একনায়কেরা অন্যদের
দ্বারা
মূল্যায়িত
হতে
পছন্দ
করেন
না।
এ
ধরনের
নেতাদের
ক্ষেত্রে
যেকোনো
ধরনের
মূল্যায়ন,
এমনকি
তাদের
ঘনিষ্ঠ
সহকর্মী
কিংবা
উপদেষ্টাদের
মাধ্যমে
হলেও
তাদের
অবমূল্যায়নের
পথে
একটি
পদক্ষেপ
বলে
মনে
করা
হয়।
তাই
সমালোচনার
সুযোগ
তো
দূরে
থাক,
কোনো
প্রশ্নই
আসে
না।
মাও জে
দং-পরবর্তী
সময়ে
চীনের
বর্তমান
প্রেসিডেন্ট
শি
জিনপিং
কমিউনিস্ট
পার্টির
সর্বাধিক
ক্ষমতাধর
ব্যক্তি
হিসেবে
বিষয়টি
মাথায়
রাখেন।
২০২২
সালে
কমিউনিস্ট
পার্টি
অব
চায়নার
(সিপিসি) ২০তম
কংগ্রেসে
জিনপিং
তৃতীয়
মেয়াদে
ক্ষমতায়
থাকার
ব্যাপারে
অনুমতি
পাওয়ার
চেষ্টা
করবেন।
এর
মাধ্যমে
দেং
ঝাওপিং
কর্তৃক
তৈরি
করা
সর্বোচ্চ
দুই
মেয়াদে
ক্ষমতায়
থাকার
নিয়ম
বাতিল
হয়ে
যাবে।
মাওয়ের মতো
একনায়ক
পুনরায়
তৈরি
হওয়ার
সম্ভাবনা
রোধের
পাশাপাশি
সিপিসির
নেতৃত্ব
সংঘবদ্ধ
করার
উদ্দেশ্যে
নিয়মটি
প্রবর্তিত
হয়েছিল।
কিন্তু
বর্তমান
চীনা
প্রেসিডেন্টের
উদ্দেশ্য
বুঝতে
হলে
তার
তৈরি
‘পার্সোনালিটি
কাল্ট’
ও
‘শি
জিনপিং
চেতনা/তত্ত্ব’
ভেদ
করতে
হবে।
প্রথমত, শির
সর্বগ্রহণ
দর্শন
এমন
মত
জাহির
করে
যে
চীনা
ইতিহাস
ও
সংস্কৃতির
সর্বোত্কৃষ্ট
সবকিছু
সিপিসির
উত্তরাধিকার।
দ্বিতীয়ত,
এখানে
ক্ষোভ
থেকে
তৈরি
হওয়া
জাতীয়তাবাদ
ঢোকানো
হয়েছে।
তৃতীয়
ও
সম্ভবত
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়টি
হলো
দল
ও
দেশের
মানুষকে
বুঝিয়ে
দেয়া
হয়েছে,
তাদের
ঘুম
ভাঙা
থেকে
ঘুমাতে
যাওয়া
পর্যন্ত
সবকিছু
জিনপিংয়ের
অধীন
এবং
তার
পরও
শি
তাদের
ওপর
নজর
রাখছেন।
শি তার
কর্মের
সমালোচনা
না
চাইলেও
তার
ঘনিষ্ঠ
পরামর্শকদের
অনুধাবন
করা
উচিত,
২০০৮
সালের
বৈশ্বিক
অর্থনৈতিক
সংকটের
সময়
থেকে
চীন
যে
চরম
ক্ষমতা
লাভ
করেছে,
এত
বছর
ধরে
তার
অনেকটাই
জিনপিং
অপচয়
করেছেন।
‘পোস্ট-পিক’
চীনের
অস্তিত্বের
সমস্যাগুলো
আরো
অনিশ্চিত
হয়ে
উঠবে।
দেশটি
বর্তমানে
যতটা
শক্তিশালী
হয়ে
উঠেছে
সে
তুলনায়
তাদের
অবস্থান
ততটা
নিঃসন্দেহ
মনে
হচ্ছে
না।
কিছু
ক্ষেত্রে
বিশ্বের
অন্যান্য
দেশের
জন্য
আরো
বেশি
সমস্যা
উৎপাদনকারী
হয়ে
ওঠার
সম্ভাবনা
রয়েছে।
সমস্যা তিনটি
সাম্প্রতিক
ঘটনাবলির
মধ্যে
প্রপার্টি
ডেভেলপার
এভারগ্রান্ডের
সংকটের
মধ্য
দিয়ে
চীনের
বিপদবার্তা
নাটকীয়ভাবে
প্রকাশিত
হয়েছে।
২০০৮
সালের
লেম্যান
ব্রাদার্সের
পতনের
সঙ্গে
তুলনা
করে
এ
অবস্থাকে
সঠিক
সূচনা
বলে
মনে
হচ্ছে
না।
এভারগ্রান্ডের
ঘটনাটি
একটি
সাধারণ
বাজার
ব্যবস্থার
সংকটের
চেয়েও
বড়
হয়ে
ওঠে
এবং
চীনা
সরকারকে
দেশটির
অস্তিত্বের
জন্য
বিপজ্জনক
তিনটি
বিষয়ের
মুখোমুখি
নিয়ে
আসে।
প্রথমটি হলো
অত্যধিক
ঋণ,
অন্তত
নির্মাণ
ব্যবসায়
নয়।
অবস্থা
এমন
যে
বর্তমানে
যেকোনো
বিষয়ে
চীনকে
১০
বছর
আগের
তুলনায়
দ্বিগুণ
ঋণ
নিতে
হবে।
হার্ভার্ড
ইউনিভার্সিটির
কেনেথ
রগোফ
ও
সিঙ্গুয়া
ইউনিভার্সিটির
ইউয়ানশেন
ইয়াং
ধারণা
করেন,
চীনের
জিডিপির
২৯
শতাংশ
চীনের
সম্পদ
ও
নির্মাণ
ব্যবসা
থেকে
আসে।
আঞ্চলিক
সরকারের
রাজস্বের
অন্যতম
উৎস
জমি
ব্যবসা
এবং
চীনের
প্রায়
৭৮
শতাংশ
ব্যক্তিগত
সম্পত্তি
হাউজিংয়ের
সঙ্গে
যুক্ত।
তবু
২০০৮
থেকে
২০১৯-এর
মধ্যে
চীনের
মোট
ঋণের
পরিমাণ
আট
গুণ
বেড়েছে,
যা
এর
জিডিপির
তিন
গুণ।
চীনের দ্বিতীয়
সমস্যাটি
জনতাত্ত্বিক।
বেড়ে
চলা
ঋণ
এবং
পতনোন্মুখ
উৎপাদনশীলতার
সঙ্গে
কর্মক্ষম
বয়সের
জনসংখ্যায়
কমতি
লক্ষিত
হচ্ছে।
২০৫০
সাল
নাগাদ
দেশটিতে
অর্থনৈতিকভাবে
সক্ষম
জনতার
পরিমাণ
১৯
দশমিক
৪
কোটি
কমে
যাওয়ার
সম্ভাবনা
রয়েছে।
এছাড়া চীনের
নারী-পুরুষ
সংখ্যার
তির্যক
অনুপাতের
কারণে
পরিবার
ও
সন্তান
জন্মদানের
পরিমাণ
কমছে।
নারী-পুরুষের
সংখ্যার
বৈষম্য
মূলত
তরুণদের
মধ্যে
বেশি
লক্ষিত
হয়।
নির্দিষ্ট
বয়সের
১২০
জন
তরুণের
বিপরীতে
তরুণী
রয়েছে
১০০
জন।
পরিবার
কমে
যাওয়ার
কারণে
স্বাভাবিকভাবেই
চীনের
নির্মাণ
ব্যবসার
ফলাফল
অসংখ্য
অ্যাপার্টমেন্ট
খালি
পড়ে
আছে
এবং
অন্তত
৫০টি
শহর
ভুতুড়ে
শহরে
পরিণত
হয়েছে।
এ সংকটগুলোর
ক্ষেত্রে
জিনপিংয়ের
পদক্ষেপ
হলো
চীনের
তুলনামূলক
উৎপাদনশীল
বেসরকারি
খাতে
তার
অধিকার
দ্বিগুণ
করা
এবং
রাষ্ট্রায়ত্ত
প্রতিষ্ঠানকে
সুবিধা
দেয়া।
বেসরকারি
খাতের
সাফল্যের
মাধ্যমে
বৈষম্য
বৃদ্ধির
বিষয়টি
লক্ষ
করেছেন,
যা
কিনা
চীনা
কমিউনিজমের
দুর্বলতা
হিসেবে
দাঁড়াতে
পারে।
সফল
বৃহৎ
প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর
ওপর
থেকে
ক্ষমতা
হারানো
এবং
কমিউনিজমের
দুর্বলতা
লক্ষ
করে
তিনি
এ
নীতি
গ্রহণ
করেছেন।
কিন্তু ‘জিনি
সহগ’—যা
কিনা
সম্পদ
ও
আয়বৈষম্য
প্রকাশক—দেখায়
যে
বর্তমানে
বহুসংখ্যক
উন্নত
পশ্চিমা
দেশের
তুলনায়
চীনের
বৈষম্য
বেশি
এবং
এটি
দ্রুতই
যুক্তরাষ্ট্রের
মতো
অর্থনৈতিক
বৈষম্যের
পর্যায়ে
পৌঁছে
যাচ্ছে।
স্বল্পসংখ্যক
ধনীকে
জোর
করে
তাদের
সম্পদের
সামান্য
অংশ
দিয়ে
রাষ্ট্র
বা
রাষ্ট্রায়ত্ত
প্রজেক্টে
অর্থায়ন
করানোর
মধ্য
দিয়ে
এ
সমস্যা
সমাধান
হবে
না।
চীনে
সমতা
প্রতিষ্ঠা
করতে
হলে
সিপিসির
ক্ষমতা
কাঠামো
ভেঙে
দিতে
হবে।
উচ্চমাত্রার ঋণের
পাশাপাশি
প্রতিকূল
জনমিতি
ও
বৈষম্যের
বিস্তৃতির
মধ্য
দিয়ে
শির
চীন
ভয়াবহ
পরিমাণে
রসদ
ও
পরিবেশবিষয়ক
চ্যালেঞ্জের
মুখে
পড়বে।
এটি
যেকোনো
দেশের
তুলনায়
বেশি
পরিমাণে
অপরিশোধিত
তেল
আমদানি
করে
এবং
দেশটিতে
খাদ্যনিরাপত্তার
সংকট
রয়েছে।
এরই
মধ্যে
জলবায়ু
পরিবর্তন
এসে
জেঁকে
বসেছে
এবং
বিশেষত
চীনের
উত্তরাঞ্চলে
পানি
সংকট
দেখা
দিয়েছে।
চীনে
বিশ্বের
মোট
স্বাদু
পানির
৭
শতাংশের
মজুদ
রয়েছে,
কিন্তু
মাত্র
১৮
শতাংশ
মানুষ
এর
সংস্পর্শে
বাস
করে।
মূলত
বসতি
ও
পানির
উৎসের
মধ্যে
মিল
নেই।
বৈশ্বিক কার্বন
নিঃসরণ
কমানোয়
চীনের
অবদান
এর
অর্থনীতিতে
আরো
প্রভাব
ফেলেছে।
ঋণ
ও
জনমিতির
বৈষম্য
বাদে
এ
কারণেও
দেশের
অর্থনীতির
বিকাশ
বাধাগ্রস্ত
হয়েছে।
তাই
জনসাধারণ
যখন
অর্থনৈতিক
খোঁচা
অনুভব
করছে,
শি
তার
জনগণের
ওপর
নজরদারি
ও
ভয়ভীতি
প্রদর্শন
বাড়াতে
পারেন।
শির ঔদ্ধত্য
স্পষ্ট
করে
বলা
দরকার
যে
শির
শাসনামলে
ভূরাজনৈতিক
ক্ষেত্রে
চীন
যথেষ্ট
ক্ষমতা
দেখিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র
এবং
এর
লিবারেল
ডেমোক্রেটিক
মৈত্রীর
শাসন
পতনের
দিকে
এমন
ধারণার
বশবর্তী
হয়ে
শি
এমন
একটি
ধারণা
প্রবর্তন
করেন
যে
ভবিষ্যতে
চীন
প্রাথমিকভাবে
জিতবে
এবং
ক্ষমতার
আসনে
অধিষ্ঠান
করবে।
চীনের
‘উলফ
ওয়ারিয়র’
কূটনীতির
মধ্য
দিয়ে
তারা
ইন্দো-প্যাসিফিক
অঞ্চলে
সর্বগ্রাসীবাদের
নিরিখে
নিজেদের
প্রাধান্য
বিস্তার
করবে।
কিন্তু চীনের
প্রতিবেশী
দেশগুলো—ভারত
থেকে
জাপান,
দক্ষিণ
কোরিয়া
থেকে
সিঙ্গাপুর
ও
অস্ট্রেলিয়া
থেকে
ভিয়েতনাম—শির
পেশিশক্তি
ব্যবহার
রুখতে
দিন
দিন
বদ্ধপরিকর
হয়ে
উঠছে।
এছাড়া
অন্যান্য
দেশের
সঙ্গে
সহযোগিতা
বৃদ্ধির
ক্ষেত্রে
যুক্তরাষ্ট্র
কিছু
সাফল্য
লাভ
করেছে।
চীনের
চারদিকে
এক
ধরনের
প্রাচীর
তৈরি
করে
দ্বিতীয়
স্নায়ুযুদ্ধ
তৈরি
করার
কোনো
পরিকল্পনা
নেই।
বরং
উদার
গণতন্ত্রীরা
চীনের
এ
উদ্ধত
মনোভাব
এবং
ক্রমাগত
ক্ষমতার
দম্ভ
দেখানোর
বদলে
চীনের
সঙ্গে
এমন
চুক্তিতে
আসতে
চায়
যা
বৈশ্বিক
মুনাফা
বয়ে
আনবে।
তবে
এক্ষেত্রে
চীনের
কথা
রাখার
বিষয়টি
গুরুত্বপূর্ণ।
মার্ক্সবাদীদের দৃষ্টি
থেকে
দেখলে
বস্তুগত
সত্য
হিসেবে
দেখা
যাবে
চীনের
আগ্রাসী
কূটনীতি
ব্যর্থ
হয়েছে।
এখন
চীনকে
কৌশল
বদলাতে
হবে।
সমস্যা
হলো
স্বয়ং
শি—অনেকে
যাকে
ঝুঁকি
গ্রহণকারী
বলে—আরো
আগ্রাসী
হয়ে
উঠতে
পারেন।
সুতরাং
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধির
মাধ্যমে
চীনা
জনতার
মৌন
সমর্থন
নিশ্চিত
করার
বাইরে
তিনি
জাতীয়তাবাদী
চেতনার
বিস্ফোরণ
ঘটানোর
চিন্তা
করবেন।
কাজটি
বিশেষত
তাইওয়ানের
বিরুদ্ধে
কারার
সম্ভাবনা
বেশি।
বর্তমানে বহুসংখ্যক
বিশেষজ্ঞ
মনে
করেন,
তাইওয়ানের
ওপর
চীনের
হামলার
বিষয়টি
একটি
বাস্তব
সম্ভাবনা।
তাই
বহু
ক্ষেত্র
মাথায়
রেখে
বলা
যায়,
বর্তমান
সময়টি
আমাদের
সবার
জন্য
আরো
বেশি
বিপজ্জনক।
উদার
গণতন্ত্রগুলোর
পক্ষ
থেকে
আলাদা
কিন্তু
স্পষ্টভাবে
শির
শাসনকে
জানানো
উচিত
যে
চীনের
তরফ
থেকে
সীমা
লঙ্ঘন
করা
ঠিক
হবে
না।
এর
মধ্যে
একটি
সীমা
হলো
তাইওয়ান
প্রণালি।
ক্রিস প্যাটেন: হংকংয়ের সর্বশেষ ব্রিটিশ গভর্নর
ইউরোপীয়
ইউনিয়নের
পররাষ্ট্র
বিষয়াবলির
একজন
ভূতপূর্ব
কমিশনার
এবং
ইউনিভার্সিটি
অব
অক্সফোর্ডের
চ্যান্সেলর
ভাষান্তর: মাহমুদুর রহমান





