীয়
ইউনিয়নে পাই,
ফলে সেখানে
আমরা কম্পিটিটিভ।
আবার ইউএসএর
মার্কেটে ১৭
শতাংশ ডিউটি
আমাদের দিতেই
হয়। সেক্ষেত্রে
আমরা কম্পিটিটিভ
একটু কম।
তার পরও
যেহেতু আমাদের
আনুষঙ্গিক খরচ
অন্যদের চেয়ে
কম এ
কারণেই আমরা
টিকে আছি।
এটা প্রমাণিত
যে আস্থার
জায়গায় আমরা
অনেক উঁচুতে
আছি। সেই
নিরিখে আমি
বলব যে
সরকার এবং
বিজিএমইএ মিলে
এটাকে উদযাপন
করতে পারে।
এটা বড়
কৃতিত্ব। কভিডের
সময় বিরাট
সাপোর্ট দিয়ে
এর থেকে
উত্তরণে সহায়তা
দেয়ার মাধ্যমে
এ অর্জন
সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এবং
সংশ্লিষ্টদের ভাবনায়
ছিল যে
এ সেক্টরে
ক্ষতি হতে
পারে। এজন্য
না চাইতেই
প্রণোদনা পাওয়া
গেছে।
আপনি বললেন
যে এখানে
কর্মী, মালিক,
সরকার সবার
অবদান রয়েছে। কিন্তু আমরা
প্রত্যেক সেক্টরে দেখি যে
ব্যক্তি ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করে। গার্মেন্টস সেক্টরে শুরুর
দিকে এ
রকম কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা সম্পর্কে জানা
যায়। এমন
কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার
কথা মনে
পড়ে যেটা
গত ৫০
বছরের অগ্রযাত্রার টার্নিং পয়েন্ট ছিল?
গার্মেন্টসে
আমার ব্যবসার
বয়স প্রায়
৩৭ বছর।
আমি যখন
৪৪টা মেশিন
দিয়ে শুরু
করি তখন
আমরা পাই
(বন্ড) গার্মেন্টস
থেকে, মিরপুরে
ছিল তখন।
পোশাক খাতের
পথিকৃেদর মধ্যে
বড় ভূমিকা
ছিল নুরুল
কাদেরের। গার্মেন্টসের
আধুনিকায়নে তার
অনেক বেশি
অবদান। এরপর
একে একে
অনেক কারখানা
গড়ে উঠেছে।
বিভিন্ন জায়গায়।
ওরা অনেকেই
টিকে নেই।
কিন্তু না
টিকলেও তাদের
যে শুরুটা
আমরা সেটা
ধরতে পেরেছি।
ওই কারখানাগুলো
থেকেই আমরা
লোকবল পেয়েছি।
আমরা তো
লোক তৈরি
করিনি। পরবর্তী
সময়ে বিভিন্ন
ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে
নিয়োগ দেয়ার
পদ্ধতি শুরু
হয়। তখন
কিন্তু সেটা
ছিল না।
আমরা যারা
প্রতিষ্ঠিত বা
ভালো ফ্যাক্টরি
আছে তাদের
থেকে লোক
আনার জন্য
দৌড়াতাম এবং
আনতাম। তাদের
অবদান অনস্বীকার্য।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ৭৫ বিলিয়ন ডলার বা
১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে
বলছেন। এ
রেকর্ড গড়তে
কী কী
চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে
বলে আপনি
মনে করেন?
চ্যালেঞ্জ
বলতে সমন্বয়
দরকার। গার্মেন্টসের
মালিক-শ্রমিক,
সরকার এবং
এর সঙ্গে
যারা সম্পৃক্ত
সবাইকে নিয়েই
কাজ করতে
হবে। কেউ
একলা পারবে
না। শ্রমিকদের
দক্ষতা বাড়ানোর
জন্য একটি
ইনস্টিটিউট দরকার।
যারা নতুন
জয়েন করে
তাদের বেতন
এক রকম,
যারা সেমি
স্কিলড তাদের
বেতন এক
রকম, আবার
যারা স্কিলড
তাদের বেতন
এক রকম।
তারা যেন
সেমি স্কিল
নিয়ে জয়েন
করতে পারে,
তার জন্য
একটা ইনস্টিটিউট
অথবা ট্রেনিং
সেন্টার প্রয়োজন।
এটা বিভিন্ন
বিভাগে হতে
পারে। আবার
জেলায়ও হতে
পারে। দক্ষতা
অর্জন করেই
তারা ঢাকায়
আসবে। এ
উদ্যোগগুলো সরকারের
মন্ত্রণালয় নিতে
পারে। বিজিএমইএকেও
যদি কোনো
সাপোর্ট লাগে
দিতে পারে।
আবার আমাদের
মালিকদের বললেও
আমরা অবদান
রাখতে পারি।
কারণ এতে
আমাদের সবার
উপকার। অর্থাৎ
সামনে এগিয়ে
যাওয়ার জন্য
একটা দক্ষ
জনবল রেডি
রাখতে হবে।
আরেকটি বিষয়
হচ্ছে আমাদের
যে ইউটিলিটিগুলো
সেগুলো আমাদের
নিশ্চিত করতে
হবে। যেমন
বিদ্যুৎ, গ্যাস
এগুলোর কোয়ালিটি
নিশ্চিত করতে
হবে। বিদ্যুৎ,
গ্যাস আছে
কিন্তু এগুলো
নিরবচ্ছিন্ন থাকে
না। এখানে
আমাদের ঘাটতি
আছে। এটা
যেন নিরবচ্ছিন্ন
থাকে সেটা
নিশ্চিত করতে
হবে। এটা
একটা চ্যালেঞ্জ।
এলপিজি আমরা
যাই দিই,
যেভাবেই দিই
না কেন,
নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ
দিতে হবে।
সাময়িক সময়ে
বৈশ্বিক কিছু
চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
এগুলো একসময়ে
ঠিক হয়ে
যাবে। তবে
আমাদের পরিকল্পনা
রাখতে হবে।
নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ
এবং গ্যাসের
ব্যবস্থা করতে
হবে। ইন্ডাস্ট্রি
গ্রো করার
জন্য এটার
কোনো বিকল্প
নেই। আরেকটি
চ্যালেঞ্জ হচ্ছে
আমরা কোথায়
করব? ইকোনমিক
জোন হতে
পারে। জোনের
সুবিধা-অসুবিধা
দুটোই আছে।
জোনের অসুবিধা
হলো অ্যাসেট
আমাদের না।
আমি এত
কষ্ট করে
অ্যাসেট তৈরি
করব কিন্তু
তিন মাস
যদি ভাড়া
না দিতে
পারি তাহলে
আমার স্ট্রাকচার
চলে যাবে।
ইপিজেডে যা
হয়। আমি
বিপদে পড়লে
যে আমি
অ্যাসেট বিক্রি
করে ব্যাংকের
লোন শোধ
করতে পারব
বা পুঁজি
নিয়ে অন্য
আরেকটা ব্যবসা
শুরু করব
সেক্ষেত্রে এক্সিট
পলিসি একদমই
নেই। এ
জায়গায় ইকোনমিক
জোন বা
ইপিজেডের একটি
দুর্বলতা আছে।
সরকারকে এগুলো
একবারে ঠিক
করে নিতে
হবে। আমাদের
শিল্প প্রবৃদ্ধি
অব্যাহত রাখতে
গার্মেন্টস এবং
টেক্সটাইল যুগপত্ভাবে
গ্রো করতে
হবে। তা
না হলে
কিন্তু আমাদের
ভ্যালু অ্যাডিশন
হবে না।
আমরা যদি
এক্সপোর্টই করব
ভ্যালু অ্যাডিশন
তো থাকতে
হবে। টাকা
আনলাম আর
চলে গেল
বাইরে এতে
তো কিছু
লাভ হবে
না। এ
বিষয়গুলো আমাদের
পলিসিতে আসতে
হবে। টেক্সটাইল
ও গার্মেন্টস
শিল্পকে সহায়তায়
ভারত সম্প্রতি
একটি পলিসি
হাতে নিচ্ছে।
আমাদের সে
রকম সহায়তা
দরকার নেই
কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির
জন্য জায়গা
ঠিক করে
দিতে হবে
যে এ
জায়গায় গার্মেন্টস
হোক। রানা
প্লাজা, তাজরীন
ফ্যাশনসের মতো
ঘটনায় আমরা
ধাক্কা খেয়েছি।
তারপর কিন্তু
আমরা ইউটার্ন
করেছি। সবুজ
কারখানা করার
সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
যেটা সারা
বিশ্বে রিমার্কেবল।
কিন্তু কোনো
যদি ডিজাস্টার
হয়, তাহলে
এটা ব্যবসা
নিয়ে টান
দেবে। সে
কারণে জায়গা
ঠিক করা
একটি বড়
বিষয়। দূরে
করা যায়
কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থাও
একটা গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়। আবার
বায়াররাও বেশি
দূরে যেতে
চায় না।
আমরা জ্যামের
কারণে বিশাল
একটা সময়
নষ্ট করি।
এই সময়ের
কিন্তু একটা
মূল্য আছে।
কর্মঘণ্টার সময়
আমি যদি
কাউকে কাজে
পাঠাই এবং
জ্যামের কারণে
তার আড়াই
ঘণ্টা সময়
নষ্ট হয়
তাহলে তো
তার ক্ষতি
হচ্ছে। অবকাঠামো
উন্নয়নে আমাদের
অনেক বেশি
ইফিশিয়েন্ট হতে
হবে। চীন
(আরঅ্যান্ডডি) ইউনিভার্সিটিগুলো
চালু করে
সেগুলো কিন্তু
সরকারই প্যাট্রন
করে। তাতে
সরকারেরও ইনস্টিটিউট
আছে। যেমন
ওরা নতুন
নতুন ফ্যাব্রিকস
ডেভেলপ করে।
এখন কটন
ফ্যাব্রিকসের দাম
বা তুলার
দাম যদি
বেশি হয়
তাহলে তারা
বিকল্প উৎসের
সন্ধান করে।
যার দাম
কম। তারা
পৃথিবীকে একটা
সমাধান দিচ্ছে।
ওদের আরঅ্যান্ডডি
অনেক শক্ত।
আমরা ৫০
বিলিয়নে আর
ওরা আড়াইশ
বিলিয়নেরও ওপরে।
প্রথম আর
দ্বিতীয়র গ্যাপ
কিন্তু বিশাল।
এ পার্থক্য
কমিয়ে আনতে
রিসার্চ অ্যান্ড
ডেভেলপমেন্টে বিনিয়োগ
করতে হবে।
সেটা রাষ্ট্র
করুক আর
অ্যাসোসিয়েশন করুক
অথবা ব্যক্তিগত
উদ্যোগেই হোক
ফ্যাব্রিকস ও
স্টাইল ডেভেলপ
করতে হবে।
পশ্চিমা বিশ্বে
ফ্যাশনে কী
পরিবর্তন হচ্ছে,
রঙ কেমন
হবে এগুলো
গবেষণা করতে
হবে। আমরা
এ কারণে
সমস্যায় পড়ি।
একধরনের ফ্যাব্রিকস
চাইলে আমরা
অন্য ধরনের
ফ্যাব্রিকস বানিয়ে
দিচ্ছি। যেমন
আমাদের টেক্সটাইলস
কারখানার কথা
যদি বলি,
আমরা ফ্যাব্রিকস
ডেভেলপ করি।
বিভিন্ন ধরনের
ফ্যাব্রিকস করে
আমরা ক্রেতাকে
দেখাই। পাশাপাশি
ক্রেতারা যেটা
চাইছে সেটাও
নিয়ে যাই।
আমাদের ডেভেলপ
করা প্রডাক্টও
নিয়ে যাই।
এখন দেখা
যাচ্ছে যে
আমাদের জিনিসগুলোও
ওরা গ্রহণ
করছে। এটা
ভালো দিক।
আগে এগুলো
চিন্তাও করতে
পারতাম না।
যা বলত
কপি করে
দিয়ে আসতাম।
এখন নিজেদের
উদ্যোগে আমরা
বানাই। পরিবর্তন
হচ্ছে। এটা
যত দ্রুত
হবে ইন্ডাস্ট্রি
এবং সবার
জন্য ততই
মঙ্গল।
রফতানির যেহেতু ৮০ ভাগই
পোশাক, আপনার
কি মনে
হয় সামনের দিকে এগোতে
গেলে শুধু
পোশাকের ওপরই
নির্ভরশীল থাকতে
হবে নাকি
অন্য খাতগুলোর পরিমাণও বাড়াতে হবে?
বৈচিত্র্যপূর্ণতার কোনো বিকল্প নেই। যখন পোশাক শিল্প শুরু হয়, তখন আমাদের ভ্যালু অ্যাডিশন ছিল ১০-১২ শতাংশ। এখন কিন্তু ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়ছে। প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ। এ জায়গায়ও আমাদের বাড়ানোর সুযোগ আছে। ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়াতে পারলে আমাদের ফরেন কারেন্সি বেড়ে যাবে। কভিড আমাদের নতুন অনেক কিছু শিখিয়েছে। যেমন আমরা একটা উদ্যোগ নিয়েছি ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় করার। পৃথিবীতে ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় ছয়টি আছে। কিন্তু এ ডিজিটাল এডুকেশন বা অন্যান্য এ মার্কেট এখন প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগামী দিনে এটা ৫০-৬০ বিলিয়নে চলে যাবে। মানুষ খাপ খাওয়ানোতে বিশ্বাসী। এখন যেমন আমরা সভাগুলোর ক্ষেত্রে জুমে করি। এগুলো দুই বছর আগেও ছিল না। এর সঙ্গে আমাদের একটা বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। শুধু ওরা সফটওয়্যার বানিয়ে আমাদের দিল আর আমরা ব্যবহার করলাম সেটা হবে না। আমাদেরও বাজারের জন্য সফটওয়্যার বানাতে হবে। যেটা বাইরের মানুষ নেবে। অনেকে এখন অনলাইনে এডুকেশন নিয়ে বাইরে থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তরের ডিগ্রি নিচ্ছে। আমরা যে বিশ্ববিদ্যালয় করছি সেটা তো ভার্চুয়ালি। শুধু একটা ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে যেকোনো জায়গা থেকে শিক্ষা নেয়া যাবে। এর জন্য সরকারের সহযোগিতা লাগবে। ইন্টারনেট সহজলভ্য এবং দ্রুতগতির হতে হবে। এছাড়া আমরা যে লাইব্রেরি করব সেটাও ডিজিটাল করব। আমাদের প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গেলে দেখবেন একটা ডিজিটাল লাইব্রেরি আছে ফ্যাব্রিকসের। যখন আমরা যেতে পারতাম না কিন্তু তাদের ফ্যাব্রিকসটা দেখানো লাগবে। তখন আমরা দামি ক্যামেরা কিনি। যেটার রেজল্যুশন অনেক বেশি। তারপর আমরা টেকনোলজি ব্যবহার করে ডিজিটাল স্টুডিও বানাই। সেই সঙ্গে খুব দ্রুত ডিজিটাল লাইব্রেরি তৈরি করি। যখন মানুষের কোনো প্রয়োজন দেখা দেয় সেই প্রয়োজনটাই কিন্তু আবিষ্কারের একটা উপাদান। এজন্য আমরা ডিজিটাল লাইব্রেরি করে ফেললাম। এখন যদিও নরমাল সময়, তবুও কথায় কথায় আমরা আমাদের লোকদের আমেরিকা পাঠাই না। ফ্যাব্রিকসটা আগে কুরিয়ারে ওদের কাছে পাঠিয়ে দিই। ১০০ ভাগ ডিজিটাল এখনো করা যায়নি। আমরা ৮৫-৯০ ভাগ পর্যন্ত রিচ করতে পেরেছি। এগুলো প্রতিনিয়ত উত্তরণ হচ্ছে। ডিজিটালকে ফোকাস করে যদি আমরা ডাইভারসিফিকেশন চিন্তা করি সেটা হবে বেস্ট। এছাড়া আরেকটি সহজ উপায় আছে। আমাদের দেখতে হবে, আমরা কী কী জিনিস আমদানি করি। অ্যানালাইসিস করে সেগুলো উত্পন্ন করতে হবে। এতে আমাদের কর্মসংস্থান বাড়বে। আমাদের রফতানির সুযোগ বাড়বে। এগুলো নিয়ে পলিসি করা সম্ভব কিন্তু সমন্বিত একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমরা কোনটার দিকে ফোকাস করব সেটা দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চিন্তা করব। আমরা একটা জিনিস ১ হাজার কোটি টাকায় আমদানি করি আর আরেকটা আমদানি করি ২ হাজার কোটি টাকায়। তাহলে আগে ২ হাজার কোটি টাকার প্রডাক্টটিকে উৎপাদন শুরু করতে হবে। এ তথ্যগুলো উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরবরাহ করলেই হবে। তারা এগুলো বানিয়ে ফেলবে। এর জন্য যদি একটা পরামর্শক কাউন্সিল থাকে। উদ্যোক্তারা খুঁজতে থাকে যে কী নিয়ে কাজ করবে। আমরা যখন শুরু করি তখন প্রশ্ন ছিল কী করব? সবাই বলে গার্মেন্টস করো। কোনো গবেষণা নেই, জানা নেই। অন্ধকারে শুরু করে আল্লাহর অশেষ রহমতে টিকে গেছি। অনেকে টেকেনি। তারা সর্বস্বান্ত হয়েছে। পুঁজি হারিয়েছে। কিন্তু আমরা যারা টিকে গিয়েছি তারা কিন্তু অনেক ধাপ এগিয়েছি। পরে টাইলসসহ অনেক কিছু নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু শুরুটা তো ওই গার্মেন্টসই। সেখানে স্কোপ অনেক। উদ্যোক্তাদের জানিয়ে দিতে হবে যে এ সেক্টরটা খালি আছে। ইন্টারনেটের যুগে মেশিন জোগাড় করা কোনো সমস্যা না। অথবা টেকনোলজি বা কোনো কনসালট্যান্ট আনা। এক্ষেত্রে সরকারও বাধা দেয় না। আইন অনুযায়ী আমরা কনসালট্যান্টকে ফি দিতে পারি। যখন আমরা সিরামিকের ব্যবসা শুরু করি তখন স্পেনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান থেকে টেকনোলজি ও মার্কেটিং হায়ার করি। আমরা মনে করেছি এটা ঠেকে শেখার ব্যবসা নয়। ঠেকে শেখার অসুবিধা হলো খারাপ করতে করতে ভালো করা। কিন্তু এত কোটি টাকার বিনিয়োগ করে যদি মার্কেটে চাউর হয় যে আমার প্রডাক্ট খারাপ, এটা রিস্ক। সেই ঝুঁকি আমরা নিইনি। জাম্প স্টার্ট করতে পেরেছি। প্রথম দিন থেকেই প্রডাক্টের মান ভালো ছিল। কোনো দিন বিজ্ঞাপনও দিতে হয়নি। তবে সেল হয়েছে। এগুলো একটু বুদ্ধি খাটালেই হয়। সবার ধারণা ব্যবসা করতে গেলে টাকা লাগে। আসলে তা নয়। বরং ব্যবসা করতে গেলে লাগে সততা ও নিষ্ঠা। আমার যদি প্রতিভা থাকে আর ভালো গুণ থাকে তাহলে কেউ না কেউ বলবে যে আমি টাকা দিচ্ছি আপনি কী করতে চান? শিক্ষার্থীদের যখন গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয় তখন একটা মোটিভেশন প্রোগ্রাম দরকার যেন তাদের মধ্য থেকে উদ্যোক্তা তৈরি হয়। সবাই চাকরি করলে তো হবে না। এসব জায়গা থেকে তাদের বের করে এনে কীভাবে শূন্য হাতে ব্যবসা শুরু করা যায় সে পথ দেখাতে হবে। আমারও তো কোনো পুঁজি ছিল না। এমন অনেকেই আছেন শূন্য হাতে শুরু করেছিলেন। এ উদাহরণগুলো তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। ব্যবসা করতে সততা ও নিষ্ঠাই সবচেয়ে বড় কোয়ালিটি। নতুন উদ্যোক্তা যারা ভয় পায় বলে টাকা নেই। আমি তাদের বলব স্ট্রং ডিটারমিনেশন থাকতে হবে যে আমার মার্কেটে টিকতে হবে। টিকে থাকার জন্য কী কী লাগবে? বুদ্ধি খরচ করে সেটা বের করে আনতে হবে। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ফোকাস লাইন চেঞ্জ করতে হবে। এবং অন্যের দিকটা ফলো করতে হবে যে কীভাবে সফল হচ্ছে। আর জানার আগ্রহ থাকতে হবে। এটা অনেক কঠিন জিনিস। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জানার আগ্রহ ধরে রাখতে হবে। যে কারো থেকে জানতে হবে। এজন্য বয়সের কোনো সীমারেখা নেই, জ্ঞানের কোনো পরিধি নেই। আমি ডক্টরেট বা পোস্টডক্টরেট করে ফেলছি তাই বলে আমার আর জানা লাগবে না এ সুযোগ নেই। পৃথিবীতে কোটি কোটি বিষয় আছে জানার। সুতরাং জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। ব্যবসার ক্ষেত্রে ফার্স্ট বয় কাজ করে না। অনেক রিকশাওয়ালা, চা-বিক্রেতা ব্যবসা শুরু করে এখন বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী। তাদের ডিটারমিনেশন ছিল, লক্ষ্য ছিল। লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আর সে অনুযায়ী একটা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।





