তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রতিনিয়তই বাড়ছে নানা ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার। এসব ডিভাইস ব্যবহারের একটা পর্যায়ে তা হয়ে যাচ্ছে ই-বর্জ্য, যা থেকে সৃষ্ট কার্বন আমাদের পরিবেশ এবং মানবদেহের জন্য ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে। উপরন্তু অল্প পয়সায় বিক্রির আশায় বিদেশ থেকে পরিত্যক্ত প্রযুক্তি পণ্য দেশে আনছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। দেশের লাখ লাখ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে ই-বর্জ্য। নিশ্চিত ঝুঁকির মুখে পড়ছে দেশের স্বাস্থ্য খাত। অনাহূত এ সংকট মোকাবেলায় সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ৩ জুন ২০২৩ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম কর্তৃক ‘ই-বর্জ্যের কার্বন ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: কারণ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং দেশী-বিদেশী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে অবৈধ পথে আসা ‘ই-বর্জ্য’ সৃষ্টিকারী রিফারবিশ পণ্যের অবৈধ আমদানি বন্ধ করতে পথনকশা তৈরি করে পরীক্ষামূলকভাবে ই-বর্জ্য রিসাইকেলিং প্রকল্প চালুর আহ্বান জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
রেজাউল করিম
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আমাদের গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। এটি খুবই সমসাময়িক বিষয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তি পণ্য বাদ দিতে পারব না। এ পণ্যগুলো ব্যবহার করতেই হবে। ই-বর্জ্য নিয়ে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করবে। তবে এটা ঠিক ই-বর্জ্য পরিবেশের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু এটিকে কীভাবে ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা যায় সেটি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। বিআইজেএফ যে বিষয়টি সামনে এনেছে সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
আরেকটি বিষয় হলো, আমরা যদি ই-বর্জ্যকে রিসাইক্লিং করতে পারি তাহলে কিন্তু বিষয়টি আর্থিকভাবে এর ভালো সম্ভাবনা আছে। যেটা ব্যবহারের উপযোগী না সেটা ফেলে দিতেই হবে। প্রয়োজন হলে ই-বর্জ্য নিয়ে আমাদের আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন করে আমাদের একটা সিস্টেমে আনতে হবে। এরপর যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। আর যেটা ফেলে দেয়ার মতো সেটা ফেলে দিতে হবে। আর যেটা রিসাইক্লিং করে ব্যবহার করা যাবে সেটি ব্যবহার করতে হবে। আমরা যে যে বিভাগে আছি সেখান থেকেই কাজ করে যেতে হবে। আমি বলব ই-বর্জ্য নিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট বিভাগ পরিবেশ অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেয়া উচিত। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সরকার অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ই-বর্জ্য নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। ই-বর্জ্য নিয়ে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের যদি কোনো কিছু করার থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা এটি নিয়ে কাজ করব। আমাদের কালিয়াকৈরে যে হাই-টেক পার্ক সেখাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি ট্রিটমেন্ট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও সার্বিক সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি এগিয়ে যাচ্ছে। এটি ২-৩ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট। আমাদের হাই-টেক পার্কের অংশগ্রহণ ২০০ থেকে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পটি আমরা করছি। এছাড়া আমাদের যদি আরো কিছু করার থাকে তাহলে তাও আমরা করব। কারণ আমাদের কিন্তু ই-বর্জ্য বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। আমাদের সারা দেশের ই-বর্জ্য নিয়ে ভাবতে হবে। ঢাকা শুধু ঢাকা নিয়ে বসে থাকলে হবে। সারা দেশের মানুষই কিন্তু প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করে এবং ই-বর্জ্য উৎপাদন করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের একটা পরামর্শ দিই, সেটা হলো দেশের আরো যেসব পরিবেশবিষয়ক সংগঠন রয়েছে, তাদেরও সঙ্গে নিতে হবে। তাহলে দ্রুত ই-বর্জ্য ব্যবস্থার সুফল আসবে।
অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তার হোসেন
ডিন, স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
২০১৯ সালে বিশ্বে ই-বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৩৬ লাখ টন ই-বর্জ্য। সংস্থাটির অনুমান, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে ই-বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৭ কোটি ৪৭ লাখ টনে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে নগরায়ণে বাড়ন্ত সময়ে বাড়ছে ই-পণ্যের চাহিদা। এক্ষেত্রে ডিজিটাল থেকে স্মার্ট পথে যাত্রা করা বাংলাদেশেও এসব পণ্যের চাহিদা ব্যাপক। আর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়েই উন্নত দেশের ব্যববহৃত আইটি ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের অবাধ আমদানি এবং তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় ডাম্পিং না করায় ই-বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতি বছর দেশে সৃষ্টি হচ্ছে ৩০ লাখ টন ই-বর্জ্য। এর মধ্যে কেবল মুঠোফোন থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে সর্বোচ্চ সাড়ে ১০ টন ই-বর্জ্য। অন্তত ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০২ ইউনিট নষ্ট টেলিভিশন থেকে সৃষ্টি হচ্ছে ১ দশমিক ৭ লাখ টনের মতো ই-বর্জ্য। জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে আসছে ২৫ লাখ টনের বেশি। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এ বর্জ্য বাড়ছে ৩০ শতাংশ হারে। সে হিসাবে আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ কোটি টনের ই-বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হবে বাংলাদেশ; কেননা, ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে বিলিয়ন ইউনিট মোবাইল উৎপাদন হবে এবং কম্পিউটার পিসিবিভিত্তিক ধাতু পুনরুদ্ধার ব্যবসায় সম্প্রসারিত হবে; যা ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ মানবিক সংকট। ই-বর্জ্য ব্যক্তির স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। যথাযথ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় দূষিত করছে পানি, বায়ু এবং মাটি। বাড়াচ্ছে পরিবেশের তাপমাত্রা এবং বিনষ্ট করছে জমির উর্বরতাও। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এখনই দেশের ‘ই-বর্জ্য’ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে স্মার্ট বাংলাদেশ।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন
পরিচালক, লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)
আমাদের দেশের মানুষ মধ্যে একটা ধারণা আছে র্যাব পুলিশ চাইলে সবই করতে পারে। বিষয়টা কিন্তু ততটা সহজ নয়। স্টেক হোল্ডারদের সমন্বিত চেষ্টাই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আমরা ভালোভাবে সমাধান করতে পারি। শুধু র্যাব বা পুলিশের একার পক্ষে কোনো কিছুই সমাধান সম্ভব না। ই-বর্জ্য বিষয় যদি আলোচনা করি তাহলে আমাদের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে। এছাড়া ই-বর্জ্য নিয়ে একটা নীতিমালা রয়েছে। পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ আইনের জন্য একটা পরিবেশ আদালত রয়েছে। পরিবেশ আদালত যদি কাউকে দোষী হিসেবে ঘোষণা করে আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসি এবং গ্রেফতার করে জেলে দিই। অপরাধীরা জামিনে বের হয়ে আবার একই অপরাধে জড়িত হচ্ছে। তাই আমি একটা বিষয় বলতে চাই সবার আগে দরকার জনগণের সচেতনতা। আমরা প্রচুর মোবাইল কোট করে থাকি। যারা ভুক্তভোগী তাদের সহযোগিতা করা হয় আমাদের পক্ষ থেকে। অবৈধভাবে বা ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে দেশে আসা মালপত্রের সন্ধান পাওয়া গেলে কাস্টমসের অভিযান পরিচালনার নিয়ম রয়েছে। আমরা র্যাবের বিশেষ ক্ষমতাবলে চোরাইপথে ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ উদ্ধার করে থাকি। সম্প্রতি আমরা একটা অভিযানে ৩ হাজার ৫০০ ল্যাপটপ জব্দ করেছি। আমাদের কাছে যখনই অভিযোগ আসছে, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ভবিষ্যতেও নেব। আমরা সবাই মিলে যদি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারি তবেই এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।
মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার
উপপরিচালক (ঢাকা বিভাগ)
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি)
বর্তমানে আমাদের গ্রামেগঞ্জে সিসা ছড়িয়ে পড়ছে। সেটা তৈরি হচ্ছে ব্যাটারি থেকে। ই-বর্জ্যের কারণে আমাদের জাতিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি হুমকির মধ্যে পড়েছে। এখন শহরের পাশাপাশি গ্রামে প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। আমি একটা উদাহরণ দিয়ে বলি, আমাদের দেশের প্রতিটি গ্রামে ব্যাটারিচালিত গাড়ি। এ গাড়িগুলো যে ব্যাটারিতে চলে সেগুলো কিন্তু নষ্ট হওয়ার পর কী করতে হবে সেটা কিন্তু তারা জানেই না। তারা যেখানে-সেখানে ফেলে দেয়। আমরা লক্ষ্য করেছি, গ্রামেগঞ্জে এসব ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামের জমিতে এ সিসা যাচ্ছে গাড়ির ব্যাটারি থেকে। তাই বলা যায়, ই-বর্জ্যের ভয়াবহতা সবখানে ছড়িয়ে যাচ্ছে। দিন দিন ই-বর্জ্য অনেক বাড়ছে। যারা আমাদের দেশে এগুলো উৎপাদন করছে তাদের একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। এ পণ্যগুলোর দামের সঙ্গে যদি আমরা কীভাবে ই-বর্জ্য থেকে সমাধান করা যায় সে খরচটা রাখতে হবে। ই-বর্জ্যের ক্ষতি নিয়ে আমাদের আরো প্রচার করতে হবে। তাহলে কিছুটা হলেও এর সমাধান হবে।
ব্যারিস্টার নাজমুস সালেহীন
আইনজীবী
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
আজকের আলোচনা থেকে তিনটি জিনিস উঠে এসেছে। একটি হলো অবৈধ আমদানি, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আরেকটি হচ্ছে আইন। এ তিনটি জিনিস আলাদা। এখানে আমি একটা বিষয় সচেতনভাবে উল্লেখ্ করতে চাই ‘আমরা প্রত্যেকেই মানুষ, কেউ ক্রিমিনাল না।’ কিন্তু আমাদের আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাব আছে। আইনগুলো প্রয়োগ করার ইচ্ছে আমাদের মধ্যে অনেক কম। ছোটবেলা থেকেই আমাদের স্কুলগুলোয় অনেক কিছুই পড়ানো হয়, কিন্তু আইন বিষয় পড়ানো হয় না। আইনটা যে একটা বড় জিনিস এবং এটা যে সারাজীবন মেনে চলতে হয় এটা আমরা বুঝি না। আইনটা আমাদের প্রাইমারি পর্যায় থেকে পড়ানো উচিত। ব্যাগে করে পাঁচটা আইফোন নিয়ে আসা যে একটা অবৈধ বিষয়, এ বিষয়টাই আমরা সহজে বুঝে উঠতে চাই না। যেটা সরকার বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য সম্ভব না। এরপর যদি আমি আসি ই-ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে সেটা হলো, আমাদের পরিবেশের অনেক আইন আছে। আমরা সাধারণ বর্জ্য, ই-বর্জ্যের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারিনি। এবার আসি আইনের বিষয়ে। আইনের জায়গাটায় আমাদের বোঝাবে কেন আমরা পারিনি। আমরা একটা আইনকে সবাই রেফার করছি। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১-এর সেকশন ১৫। এ সেকশন হলো “কোনো পুরাতন বা ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল বা ইলেকট্রনিকস পণ্য আমদামি করা বা দান, অনুদান অন্য কোনোভাবে গ্রহণ করা যাবে না।” এখন যদি ভালোভাবে দেখেন তাহলে বুঝবেন আইনটা প্রয়োগ করা সম্ভব না। কারণ ইলেকট্রনিক পণ্য বা গাড়ি আমদানি তো নিষিদ্ধ না। আমরা যে এ ধরনের আইন কত করে রেখেছি। এ আইনগুলোকে আমরা নিজেরাই প্রয়োগ করতে পারি না। যারা আপনারা আমদানিকারক বা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছেন তারা আইনের আশ্রয় নেন, কোর্টে আসেন। আমরা দেখলাম ই-বর্জ্য বিক্রির জন্য ওপেনলি মার্কেটিং হচ্ছে। এই ওপেন মার্কেটিংটা কিন্তু আমরা কোর্টে দৃষ্টিতে আনতে পারতাম। কিন্তু আমার আসলে আনতে পারব না। কারণ আমাদের আইন আমাদের সাহায্য করবে না। এরপর যদি আমরা আসি শান্তি বিষয়ে তাহলে আমার দেখব বিষয়টি আমরা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করিনি। ফলে আমরা এ আইনের কোনো রকম সহযোগিতা নিতে পারি না। আইনের সাহায্য পেতে হলে আমাদের আইনের ভাষা সম্পর্কে বুঝতে হবে। যেটা আমাদের ই-বর্জ্য বিষয়ে যথাযথভাবে নেই।
আবদুল ফাত্তাহ
চেয়্যারম্যান
গ্লোবাল ব্র্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড
আগে কিন্তু আমরা প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সেটার প্রভাব কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। পলিথিনের জন্য আমাদের মাটি উর্বরতা হারাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সেটা চলমান। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এটা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন আমরা নতুন সমস্যার মধ্যে রয়েছি। সেটি হলো ই-বর্জ্য। আমরা যেহেতু প্রযুক্তি আমদানি করি, তাই ই-বর্জ্য নিয়ে আমার দায়বদ্ধতা আছে। সুতরাং আমরা যেসব পণ্য আমাদানি করি, সেসব আমরা সরাসরি বিশ্বখ্যাত উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে চুক্তি করেই আমদানি করি। সেখানে আমাদের কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। কীভাবে আমরা সেগুলো সংরক্ষণ করব, কীভাবে ই-বর্জ্যগুলোকে আমরা সংরক্ষণ করব। কার কাছে ই-বর্জ্য দেব সেটাও বলা আছে। আমাদের ট্রাই পার্টি এগ্রিমেন্ট থাকে। আমি মনে করি সামাজিকভাবে সচেতনা তৈরি করাটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ই-বর্জ্যটা আমাদের শরীরে নানা রোগের সৃষ্টি করছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের কিন্তু একটা দায়বদ্ধতা আছে। কিন্তু যারা লাগেজে করে ই-বর্জ্য এনে বাজারে বিক্রি করছে তাদের কিন্তু কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা শুধু বিক্রি করে দিচ্ছে এরপর কোথায় যাবে, কী হবে এর কোনো ঠিকঠিকানা নেই। সুতরাং এ জিনিগুলোকে প্রতিরোধ করা উচিত। আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে পণ্য আমদানি করি পিস হিসেবে। কিন্তু যারা ই-বর্জ্য আনছে তারা কেজি হিসেবে বিদেশে থেকে জিনিস নিয়ে আসছে। বিষয়টা খুবই ভয়াবহ। এতে আমাদের প্রযুক্তি খাতের চেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়বে দেশের পরিবেশ এবং স্বাস্থ্য খাত।
মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড
যেকোনো প্রযুক্তি পণ্য যখন নতুন থাকে অথবা আমাদের ব্যবহারযোগ্য থাকে তখন এটা আমাদের সম্পদ। এ সম্পদ ছয়-সাত বছর পরে হয়ে যায় আমাদের দায়। একে কীভাবে আমাদের সম্পদে পরিণত করতে হবে তা নিয়েই কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে অনেক মানুষ আছে। আমরা কিন্তু বেশি জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে দেখেছি। বাধ্য হয়ে কিন্তু আমরা জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করছি। এখন হচ্ছে যে ই-বর্জ্যটা আমাদের লোকালি উৎপাদন হচ্ছে সেটাকে আমাদের সম্পদ হিসেবে পরিণত করতে হবে। যেভাবে কাজ হচ্ছে এতে যদি সরকারের সাপোর্ট থাকে তাহলে এটা সম্পদে পরিণত করা যাবে। এবং সেটাই করতে হবে। একটা ই-বর্জ্য থেকে যে সম্পদ তৈরি করা যাবে সেটা কিন্তু কমার্শিয়ালি ভ্যায়াবল না। ই-বর্জ্য থেকে যে পরিমাণ সম্পদ পাওয়া যাবে তা দিয়ে কিন্তু খরচ মেটানো যাবে না। এ কারণে যখন বিদেশের ভালো কোম্পানিগুলো যে পণ্য উৎপাদন করে বিক্রি করে, তখন তার সঙ্গে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটা বাজেট রেখে দেয়। আমরা বাংলাদেশে যেসব ব্র্যান্ডের পরিবেশক হিসেবে কাজ করছি, আমরা সঠিকভাবে যখন ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি করি, তখন এর সঙ্গে একটা রিসাইকেল পলিসি জড়িত থাকে। এসব পণ্য মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা রিসাইকেল করার খরচ মেটানোর জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট পলিসি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব পুরনো পণ্য ঢুকছে, তাদের কিন্তু সে দায় নেই। কারণ এসব পণ্যের রিসাইক্লিংয়ে দায়িত্ব এর উৎপাদনকারীগণ অন্য কোনো দেশে দিয়ে এসেছেন।
মূল সমস্যা হচ্ছে, বিদেশের কিছু অসাধু সাপ্লায়ার যারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেসব দেশে ফান্ড পেয়েছেন, তারা তা রিসাইক্লিং না করে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। যেটাকে আমি মনে করছি, আমাদের দেশের ওপর একটা আক্রমণ। আমরা জানি ই-বর্জ্য কারা আনছে, কোথা থেকে আনছে, কীভাবে বিক্রি করছে। সারা বিশ্বের যেকোনো সভ্য দেশে কিন্তু ব্যবহার করা পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ। শুধু দু-একটা ‘অড ক্যান্ট্রি’ ছাড়া। পাকিস্তানভিত্তিক কিছু ব্যবসায়ী দুবাইয়ে বসে বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে ই-বর্জ্য বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে।
আমাদের দেশের কাস্টমসকে কিন্তু ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। একটা ড্যাম্প করা পণ্য বিক্রি করে কিন্তু বাংলাদেশ থেকে টাকা উড়িয়ে নিচ্ছে। আমাদের দেশে কিন্তু এমতিইে ডলার সংকট চলছে। এ সুযোগে কিন্তু ডলারও পাচার হচ্ছে। একটা উদাহরণ দিয়ে বলি। বাংলাদেশে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার ই-বর্জ্য ল্যাপটপ ঠিক করে পুশ করা হচ্ছে। যদি এ ল্যাপটপ নতুন আসত তাহলে প্রতি মাসে ৩০ কোটি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স পেত বাংলাদেশ সরকার। আমরা যদি সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স না দিই তাহলে সরকার চলবে কীভাবে। আমাদের ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব, সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দেয়া। আমরা সরকারের কাছে সব সুবিধা চাইব কিন্তু ভ্যাট-ট্যাক্স দেব না সেটা তো হতে পারে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে সরকার শুধু ল্যাপটপের ওপর থেকে প্রতি মাসে ৩০-৩২ কোটি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স হারাচ্ছে। সে হিসাবে অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্য মিলিয়ে বছরে আনুমানিক ৬০০ কোটি টাকার রেভিনিউ হারাচ্ছে সরকার। আমাদের সংগৃহীত তথ্য বলে, বর্তমানে প্রায় ৩০০-৪০০ দোকান ই-বর্জ্য বিক্রি করছে। এর সঙ্গে জড়িত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, মাফিয়ারা। এদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের যেকোনো মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতা চাইলে আমরা ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করতে চাই।
রওশন মমতাজ
পরিচালক, সিআরএম ও অধ্যাপক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
প্রথম আমরা বুয়েটে ই-বর্জ্য নিয়ে কাজ করি। ২০৩০ সালে আমরা কোথায় যাব, এবং আমাদের ঝুঁকি কোন কোন বিষয়ে, এটা নিয়ে প্রথম গবেষণা করি। এ নিয়ে আমরা একটা গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছি। এ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২১ প্রণয়ন করি। অনেকেই ই-বর্জ্যের ক্ষতিকর বিষয়গুলো জানে না। আমি কিন্তু ই-বর্জ্যকে বর্জ্য বলতে রাজি নই। আমি মনে করি, এটা আমাদের সম্পদ। কারণ এটা থেকে এত সম্পদ আপনি পাবেন, যেটা সত্যিই সম্পদ। আমার এক ছাত্র ই-বর্জ্যের রিসাইক্লিং নিয়ে কাজ করে আমার জন্য নাকফুল বানানোর সোনা নিয়ে এসেছে। এটা দেখে আমি খুবই অবাক ও খুশি হয়েছি। কাজেই এটা আসলে বর্জ্য না। চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে এটা আপনি কীভাবে সংগ্রহ করছেন, কীভাবে সংরক্ষণ করছেন বা কাজে লাগাচ্ছেন। এখানেই হচ্ছে চ্যালেঞ্জ।
কৌশিক জানা
বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার (ভোক্তা পিএস)
এইচপি বাংলাদেশ
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজিতে আমরা কিছু নিয়ে ইউএনের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছি। ১৯১টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ একটি দেশ যারা এসডিজি স্বাক্ষর করেছে। এসডিজির কিছু কিছু বিষয়ে আমার বেশ ভালো করেছি। কয়েকটি বিষয় আছে মোটামুটি এগিয়েছি, যা নিয়ে আমাদের আরো কাজ করতে হবে। আর যেগুলো লাল করা আছে সেগুলো বাংলাদেশ খুব খারাপ অবস্থায় আছে। সেগুলো খারাপ করেছি সেগুলোর মধ্যে আছে স্বাস্থ্য ও স্যানিটাইজেশন। আগামীর দিনে স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে ই-বর্জ্য। আমরা আমাদের সব পণ্য এমনভাবে বানাই যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়। আমরা আজ বলছি বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ। কীভাবে? বাংলাদেশে প্রচুর ই-বর্জ্য হিসেবে পণ্য আসছে যেগুলো পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমরা এইচপি ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং বিষয়ে ভীষণ সিরিয়াস। আশা করব, অন্য দেশের পরিত্যক্ত পণ্য এদেশে প্রবেশে দেশের সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মো. মাহফুজুল আলম
উপপরিচালক
স্পেকট্রাম বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)
গত বছর জুলাই মাসে আমরা ই-বর্জ্য নিয়ে একটা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছি। বাংলাদেশে এখন কিন্তু ১৬টি মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে। এছাড়া আরো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে। সবাইকে আমরা এ নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলেছি। এর ধারাবাহিকতায় বেশকিছু কোম্পানি নিয়ম মানত না। তারা এখন নিয়মের মধ্যে এসে রিসাইক্লিং করছে। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিশাল অংশই হচ্ছে টেলিফোন ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। মনিটরিংয়ের মাধ্যমে যদি সহনীয় পর্যায় নিয়ে আসতে পারি সেজন্য কাজ করছি।
আতিকুর রহমান
কান্ট্রি ডিরেক্টর
ডেল বাংলাদেশ
ই-বর্জ্য যে শুধু মোবাইল আর ল্যাপটপ থেকে হচ্ছে সেটি কিন্তু না। সব প্রযুক্তি পণ্য থেকেই ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এজন্য সবার আগে আমাদের দরকার সচেতনতা। আমরা যারা এখানে আছি তারা কীভাবে এ বিষয়গুলো ম্যানেজ করছি সেটাও আমাদের ভাবতে হবে। আমার বাসায় যদি আমি দেখি তাহলে বলব প্রচুর ইলেকট্রনিকস জিনিস আছে। সেগুলো যখন বাতিল করছি সেটা কীভাবে আমরা ম্যানেজ করছি। আমরা যে পণ্যগুলো ব্যবহার করছি তা পাঁচ বা ছয় বছর পর কীভাবে ম্যানেজ করব। আমি ডেলের কথা বলতে পারি, ডেল পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে তৈরি করে থাকে। আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশে সঠিক রিসাইক্লিং ব্যবস্থাপনা নেই। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এক বা দুটো কোম্পানির মতো আছে। এক্ষেত্রে আর অনেক কোম্পানিকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা ই-বর্জ্য ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করতে চাই। কিন্তু দেশের বাইরে থেকে যে ই-বর্জ্য আসছে সেগুলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।
সুমন রায়
আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক ব্যবসা)
লেনোভো ইন্ডিয়া
২০০৫ সালের পর লেনোভোয় উৎপাদিত সব পণ্য কীভাবে ম্যানেজমেন্ট হবে তা সুন্দরভাবে বলা আছে। আমরা আমাদের পণ্যে কার্বনের পরিমাণ খুবই কম রাখার চেষ্টা করি। এখানে এখন সমস্যা হলো আমাদের দেশের পণ্য প্রোপার চ্যানেলে দেশে আসে না। এ সমস্যা থেকে আমাদের বের হতে হবে। লেনোভোর একটি পণ্যে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ দাম রিসাইক্লিংয়ের জন্য রাখা হয়। কিন্তু এটা আমাদের দেশে আমরা সঠিকভাবে পালন করতে পারছি না। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী আমরা যে পণ্যগুলো রিসাইক্লিংয়ের জন্য রেখেছি সেগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। এটি বন্ধ করতে হবে। ই-বর্জ্য বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশকে ই-বর্জ্যের ডাস্টবিন বানাতে দেয়া উচিত না।
এমএ হোসেন জুয়েল
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
জেআর রিসাইক্লিং সলিউশন
ব্যক্তিগতভাবে আমি ই-বর্জ্যকে বর্জ্য বলতে রাজি না। এটাকে আমি বলি সম্পদ। এ সম্পদটুকু আমরা আমাদের দেশে কাজে লাগাতে পারছি না। একটা মোবাইল নষ্ট হয়ে গেলে যে পুরোটা নষ্ট হয়ে গেছে তা কিন্তু না। কিছু যন্ত্রাংশ আছে তা আমরা ব্যবহার করতে পারি। এ যন্ত্রাংশগুলো আমরা বিক্রি করতে পারলে অনেক টাকা আয় করা যেত। সেই ধারাবাহিকতায় আমি কাজ করছি। আমাদের যে জনসংখ্যা আছে তা দিয়ে আমরা এ সেক্টরকে ভালোভাবে চালাতে পারব।
শহীদ-উল মুনির
সাবেক সভাপতি
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি
ই-বর্জ্যের অবস্থা ভয়াবহ। আমাদের প্রত্যেকটি পণ্যে লাইফটাইম আছে। এ লাইফটাইম শেষ হয়ে যাওয়ার পর সে পণ্যটি আর ব্যবহার করা যায় না। আমাদের আইন যথাযথভাবেই আছে। কিন্তু সঠিকভাবে মানে না। কীভাবে ই-বর্জ্যগুলো দেশের মার্কেটে প্রবেশ করছে সেখানে ভালোভাবে নজর দেয়া উচিত। আমাদের মার্কেটের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে, যা দেশের জন্য সব ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সেখানে ভোক্তা অধিকার থেকে শুরু করে সবার একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অধ্যাপক লাফিফা জামাল
রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ই-বর্জ্য নিয়ে আমরা কম-বেশি সবাই জানি। কিন্তু ই-বর্জ্য নিয়ে কাজ কতটুকু হচ্ছে। আমরা প্রত্যেকে প্রযুক্তি পণ্যের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। আজকের প্রযুক্তি পণ্য আগামী দিনের ই-বর্জ্য। আমরা যখন ইবর্জ্য নিয়ে কথা বলি তখন আমাদের মাথায় চলে আসে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার। কিন্তু আমরা যদি দেখি কত দ্রুত আমাদের কি-বোর্ড পরিবর্তন করতে হয়। মাউস পরিবর্তন করতে হয়। যখন এগুলো পরিবর্তন করতে হয় তখন আমরা এসব পণ্য ফেলে দিচ্ছি। আমরা প্রতিদিন যেখানে-সেখানে এগুলো ফেলে দিচ্ছি। এ ফেলে দেয়ার কারণ হলো আমরা ই-বর্জ্য নিয়ে কিছু জানি না। আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনা সচেতনতা নেই। এখানে সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। সরকারকে বলে দিতে হবে ই-বর্জ্যগুলো কোথায় ফেলবে। ২০২১ সালে ই-বর্জ্য নিয়ে একটা নীতিমালা হয়েছিল। সেখানে কিন্তু অনেক কিছু বলা ছিল। যারা প্রযুক্তি পণ্য বিক্রি করে তাদের একটা নীতিমালার মধ্যে আনতে হবে। ব্যবহারের শেষে পণ্যগুলো বা ই-বর্জ্য কোম্পানিগুলো ভাবতে হবে। নীতিমালায় একটি কথা বলা আছে, কেউ ১৮০ দিনের বেশি ই-বর্জ্য মজুদ রাখতে পারবে না। কিন্তু কেউ নীতিমালা মানতে চায় না। আমাদের বড় বিষয় হলো বিষয়টি নিয়ে সবার সচেতন হতে হবে। তাহলে সমাধান সম্ভব।
নাজনীন নাহার
সভাপতি
বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)
আমাদের প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবার হাতে হাতে রয়েছে মোবাইল ফোনসহ নানা প্রযুক্তি পণ্য। প্রযুক্তির যেমন ভালো দিক আছে তেমনি এর কিছু খারাপ দিকও আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ই-বর্জ্য। প্রতি বছর আমাদের দেশের অনেক ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। আমাদের সময় এসেছে ই-বর্জ্য নিয়ে কাজ করার। আমাদের দেশের ই-বর্জ্য কাজে লাগাতে হবে। এর নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করতে হবে। তেমনি এর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর রিসাইক্লিং করে এর সম্ভাবনাকেও তুলে ধরতে হবে।
মুজাহিদ আল
বেরুনী সুজন
পরিচালক
স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড
ইদানীং পুরনো পণ্যের প্রচুর চটকদার বিজ্ঞাপন চলছে এবং অনেক ক্রেতা সেখানে ভিড়ে যাচ্ছেন। এমনও হয়েছে নতুন পণ্য বিক্রেতারা তাদের দোকান ছেড়ে দিচ্ছেন। পুরনো পণ্য বিক্রি প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন দোকান দিচ্ছে। মার্কেটে যারা ই-বর্জ্য ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন এমন একজনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। দুবাই থেকে একটি পুরনো ল্যাপটপ বিক্রেতা আমাকে জানান, ২০২২ সালে তারা ১ লাখ ২৪ হাজার ই-বর্জ্য বা পুরনো ল্যাপটপ বাংলাদেশের বাজারে এনেছেন। আমি ওই বিক্রেতার কথায় অবাক হয়েছি। তবে ওনার ওই সংখ্যা থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। একজন ই-বর্জ্যের আমদানিকারক এক বছরের ১ লাখ ২৪ হাজার ল্যাপটপ এনেছেন। ১০-১৫ বছর আগের পণ্য দুবাই থেকে এনে বিক্রি করছেন। এসব পরিত্যক্ত ল্যাপটপ থেকে যে পরিমাণ কার্বন নির্গত হবে, তা আমাদের প্রজন্মকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলবে এবং তারা কিন্তু মার্কেটে বুক ফুলিয়ে বিক্রি করছে। আমাদের সবার চেষ্টায় এগুলো বন্ধ করতে হবে।
সাঈদ আলী
উপসচিব
কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
আমরা জানি আমাদের পরিবেশ আইন আছে ১৯৯৫ সাল থেকে। পরিবেশ পলিসি আছে। যে বিষয়গুলো নিয়ে আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে, ওই জিনিসগুলো কিন্তু ঘটেই যাচ্ছে। যেগুলো কিন্তু প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ব্যবহারকারী প্রচলিত আইন সম্পর্কে জানে না। অথবা জানলে খুব বেশি মেনে চলে না। মেনে না চলার কারণ বিভিন্ন রকম হতে পারে। একটা কারণ হলো মেনে না চলার কারণে সরাসরি আমি ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছি না। অনেকের ধারণা, এ আইনটি ভঙ্গ করলে তো আমার ক্ষতি হচ্ছে না। তাই আইন ভেঙে ফেলছে সহজেই। উল্টো পথে গাড়ি চালালে কিন্তু যদি না আটকায় তাহলে চালাক উল্টো পথে গাড়ি চালাবেনই। সুন্দর এ জায়গায় আমার সচেতন হতে হবে। এবার ইউজার লেভেলের যারা আছেন তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। বর্জ্য তো আগে থেকেই ছিল, কিন্তু নতুনভাবে একটি শ্রেনী করা হয়েছে ই-বর্জ্য। এটা আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে। আমাদের প্রতিটি জায়গা থেকে ই-বর্জ্য আসছে। আমাদের ভালোভাবে বেঁচে থাকতে হলে ই-বর্জ্য নিয়ে ভালো একটি সমাধান করতে হবে। কারণ ই-বর্জ্য ফেলে দেয়ার জায়গা আসলে কোথাও নেই। ই-বর্জ্যকে আমি বর্জ্য বলতে রাজি না। এটা আমাদের সম্পদ। এ সম্পদ কাজে লাগাতে হবে।
আসাদুর জামান সাকি
ক্যান্ট্রি প্রডাক্ট ম্যানেজার
আসুস বাংলাদেশ
পরিবেশের ক্ষতি করে না এমন সার্টিফায়েড পণ্যই আমরা বিক্রি করার চেষ্টা করি। আসুস সবসময় পরিবেশ নিয়ে সচেতন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের সব পণ্যকে কার্বন নিউট্রাল করার চেষ্টা করছি। কার্বন নিউট্রাল হলো এ পণ্যগুলো থেকে কোনো কার্বন নিঃসরণ হবে না বা হলে সেটা আমরা মিনিমাইজ করে ফেলতে পারব এবং একই সঙ্গে আমরা ই-বর্জ্য নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করছি। এখন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। এখানে কিছু আইনের বিষয় আছে, সরকারের সঙ্গে কিছু বিষয় আছে। আজকের এই গোলটেবিলের বড় সার্থকতা হলো আমরা সব সেক্টরের মানুষকে একসঙ্গে পেয়েছি। সবাই কিন্তু একমত ই-বর্জ্য নিয়ে কাজ করার অনেক জায়গা আছে। আমরা যত তাড়াতাড়ি ই-বর্জ্য নিয়ে আইনের বিষয়ে কঠোর হতে পারি সেটাই আমাদের জন্য ভালো।
শাহীন মোল্লা
হেড অব সেলস
ইউসিসি
আমরা যেসব পণ্য বিক্রি করি সে পণ্যগুলোর তিন থেকে পাঁচ বছর ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকি। আমরা শুধু লাভের জন্য ব্যবসা করি না। ক্রেতারা যেন পণ্য শতভাগ ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য ওয়ারেন্টি বেশি সময়ের জন্য দিয়ে থাকি। প্রতি মাসে যে পরিমাণ ই-বর্জ্য দেশের বাজারে আসে সেগুলোয় কোনো ওয়ারেন্টি থাকে না বা দেয়ার সুযোগ থাকে না। আমরা চাই, ক্রেতারা ই-বর্জ্যের বিষয়ে সচেতন হোক এবং দেশ মারাত্মক পরিবেশ হুমকি থেকে রক্ষা পাক।
সাব্বিন হাসান
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)
ই-বর্জ্য ঝুঁকি থেকে বাংলাদেশকে স্মার্ট হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারত্বে কালবিলম্ব না করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আজকের এ বৈঠকের পরামর্শ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে বিআইজেএফ আগামীতে স্মার্ট সংবাদিকতায় ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশা করছি। আজকের এই গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
সভা সঞ্চালনা করেন
সাফকাত হায়দার
এক্সিকিউটিভ কমিটি মেম্বার, সার্ক সিসিআই (বাংলাদেশ)
সুপারিশ
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি
ই-বর্জ্য কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং তার ক্ষতিকর দিকগুলো এবং কীভাবে এর ব্যবস্থাপনা করা যায় সেই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব খাতকেই এগিয়ে আসতে হবে এবং একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ই-বর্জ্য সংক্রান্ত পরিবেশ আইনগুলোর প্রায়োগিক বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১-এর ধারা ১৫-এর আওতায় কোন কোন ব্যবহৃত ই-বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ তা নির্দিষ্টকরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যথায় এর ব্যবহারিক প্রয়োগ ব্যাহত হবে।
বিদেশের পরিত্যক্ত ই-বর্জ্য দেশে প্রবেশ করিয়ে কোনোভাবেই যেন বাংলাদেশকে কেউ ই-বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
রিফারবিশড এবং ব্যবহৃত পণ্য আমদানির বিষয়টিতে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে
পরীক্ষামূলকভাবে ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং প্রকল্প চালু করতে হবে
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও আইন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে
ই-বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার বিষয়টিতে মনোযোগী হতে হবে এবং এক্ষেত্রে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে
ই-বর্জ্য তথা ইলেকট্রনিক পণ্য এক্ষেত্রে স্মার্টফোন কম্পিউটারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যকে সঠিক পদ্ধতিতে রিসাইক্লিং করতে হবে। এক্ষেত্রে পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্মার্ট ডিভাইস বিক্রেতাদের নিজেদের পণ্য লাইফসাইকেলের মাধ্যমে ফেরত নিতে হবে।
অবৈধ পথে বা বিকল্প চ্যানেলে আসা স্মার্ট ডিভাইস ক্রয়-বিক্রয় ও বিপণনে কঠোরতা নিশ্চিত করতে হবে।
অসাধু চক্রকে যথাযথ আইনের মাধ্যমে সতর্ক করতে হবে। যাতে ই-বর্জ্য ভয়ংকর রূপ ধারণ না করে।
ডিজিটাল পণ্য ক্রয়ে ক্রেতাদের বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিতে জিজ্ঞাসা থাকতে হবে।
ই-পণ্য বিক্রেতাদের পণ্য ফেরত প্রক্রিয়াকে আরো জনপ্রিয় ও প্রচারণামূলক করতে হবে।
নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ই-পণ্য বিক্রিতে ক্রেতার বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিতে তাগিদ থাকতে হবে।
যারা অংশ নিয়েছেন
রেজাউল করিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ
অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তার হোসেন, ডিন, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ, কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
সাফকাত হায়দার, এক্সিকিউটিভ কমিটি মেম্বার, সার্ক সিসিআই
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন, পরিচালক, লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)
মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, উপপরিচালক (ঢাকা বিভাগ)
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি)
ব্যারিস্টার নাজমুস সালেহীন, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
সাঈদ আলী, উপসচিব, কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
মো. মাহফুজুল আলম, উপপরিচালক, স্পেকট্রাম বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)
অধ্যাপক লাফিফা জামাল, রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রওশন মমতাজ, পরিচালক, সিআরএম ও অধ্যাপক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বুয়েট
আবদুল ফাত্তাহ, চেয়্যারম্যান, গ্লোবাল ব্র্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড
মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড
শহীদ-উল মুনির, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি
কৌশিক জানা, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার (ভোক্তা পিএস), এইচপি বাংলাদেশ
আতিকুর রহমান, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ডেল বাংলাদেশ
এম এ হোসেন জুয়েল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জেআর রিসাইক্লিং সলিউশন
সুমন রায়, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক ব্যবসা), লেনোভো ইন্ডিয়া
নাজনীন নাহার, সভাপতি, বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)
সাব্বিন হাসান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)
মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন, পরিচালক, স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড
সমীর কুমার দাস, মহাব্যবস্থাপক, গ্লোবাল ব্র্যান্ড প্রাইভেট লি.
আসাদুর জামান সাকি, ক্যান্ট্রি প্রডাক্ট ম্যানেজার, আসুস বাংলাদেশ
শাহীন মোল্লা, হেড অব সেলস, ইউসিসি






