গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) বাংলাদেশ, হারভেস্ট প্লাস, বিজনেস ইন্টেলিজেন্স ও বণিক বার্তার যৌথ উদ্যোগে ৮ জানুয়ারি ‘বায়োফর্টিফায়েড জিঙ্কসমৃদ্ধ ব্রি ধানের বাজার সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ’ শীর্ষক একটি  গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচকদের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে এ ক্রোড়পত্র 

ড. আশেক মাহফুজ

পোর্টফোলিও লিড

গেইন, বাংলাদেশ

গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন একটি সুইস ফাউন্ডেশন, যা ২০০২ সালে সৃষ্টি এবং মানুষের অপুষ্টিজনিত সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে সরকার, প্রাইভেট সেক্টর ও এনজিওর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো খাদ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সবার, বিশেষ করে ভালনারেবল গ্রুপের, পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। ন্যাশনাল মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট সার্ভে ২০১৯-২০-এর ফলাফল অনুযায়ী বাংলাদেশে এখনো অপুষ্টিজনিত সমস্যা রয়েছে। এসব অপুষ্টিজনিত সমস্যার মধ্যে জিঙ্ক স্বল্পতা উল্লেখযোগ্য, যা প্রায় ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরিলক্ষিত হয় অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ এখনো জিঙ্ক স্বল্পতায় ভুগছে। সমস্যা সমাধানে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের কথা আমরা বলছি, কারণ জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল এ ঘাটতি দূর করার একটা বড় মাধ্যম হতে পারে। জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের যে জাতগুলো উদ্ভাবন করা হয়েছে, তা খরা প্রতিরোধী এবং চাষে তুলনামূলকভাবে সময় কম লাগে। ২০১৮ সাল থেকে গেইন ও হারভেস্ট প্লাস গ্লোবাল পার্টনারশিপের মাধ্যমে কমার্শিয়ালাইজেশন অব বায়োফর্টিফায়েড ক্রপস (সিবিসি) প্রজেক্টের মাধ্যমে জিংক স্বল্পতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বায়োফর্টিফায়েড ক্রপসের উদ্ভাবন, প্রচার ও প্রসারের কাজ করছে। বাংলাদেশে সিবিসি প্রজেক্ট বর্তমানে কাজ করছে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান ও চাল নিয়ে। বাংলাদেশে সিবিসি প্রজেক্টের মূল বিষয়বস্তু হলো বায়োফর্টিফায়েড ক্রপস, বিশেষত জিঙ্কসমৃদ্ধ চালের উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায় এবং সরকারি ও প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে বাণিজ্যিকীকরণে কীভাবে আমরা কাজ করতে পারি? সিবিসি প্রজেক্টে সহায়তা দিচ্ছে মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অব দ্য নেদারল্যান্ডস, নেদারল্যান্ডস সরকার এবং ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব জার্মানি (জিআইজেড)।

শাকিব কোরেশী

সিইও, বিজনেস ইন্টেলিজেন্স

সারা দেশেই কম-বেশি ব্রি ধান ৭৪ ও ব্রি ধান ৮৪ গত মৌসুমে চাষ হচ্ছে। মূলত গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও দক্ষিণবঙ্গের ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের চাষ বেশি হচ্ছে। প্রতি বছরই আগের বছরের তুলনায় বেশি পরিমাণে চাষ হয়েছে এবং চাষীদের কাছেও জনপ্রিয়তা বেড়েছে। আমাদের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে ইউএন ফুড সিস্টেমে ন্যাশনাল পাথওয়ে ডকুমেন্ট, ইউএন ফুড সিস্টেম সামিটসহ অন্যান্য সরকারি নীতির সবগুলোতেই নিউট্রিশন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে এবং আমরা ধীরে ধীরে খাদ্যনিরাপত্তা তথা পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছি। এর জন্য সরকারের উদ্যোগ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা প্রয়োজন। খাদ্য মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা মন্ত্রণালয়, ডিফেন্স ইনস্টিটিউট হয়তো সরাসরি চাল কেনে না, কিন্তু পরোক্ষভাবে কেনে। প্রাইভেট সেক্টরে চা বাগান, বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা বা কর্ণফুলী ইপিজেডের মতো অন্য ইপিজেডগুলোর বড় চালের দোকান, যেখান থেকে শ্রমিকরা চাল কেনেন, সেখানে জিঙ্ক চাল রাখা যেতে পারে। রোহিঙ্গাদের জন্য যে খাদ্য বিপণন ব্যবস্থা রয়েছে সেখানেও জিঙ্ক চাল সংযুক্ত করা যেতে পারে। এছাড়া বড় মাদ্রাসা, হাসপাতালও প্রতিদিন বেশি পরিমাণে চাল কেনে; সেখানেও জিঙ্ক চালের প্রসার বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু সরবরাহ কম। যথেষ্ট পরিমাণ জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের বীজ এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। মিলার বা পাইকারি পর্যায়ে এখনো যথেষ্ট চাহিদা তৈরি হয়নি। ফলে জিঙ্কসমৃদ্ধ চালের আলাদা কোনো বাজারমূল্যও নেই, যা বাজারজাতের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।


ড. নাজমা শাহীন

অধ্যাপক, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল আমাদের ফুড কম্পোজিশনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্রি ধান ২৮ চালের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম চালে জিঙ্কের মাত্রা মাত্র ১.৩২ মিলিগ্রাম। জিঙ্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এটি গ্রোথ, ইমিউনিটি, কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রভৃতির জন্য প্রয়োজন হয়। আমাদের সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফলাফলে প্রি-স্কুল চিলড্রেনের মধ্যে জিংকের ঘাটতি লক্ষ করা গেছে। আমরা দেখেছি পলিশিংয়ে মাত্র ১০ শতাংশ জিংক বজায় থাকে। রাইস ব্র্যান অয়েলে প্রতি ১০০ গ্রামে ৭ মিলিগ্রাম জিঙ্ক থাকছে। কস্ট বেনিফিট অ্যানালাইসিসে সেই জায়গাটা বিবেচনায় নেয়া জরুরি। আরেকটা হচ্ছে রাইসের নিউট্রিয়েন্ট অনেক থাকলেও সেখানে বায়োঅ্যাভাইলেবিলিটির একটা প্রশ্ন চলে আসে। ফাইটেড কন্টেন্ট যদি বেশি থাকে তাহলে জিঙ্কের বায়োঅ্যাভাইলেবিলিটি কম হবে। আরেকটা হচ্ছে কুকিং অ্যাফেক্ট। আমরা ভাতের যে মাড় ফেলে দিই সেখানে কতটুকু জিংক ও অন্যান্য পুষ্টি চলে যাচ্ছে, তাও দেখতে হবে। আমার পরামর্শ থাকবে আগে উৎপাদন বাড়াতে হবে। সরকার বাজার থেকে এ চাল কিনে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে এটি ব্যবহার করতে পারে। পাবলিক প্রকিউরমেন্টের মাধ্যমে ভালনারেবল গ্রুপের কাছে পৌঁছানোই প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আনোয়ার ফারুক

সাবেক সচিব

কৃষি মন্ত্রণালয়

চাহিদা ও জোগানের মধ্যে অবশ্যই একটা ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। যেমন বীজের ক্ষেত্রে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বীজ উৎপাদন করতে পারছে না, বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। ধান বা চাল অথবা বীজ পর্যাপ্ত করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। জাতগুলোকে জনপ্রিয়করণও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। মাল্টিপ্লিকেশন অব সিডসও আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ। পাবলিক সেক্টরের সঙ্গে সঙ্গে প্রাইভেট সেক্টরকে সম্পৃক্ত করে চ্যালেঞ্জগুলো মেটাতে হবে। বায়োফর্টিফিকেশন সম্পর্কে মানুষের ধারণা কম থাকার কারণে এর গুণগত ও পুষ্টিমান নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে। বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে এ ধারণাগুলোকে মোকাবেলা করা দরকার এবং ব্যাখ্যা দেয়া দরকার। আমরা যে ২৭ বা ২৪ মিলিগ্রাম জিঙ্কের কথা বলছি এটা আসলেই চালে কতটুকু, কতদিন ও কী পর্যায়ে থাকে তা নিয়ে বিশদ গবেষণা হওয়া দরকার। এসব বিষয় বিবেচনায় প্রথমে সুপারিশ হলো বিএডিসি, ডিএই, প্রাইভেট সেক্টরসহ যারা বীজ উৎপাদন করে তাদের নিয়ে একটা অ্যাকশন প্ল্যান থাকা দরকার। প্রাইভেট সেক্টরের ক্ষেত্রে এ কাজকে আমরা সহযোগিতা বা বাধ্য করে দিতে পারি। দ্বিতীয় হলো সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচিতে যে বীজ দেয়া হয় সেখানে জিঙ্কসমৃদ্ধ বীজগুলো বিতরণ করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে ধানের নতুন যেসব জাত উদ্ভাবন করা হবে সেখানে জিঙ্কের পরিমাণ উল্লেখপূর্বক জিঙ্ককে প্রাধিকার দেয়া উচিত। সরকার প্রতি বছর কৃষক ও বাজারের মাধ্যমে যে ধান ও চাল কেনে, সেখানেও জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল কেনাকে প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে।

ড. মো. শাহজাহান কবীর

মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিডঁফঁ

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এখন পর্যন্ত ছয়টি জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া যত ধান আমরা উদ্ভাবন করেছি সব ধানেই কম-বেশি জিঙ্ক আছে। কোনো ধানেই জিঙ্কের পরিমাণ ১১ পিপিএমের নিচে নয়। যেসব ধানে ২০ মিলিগ্রামের ওপরে বা ২৪-২৫ মিলিগ্রামের ওপরে জিঙ্ক রয়েছে, সেগুলোকে আমরা জিঙ্ক ধান বলছি। সেগুলো হলো ব্রি ধান৬৪, ৭৪, ৮৪ ও ১০০। এই জাতগুলো বাজারজাত করা হচ্ছে। আজ আলোচনা হচ্ছে ব্রি ধান ৭৪ ও ৮৪ নিয়ে। আমরা বীজ উৎপাদন করছি। সম্প্রতি আমরা ব্রি ধান ১০০ জাতটি উদ্ভাবন করেছি। পুষ্টিগুণ বিবেচনায় যেহেতু ৭৪ ব্রি ধানের ফলন অনেক বেশি, ১০০-এর ফলন বেশি, ৮৪-এর ফলন বেশি। ব্রি ধান ২৮-এর পরিবর্তে আমরা ব্রি ধান ৮৪ চাষ করতে পারি। কারণ ২৮-এর চেয়ে ৮৪-এর ফলন বেশি। আর ২৯-এর পরিবর্তে ব্রি ধান ১০০ চাষ করি, তাহলে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব। চালের বাজারমূল্য যদি বেড়ে যায়, তাহলে নিম্ন আয়ের মানুষ বিপদে পড়বে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে আমরা সস্তায় মানুষকে চাল খাওয়াব। জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল মিলিং, প্রসেসিং, রান্না থেকে শুরু করে সবকিছুতে কত ঘাটতি হয়, তা নিয়ে একটি গবেষণা হয়েছে। বলা হচ্ছে রান্নার সময় চালের ১১ শতাংশ জিঙ্ক নষ্ট হয়। মিলিং করতে কমপক্ষে ৩৫-৪০ টন ধান লাগে। কিন্তু ৩৫-৪০ টন জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান আমরা একসঙ্গে পাচ্ছি না। যার জন্য অনেক সময় আমাদের একই রকম ধান মিক্স করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন নিয়ে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।


মোহাম্মদ ইউসুফ

সাবেক মহাপরিচালক

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর

বাংলাদেশ সরকার পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আরো যে নীতিগুলো আছে তার সবগুলোতেই পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন দরকার অ্যাকশন প্ল্যান। এক্ষেত্রে উৎপাদন কত হবে তা নির্ভর করবে আমার কী পরিমাণ চাহিদা আছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, যেমন আর্মি, পুলিশ, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম প্রভৃতির মাধ্যমে সরকার জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল দিতে পারে। যদি চাহিদা ঠিক করা যায় এবং তার ভিত্তিতে ডিএইকে বলা হয় যে এই পরিমাণ চাল উৎপাদন করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখতে, তাহলে সুফল মিলবে। আবার সেই চালটা উৎপাদন করতে গেলে কী পরিমাণ বীজ লাগবে। সেই বীজটা আবার বিএডিসির মাধ্যমে বা অন্যান্য প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। দাম বেশি হলে মানুষ জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল কিনতে নিরুৎসাহিত হবে।


আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ

অতিরিক্ত সচিব

কৃষি মন্ত্রণালয়

প্রেজেন্টেশনে চারটি জেলার তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে ভোলায় জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল বেশি উৎপাদন হয়েছে। সরকারি চাল ক্রয়ের নীতির মাধ্যমে ভোলা জেলা থেকে যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল কেনা যায় তাহলে চাহিদাও মিটবে, একই সঙ্গে কৃষক দামও পাবে। এ চাল অন্যান্য জেলায় বিতরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে মিলাররাও তাদের নিজস্ব কায়দায় উৎপাদন করতে পারে। তাতে সিড সরবরাহ, উৎপাদন ও চাহিদাও বাড়বে।




ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেয্ওয়ান

ডিজি, সেনা কল্যাণ সংস্থা

সেনাবাহিনী হিসেবে না, সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে যদি আমাদের ব্যবহার করতে চান, আমরা একটা বড় মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট হিসেবে আপনাদের জন্য কাজ করতে পারি। আলোচনায় এটুকু স্পষ্ট যে ফুড ডিপার্টমেন্ট থেকে সেনাসদস্য হিসেবে বা আনসার সদস্য হিসেবে যে চাল পেয়ে থাকি সেখানে জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল পৌঁছে না। যদি না পৌঁছায় তাহলে এর সুবিধা আমরা পাব না। আমাদের সৈনিকরা গ্রাম থেকে উঠে আসে। তাদের কাছেও আমরা এ বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারি। তারা নিজ গ্রাম তো বটে, আশপাশের গ্রামগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। এটা আমাদের সব থেকে বড় শক্তি। আমরা সৈনিকদের মাধ্যমে একদম গ্রাম পর্যন্ত প্রচারের জন্য চলে যেতে পারি। এটার জন্য মূলত দরকার হবে পর্যাপ্ত সরবরাহ।




ড. রুহুল আমিন তালুকদার

অতিরিক্ত সচিব

কৃষি মন্ত্রণালয়

সরকারের একটা অন্যতম উদ্যোগ দেশের মানুষের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টজনিত অপুষ্টি দূর করার জন্য ফর্টিফিকেশন। ফর্টিফিকেশন দুই ধরনের হয়। একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফর্টিফিকেশন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এর কিছু কার্যক্রম আমরা দেখছি বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। এর সঙ্গে সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বায়োফর্টিফিকেশনের উদ্যোগ রয়েছে। আমাদের যারা গবেষক তাদের প্রতি অসংখ্য শ্রদ্ধা, তারা এ ধরনের ধান উৎপাদন করছেন এবং এটা মাঠ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। মানুষের পছন্দ বদলাতে সময় লাগবে। এটার মাঝে অন্য রকমের কোনো স্বাদ বা গন্ধ নেই, যা দিয়ে এ চাল মানুষের মাঝে জনপ্রিয় করা যাবে। আলোচনায় যে বিষয়গুলো এসেছে, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে যে উদ্যোগগুলো এসেছে তাকে মাল্টিপ্লাই করা যেতে পারে। এটা মাল্টিপ্লাই করার জন্য, বীজের বিষয় আছে, কৃষকদের কাছে আরো জনপ্রিয় করার বিষয় আছে। কৃষি সম্প্রসারণকর্মীরা অবশ্যই এ উদ্যোগ নেবেন। চাহিদা সম্প্রসারিত হতে হবে। ডিমান্ড লেড সাপ্লাই খুবই দরকার।


ড. এম আসাদুজ্জামান

সাবেক গবেষণা পরিচালক

বিআইডিএস

যদি পুষ্টির আঙ্গিকে পুরো জিনিসটা দেখা হয়, তাহলে জিঙ্কের উৎস শুধু ধান নয়, জিঙ্কের বহু উৎস আছে। এক্ষেত্রে জিঙ্কের সরবরাহ বাড়াতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো ধানের বাজার ও চালের বাজার এক নয়। লক্ষ কোটি কৃষক ধানের বাজারে আছেন। সেখানে গুটিকয়েক রাইস মিল চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে। চালের বাজারে যদি আসি তাহলে দেখব, এখানে জোগানদাতা কয়েকটি রাইস মিলার। কিন্তু ভোক্তা কোটি কোটি। সুতরাং দুটোর প্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা। সব জায়গায়ই অল্প অল্প করে ব্রি ধান ৭৪ চাষ হচ্ছে। এটাই হচ্ছে সমস্যা। ছোট ছোট কৃষক যদি অল্প পরিসরে চাষ করেন, তাহলে তা একত্র করে অটো রাইস মিলে দেয়া সম্ভব নয়। আর যে প্রশ্ন উঠল ৩৫-৩৬ টন ধান একসঙ্গে না পেলে মিলাররা সেটি প্রসেস করতে পারবেন না। এ সমস্যা পুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত না। এটা মার্কেটিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এজন্য কো-অর্ডিনেশনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া দরকার। পলিসি লেভেলে কাজ হলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না। এজন্য প্রস্তাব থাকবে, বিষয়টিকে পুষ্টির আঙ্গিক থেকে দেখার।


অনুপ কুমার সাহা

প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা

নাবিল গ্রুপ

পুরো বিষয়টিকে সরবরাহের দিক থেকে দেখা হচ্ছে, চাহিদার দিক থেকে নয়। আমরা যে চালটা জনপ্রিয় করার চেষ্ট করছি, সেখানে একটা উইন উইন সিচুয়েশন তৈরি করতে হবে। আমরা জিঙ্কসমৃদ্ধ চালটাকে আসলে কোথায় ব্যবহার করতে চাই, কোন ভোক্তা সেগমেন্টের জন্য জনপ্রিয় করতে চাই, এর উত্তর পাওয়া জরুরি। সে প্রক্রিয়ায় মিলারদেরও লাভ থাকতে হবে, কনজিউমারদেরও লাভ থাকতে হবে। সে তার প্রচলিত ভ্যারাইটির বিনিময়ে এটা কেন খাবে? ভাত খায় মানুষ স্বাদ ও স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে। নাবিল গ্রুপ রাজি আছে যদি কোনো ট্রায়াল করতে হয়। আমরা ২৩ টন পর্যন্ত প্রসেস করতে পারি। রাজশাহী আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক রয়েছে। যদি ২৩ টন পর্যন্ত ধান আমাদের দেয়া হয়, তাহলে আমরা বিনা খরচে এটার প্রসেসিং ও মার্কেটিংয়ে সহায়তা করব। আর ব্র্যান্ডিং নিয়ে কথা বলছি। ব্র্যান্ডিং সর্বদাই ব্যয়বহুল। এক হলো উৎপাদন খরচ কমানো গেলে কৃষক নিজের প্রয়োজনে এটা চাষ করবেন। আর ভোক্তা এ চাল খেয়ে ভালো বোধ করলে তারা কিনবেন। এই দুইয়ের সমন্বয় প্রয়োজন।


ডা. এসএম মুস্তাফিজুর রহমান

লাইন ডিরেক্টর, ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিস

জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। গর্ভবতী অবস্থায় এটা খেলে বাচ্চার পুষ্টিগত উন্নতি ভালো হয়। আমাদের অনেকগুলো সোর্স আছে। মিল্ক সোর্স আছে। বাদামের সোর্স আছে। ফলের সোর্স আছে। তাহলে আমরা কি ধানের ক্ষেত্রে যাব না? অবশ্যই যাব। আমরা সাধারণত একটা ভালো কাজ করলে সেটা ফর্টিফিকেশন করি। ডায়েটের বৈচিত্র্য চিন্তা করি। ব্যালান্সড ডায়েট চিন্তা করি। অভাব হলে সাপ্লিমেন্ট দিই। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন পুষ্টি-সংক্রান্ত সমস্যার কথা মাথায় রেখেই মডিফায়েড খাদ্যাভ্যাস আমরা করি। বাংলাদেশে যে কয়টি অপুষ্টি বিদ্যমান তার একটি হচ্ছে আন্ডার নিউট্রিশন। যেটা অপর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। আরেকটি হচ্ছে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ডেফিশিয়েন্সি। আমরা এতক্ষণ যা আলোচনা করছি, জিঙ্কের ঘাটতি। এটা বাংলাদেশে পুষ্টির একটা অন্যতম ঘাটতি। এ সমস্যা সমাধানে জিঙ্কসমৃদ্ধ চালের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে মিডিয়াকে ভূমিকা পালন করতে হবে।



ড. সুরজিত সাহা রায়

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা

কৃষি তথ্য সার্ভিস

ব্রি ধান ৮৪ এবং বিনাধান ২০ দুটোই লাল চাল। লাল চালের কারণে কৃষকদের কাছ থেকে মিলাররা ধান নিচ্ছেন না। মার্কেটিং করতে সমস্যা হচ্ছে। যদিও লাল চালের মার্কেট বা চাহিদা ব্যাপক। বিশেষ করে স্বপ্ন, আগোরায় লাল চাল বেশ দামে বিক্রি হয়। কিন্তু ধান ও চালগুলো লাল হওয়ার কারণে মিলাররা নিচ্ছেন না। কেন নিচ্ছেন না, এটা একটু চিন্তার বিষয়। লাল চালটা কী করে আমরা বাজারে আনতে পারি তা নিয়ে মিলারদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য হলো একটা সাইকেল চালাতে তাদের প্রায় ৭০০ টনের মতো ধান লাগে। এত ধান হয়তো পাওয়া যাবে না। কিন্তু ছোট ছোট রাইস মিল ও হাস্কিং মিলগুলোকে আমরা কাজে লাগাতে পারি, তাহলে স্বল্প পরিসরে চাল করা যাবে। আরেকটা বিষয় হলো চালের বস্তায় ধানের জাতের নাম লিখলে ভালো হয়। তবে সমস্যা হলো জাত চিহ্নিত করা। ১০৬টি জাত আবিষ্কার করে ফেলেছে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। এতগুলো জাত নিয়ে আমাদের সম্প্রসারণকর্মীরাই হিমশিম খান। আমাদের অল্প কয়েকটা ধানের জাত নিয়ে কাজ করা দরকার। এতগুলো জাত নিয়ে আসলে কাজ করাটা খুবই কঠিন।


ড. আবুল কালাম আযাদ

সাবেক মহাপরিচালক বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)

বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার অত্যন্ত সিনিয়রদের একটা সংগঠন। যারা সম্প্রতি একটা উদ্যোগ নিয়েছে যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে। সেখানে আমরা ২১টি মডিউল তৈরি করেছি, যাদের মধ্যে ধানের বায়োফর্টিফায়েডও আছে। আমরা এ প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ে করব। এটা একটা ভালো উদ্যোগ। অন্যান্য আরো অনেক ইমার্জিং ইস্যু আছে আমাদের মডিউলের মধ্যে। শুধু ধান নয়, অন্যান্য পণ্যেও জিঙ্ক আছে। যেগুলো আমরা ব্যবহার করতে পারি। সেটা একটা ভালো উদ্যোগ হবে। প্রশ্ন হলো, যে জাতটা জনপ্রিয় হয়নি, সেটি জনপ্রিয় করব নাকি যে জাতটা জনপ্রিয় সেটাকে ফর্টিফায়েড করব। এটা কিন্তু খুব জরুরি একটা ইস্যু। জিঙ্কসমৃদ্ধ জাতটা জনপ্রিয় করার জন্য আমাদের বিভিন্ন উদ্যোগকে পর্যাপ্ত মনে করছি না। বিষয়টি নিয়ে যতগুলো আলোচনা হয়েছে, সবগুলোই কেস স্টাডির মতো। এটার কয়েকটা সিস্টেমেটিক স্টাডি হওয়া দরকার।



ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম

অধ্যাপক, কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

যখন আমরা বাজার সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণের কথা বলি, তখন আমাদের অনেকগুলো বিষয় দেখতে হয়। অর্থনীতি, মার্কেটিং, উৎপাদন, পলিসি, পুষ্টি সব মিলেই বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে। ১৬৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার ৬৫ মিলিয়ন জিঙ্কের ঘাটতিতে রয়েছে। আমাদের টার্গেট গ্রুপ তারা। উৎপাদিত চালের প্রায় ৪ শতাংশের মতো চাল সরকারের মাধ্যম দিয়ে বাজারে যায়। বাকি যে অংশগুলো আছে অন ডিমান্ড কনজাম্পশন ৪৪ শতাংশ। ৫২ শতাংশ রিটেইলিং। যারা শহরে থাকে, বস্তিতে থাকে তারা চাল কিনে খায়। তাহলে আমাদের দুই জায়গাতেই ইন্টারভেনশন করতে হবে। একটি অন ফার্মিংয়ে। দ্বিতীয়টি রিটেইল লেভেলে। প্রচুর ক্যাম্পেইনিং করতে পারি জিঙ্ক না খেলে বা জিঙ্কের ঘাটতি হলে কী সমস্যা হতে পারে। সে কাজটা করতে হলে আমাদের অতিরিক্ত কিছু খরচ বহন করতে হবে। আমাদের দেশে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট অপুষ্টিহীনতার কারণে প্রতি বছর ৭৭০ মিলিয়ন ডলার জিডিপি লস হয়। তার চেয়ে কম টাকা বিনিয়োগ করে আমরা যদি এটি রিকভার করতে পারি তাহলে আমাদের ইকোনমিক গেইন হবে।



মাহতাব উদ্দিন

প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা প্রাণ এগ্রোবিজনেস লিমিটেড

যেকোনো অপরিচিত ফসল সম্প্রসারণ করতে হলে আমাদের প্রয়োজন বাই ব্যাক গ্যারান্টি। কৃষককে যদি আমরা বাই ব্যাক গ্যারান্টি দিতে না পারি তাহলে কোনো ফসলই সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে না। আমাদের সংগঠিত কন্ট্রাক্ট ফার্মার আছে, মিলিং সেন্টার আছে, রাইস মিল আছে, মিডিয়া আছে—সর্বস্তরে আমদের কাজ করতে হবে। আমরা জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল সম্প্রসারণে কাজ করব। আমরা কৃষককে বীজ থেকে শুরু করে কৃষি উপকরণ সবকিছু দেব। পাশাপাশি আমরা কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয় করে আমাদের নিজস্ব মিলে মিলিং করে দেশ ও বিশ্ববাজারে ব্র্যান্ডিং করে এটা সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হব। আর একটা বিষয়, আমরা কৃষককে আর্থিক সাহায্য দিচ্ছি। আমরা কৃষককে সুদবিহীন অ্যাডভান্স ঋণ দিচ্ছি, জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের ক্ষেত্রে আমরা এটি করতে পারি, যাতে কৃষকরা জিঙ্ক ধান উৎপাদন করতে উদ্বুদ্ধ হন।



একেএম নুরুল আফসার

সাবেক মহাপরিচালক

খাদ্য অধিদপ্তর

আমাদের দেশে এখন চোখের ক্ষুধা মেটানোর জন্য মিলিং করা হচ্ছে। আপনি যদি সায়েন্টিফিক্যালি দেখেন, ধানটাকে যখন খোলা হয়, ভাঁজটা সরানো হয়, তার নিচে ব্রাউন লেয়ারটা থাকে, সেটাই পুষ্টিসমৃদ্ধ। আগে আমরা ঢেঁকি ছাঁটা চাল খেতাম। তখন কিন্তু পুষ্টির এত অভাব ছিল না। এখন বাজারে সাদা ও ছোট চালের চাহিদা তৈরি হয়েছে। অটোমেটিক রাইস মিলগুলো এখন চাল কাটিং ও পলিশ করে। এতে চালের ৭০ শতাংশ পুষ্টিমান নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের মিলিং একদিনে বন্ধ করা যাবে না। তবে বন্ধ করতে হবে। ব্রি ধান ৭৪ সরকার কিনতে পারবে। কিন্তু ব্রি ধান ৮৪ কিনতে পারবে না। ৮৪-এর বাজারজাতের জন্য ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হবে। এক্ষেত্রে মার্কেটিংয়ে যারা আছে, প্রাণ, এসিআই ইত্যাদি তারা ব্র্যান্ডিং করতে পারে। অনুরূপভাবে জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা যেতে পারে।



মো. আব্দুল ওয়াদুদ

নির্বাহী পরিচালক  বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট

মানুষ প্রতিদিন ৩৭০ গ্রামেরও বেশি ভাত খায়। ভাত খায় না এ রকম লোক এ দেশে নেই। এজন্য জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল জনপ্রিয় করার দরকার আছে। চালের সব জাতেই কম-বেশি জিঙ্ক আছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু জাতে জিঙ্ক বেশি আছে। বরিশালে মানুষ এটা খাচ্ছে। তাহলে এটা অন্য জায়গায় জনপ্রিয় করতে সমস্যা নেই। সে কাজটাই করতে হবে। মিনিকেট চালের জন্য আমাদের এ রকম গোলটেবিল আলোচনার দরকার হয়নি। বাজারে গেলে মিনিকেট চাল পাওয়া গেছে। একটা টার্ম আছে অ্যাগ্রেসিভ মার্কেটিং। মিনিকেট অ্যাগ্রেসিভ মার্কেটিংয়ের উদাহরণ। অথচ মিনিকেটের কোনো জাত নেই। এটা একটা ব্র্যান্ড হিসেবে বাজারে চলে আসছে। তাহলে আমাদের জিঙ্ক রাইস নামে বাজারে নতুন ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে।




মো. কবিরুল হাসান

ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন

গত বছর ব্রি ধান ৭৪-এর ৯০২ টন বীজ উৎপাদিত হয়েছে। এ বছর আমাদের টার্গেট ২১০০ টন বীজ উৎপাদনের। ব্রি ধান ৮৪-এর ৫০০ টন এবং বঙ্গবন্ধু ধান ১০০-এর ১,০১৬ টন বীজ আবাদের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি আমরা সফল হতে পারব। জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের বীজ ৩,৬১৬ টন আবাদে চলে গেছি আমরা। বিএডিসি গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে যে জাতগুলো পায় সেটাই তারা নিজস্ব খামারে মাল্টিপ্লাই করে সিড প্রমোশন কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে এবং পরবর্তী বছরে সেটা প্রত্যায়িত বা মান ঘোষিত বীজ হিসেবে ডিলারের মাধ্যমে সাধারণ চাষীদের কাছে চলে যায়। ব্রি ধান ৭৪-এর চালটা একটু মোটা এবং বঙ্গবন্ধু ধান ১০০-এর চাল চিকন। ফলে বঙ্গবন্ধু ১০০ ধানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অধিকাংশ স্থানেই আমাদের সিড প্রসেসিং, প্রিজারভেশন সেন্টার আছে, সেখানে যে কেউ ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে যেকোনো কোম্পানি যদি বীজগুলো গ্রেডিং বা প্রিজারভেশন অথবা প্যাকিং অথবা আমাদের ওখানে স্টোর করতে চায়, সে সুযোগ রয়েছে।



ডা. মো. তাহেরুল ইসলাম খান

পরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ

জিঙ্কের অভাব দূর করার জন্য আমরা আমাদের পলিসির কথা বলি। শুধু জিঙ্ক না, যত প্রকার মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি রয়েছে সেগুলো দূর করতে হবে। চালের মাধ্যমে জিঙ্ক বায়োফর্টিফিকেশন করার বিষয়টি এ আলোচনা থেকে বুঝতে পারলাম। এটি জনপ্রিয় করা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সফল করতে হবে। ২০১২ সালের পর থেকে ফর্টিফায়েড রাইস বিতরণ চলছে, বর্তমানে ১৪০টি উপজেলায় ফর্টিফায়েড রাইসের মাধ্যমে ছয়টি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট দেয়া হচ্ছে, সেখানেও জিঙ্ক আছে। সেক্ষেত্রে কিন্তু বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল ভালো হতে পারে। জিঙ্কসমৃদ্ধ চালের দাম কত হবে, সব মানুষের এটি কেনার সামর্থ্য আছে কিনা, খেতে কেমন হবে ইত্যাদি বিষয় আছে। কাজেই এটার জন্য প্রচারণা দরকার।





নাসের আহমেদ

নির্বাহী পরিচালক

বঙ্গ মিলারস লিমিটেড

কোনো জিনিসকে পরিবর্তন করতে চাইলে ট্র্যাডিশন থেকে বের হওয়া খুব কঠিন। এজন্য কৃষককে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে ভালো বীজ দিতে হবে। বিক্রি করা কোনো বিষয় নয়। প্রডাকশনের ঝুঁকিটা অনেক বেশি। কারণ মানুষ আগ্রহী হচ্ছে না, তাদের আগ্রহী করতে হবে। যদি এ চালের মান আর স্বাদ ভালো হয়, তাহলে গ্রাহকরা অটোমেটিক্যালি আকৃষ্ট হবে।

 



ডা. এবিএম মসিউল আলম

উপপরিচালক

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান

মানুষের জিঙ্ক বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি পূরণে ব্যাপক নীতি গ্রহণ করতে হবে। প্রচারের জন্য মিডিয়া ভূমিকা রাখতে পারে, যেমন বণিক বার্তা আজকের আয়োজন করেছে। বিভিন্ন ধরনের ক্যাম্পেইন ধানের বাজারজাতের জন্য দরকার। আমাদের পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের অনেক প্রোগ্রামে আমরা স্কুল গোয়িং স্টুডেন্টদের সম্পৃক্ত করেছি। আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা স্কুল গোয়িং স্টুডেন্টদের কাছে যান, কারণ তারা যেকোনো বার্তা তাদের পরিবারকে পৌঁছে দেয়। এটা করা গেলে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধান শুধু ব্র্যান্ডিং বা সুপারশপে না নিয়ে পাশাপাশি লোকাল মার্কেটেও রাখতে হবে। এছাড়া সরকারের ধান-চাল সংগ্রহের মৌসুমে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান-চাল সংগ্রহকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।



এম এ মাহমুদ

অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মার্কেটিং, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড

উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এটা বাজারজাত খুব একটা কঠিন হবে না। আমরা যারা আছি সবাই চেষ্টা করলে জিঙ্কসমৃদ্ধ চালের বাজার সম্প্রসারণ কঠিন কিছু হবে না। তবে জোগানটি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের কোম্পানি চালের বাজারে বড় না হলেও ভবিষ্যতে এ খাতে আরো কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। আজকের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।





সামিত কুমার সরকার

সিনিয়র ম্যানেজার  বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড

আপনারা জেনে থাকবেন বাংলাদেশ এডিবল অয়েল বাংলাদেশে প্রথম ২০১২ সালে ভিটামিন এ ফর্টিফিকেশনের মাধ্যমে এডিবল অয়েল বাজারজাত করেছে। জিঙ্কসমৃদ্ধ বায়োফর্টিফায়েড চালের বাজার সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমরা আশা করছি এ উদ্যোগের সঙ্গে আমরা একত্র হব। মাঠ পর্যায়ে যদি এই ধান পাওয়া যায়, তাহলে বাজারজাত করতে আমরা সহযোগী হব।

 




ড. খায়রুল বাশার

কান্ট্রি ম্যানেজার

হারভেস্ট প্লাস

জিঙ্ক আমাদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য দরকার। সরকারসহ দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও ব্রি উদ্যোগ নিয়েছে চালের মাধ্যমে মানুষের জিঙ্কের চাহিদা মেটানোর। যাতে ভাতের ভেতর থেকেও জিঙ্ক পাওয়া যায়। হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রি থেকেই এক কেজি বীজ ধান নিয়ে মাল্টিপ্লাই করে সেটি সারা দেশে বিতরণ করেছি। বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ শুধু নামের জন্যই মানুষের মনের ভেতর চলে গেছে। কৃষকদের ৫৮ শতাংশ বলেছেন তারা উৎপাদন করেন এবং পরিভোগ করেন। আর এরপর যে পরিমাণ ধান থাকে সেটাই বিক্রি করেন। জিঙ্ক আছে এ কথা বলার জন্য জিঙ্ক রাইস হিসেবে একে চিহ্নিত করতে হবে। এর ব্র্যান্ডিং করতে গেলে জিঙ্ক শব্দটা রাখতে হবে। উৎপাদক, ভোক্তা ও মাঝের মিলারদের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে।



মো. নাসিরুজ্জামান

সাবেক সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয় ও চেয়ারম্যান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক

একটা সময় বাংলাদেশের লবণে আয়োডিন ছিল না। আয়োডিনের অভাবের কারণে মানুষের গলগণ্ড রোগ হতো। কিন্তু এখন সেটি আর দেখা যায় না। কারণ আমরা লবণের ভেতরে আয়োডিন প্রবেশ করিয়েছি। ফলে প্রত্যেক মানুষ এখন আয়োডিন পাচ্ছে। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা জিঙ্ককে বাধ্যতামূলক করব কিনা। এটা দুইভাবে করা যায় একটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফর্টিফিকেশন, অন্যটি বায়োফর্টিফিকেশন। এরই মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফর্টিফিকেশন করছে। এখন জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান যেকোনো নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়ায় না ফেললে আমরা বাজারজাত করতে পারব না। আমাদের মূল টার্গেট হচ্ছে হাইব্রিড ও স্বর্ণা যারা খায় তারা। কৃষক নতুন ধান নেবেন না, তাদের এর সুবিধা ডেমোনেস্ট্রেশন করে দেখাতে হবে। ডেমোনেস্ট্রেশন হবে একদমই বিনামূল্যে এবং এর সঙ্গে সার ও অন্যান্য উপকরণ দেয়া হবে। পরবর্তী বছর বীজ ফ্রি দেয়ার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া অ্যাডাপ্ট করাতে হবে। তৃতীয় বছর গিয়ে ডিইএ বা অন্য সংস্থাগুলো সেটা ফলোআপ করবে। প্রথমেই বাজারে বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার। কিন্তু একই সঙ্গে অঞ্চলভিত্তিক চাহিদাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জিঙ্ক চালের ব্র্যান্ডিং করতে হবে। আমরা এটাকে বলছি ব্রি ধান ৭৪, আপনি ব্রি বইয়ে জিঙ্ক রাইস লেখা দেখতে পাবেন না। এক্ষেত্রে ব্রির বইতে প্রথমে এবং গণমাধ্যমগুলোতেও জিঙ্ক রাইসের ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। যাতে মানুষ জানতে পারে বাংলাদেশে চাল আছে, যেটার নাম জিঙ্ক চাল। এরপর আসবে বাজারজাতের প্রশ্ন। সব ক্ষেত্রে বলতে হবে এটা জিঙ্ক রাইস। ভোক্তা আছে, কিন্তু সেটা কোথায় পাওয়া যাবে তা জানে না। বিএডিসির দোকানে লিখতে পারেন, এখানে জিঙ্ক রাইস পাওয়া যায়। এতে ক্রেতা তার ইচ্ছামতো বেছে নেবে। জিঙ্ক রাইস রাখার জন্য আগোরা, স্বপ্ন, মীনাবাজার—এ ধরনের দোকানগুলোর সঙ্গেও চুক্তি করতে হবে। এতে প্রথম অবস্থায় ক্রেতা পাওয়া না গেলেও আস্তে আস্তে বাড়বে। সরকারের পক্ষ থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে। ড্যাম ঢাকার বাইরেও কৃষি মার্কেট তৈরি করেছিল। কৃষি মার্কেটগুলোর দোকানে জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল পাওয়া যায়, এর প্রচার চালাতে হবে। মোটা, চিকন, মাঝারি সব ধরনের জিঙ্ক চাল রাখতে হবে। এভাবে বাজারজাত করলে ভোক্তা ও উৎপাদনকারী দুই পক্ষই লাভবান হবে। জিঙ্ক রাইস উৎপাদনের জন্য কৃষি ব্যাংক ঋণ দেবে। কৃষি ঋণের ইন্স্যুরেন্স করা যেতে পারে। অর্থাৎ কৃষক যে পরিমাণ টাকা ঋণ নেবে সে পরিমাণ ঋণের বিপরীতে যদি একটা ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম দেয় এটা কৃষকও দিতে পারে, এটা গেইনও দিতে পারে, এটি হারভেষ্ট প্লাসও দিতে পারে, তাহলে ধান নষ্ট হলেও কৃষকের ক্ষতি হবে না। এ সিস্টেমে আমরা জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানকেও জনপ্রিয় করে তুলতে পারি।

ড. শামসুল আলম

প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশ একটি নতুন পরিকল্পনার যুগে প্রবেশ করেছে ২০০৯ সালে, এ পরিকল্পনার সামনে ছিল দূর অভীষ্ট লক্ষ্য। আপনারা জানেন একটা ছিল ২০২১ আর আরেকটি হলো ২০৪১। এ পরিকল্পনাগুলো হয়েছে বাংলাদেশে একেবারে দেশজ প্রয়োজন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি বাস্তবায়নের জন্য। আমাদের ১০০ বছরের ডেল্টা প্ল্যান রয়েছেই। এ পরিকল্পনাগুলোয় মোটা দাগে যে জিনিসটাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি সেটা মানবসম্পদ উন্নয়ন। মানবসম্পদের উন্নতি ঘটাতে গেলে শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে তাকে সুস্থ রাখাও জরুরি। সুস্থ মানুষ হলেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। মানুষের উৎপাদিকা বাড়াতে হলে সুস্থ-সবল মানুষ প্রয়োজন। সেজন্যই মানবসম্পদকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সরকারের প্রণোদনা আর ইচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই। মানবসম্পদ বিবেচনা করতে গেলে সুস্থ মানুষ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের ২৮ শতাংশ খর্বাকৃতির। এ খর্বাকৃতির কারণে মানবসম্পদের যে অপচয় হচ্ছে তার পরিমাণটা একেবারে কম নয়। মূলত পুষ্টির অভাবেই বয়স অনুযায়ী মানুষ আকারে বড় হচ্ছে না। আমাদের দেশে পুষ্টির অভাব শুধু একটি শ্রেণীতে আবদ্ধ এমন কিন্তু নয়। উচ্চ শ্রেণীর মানুষের মধ্যেও পুষ্টিহীনতা আছে। জ্ঞানের অভাব, সচেতনতার অভাব বা খাদ্যের যে ধরন সে কারণেই। সে কারণেই রাইস বায়োফর্টিফিকেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর এ নিয়ে মিডিয়ার রোলটাও ইতিবাচক। আমাদের দেশে সব সময় মিডিয়া যে বিষয়গুলো জোর দেয় সেটা অনেক জনপ্রিয় হয়ে যায়। জিঙ্ক রাইস নিয়ে আমি আশাবাদী। এটাও খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পাবে। সব শ্রেণীর মানুষই চাল খায়, তাই চালের মাধ্যমে জিঙ্কের সরবরাহ দিতে পারলে ভালো ফল মিলবে। এখানে কিছু আইন প্রণয়নের বিষয় আছে। রাইস পালিস করা হয় যাতে চাল সুন্দর হয়। এটা ভোক্তাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা। আমি খাদ্য মন্ত্রণালয়কে বলব তাদের উদ্যোগ নেয়া উচিত যাতে ভোক্তাকে প্রতারণা না করা হয়। এ ধরনের প্রতারণা করা একেবারেই ঠিক না। দ্রুত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। ধানের জাতের নামে চাল বিক্রি করতে হবে, চালের বস্তায় লেখা থাকবে। এটা ব্র্যান্ডিং। জাত উল্লেখ না করে চাল বিক্রি করা যাবে না। এ ধরনের আইন এখন দ্রুত হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর একটি আইন হতে পারে, এখন থেকে যত চাল ব্রিডিং করা হবে সব চালেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ জিঙ্ক থাকতে হবে। এক্ষেত্রে বীজ প্রত্যয়নকে ভূমিকা নিতে হবে। শুধু চাল নয়, আটাকেও এ আইনের অধীনে আনা দরকার যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়। সরবরাহ বাড়াতে আমাকে বীজের দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে বাজারে বাজারে বীজ পাওয়া যায়। বীজ প্রত্যয়নের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক যে সুবিধা দিচ্ছে, সেটি নিতে হবে। ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে চালের জাতের নামে বিক্রি করতে হবে এবং পলিশিং বন্ধ করতে হবে। জাত হিসেবে চাল বিক্রি করলে অনেক প্রতারণার উৎস বন্ধ হয়ে যাবে। বাজার আরো পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে। কোম্পানিগুলোর কাছে অনুরোধ থাকবে আমরা আমাদের এগ্রিবিজনেসকে প্রমোট করি। কৃষি পণ্য রফতানি থেকে বাংলাদেশের রফতানি আয় খুবই সামান্য। এটিকে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ড. রুদাবা খন্দকার

কান্ট্রি ডিরেক্টর

গেইন, বাংলাদেশ

দেশের জনসংখ্যার অনেকাংশই পুষ্টিহীনতায় ভুগছে কিন্তু তার মধ্যেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরো বেশি পিছিয়ে পড়া। সবাই মিলে সরকারের নেতৃত্বে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং যার যার স্থান থেকে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক এবং ট্রেসিবিলিটি থাকতে হবে। চাল পলিশিংয়ের ইস্যুতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এরই মধ্যে কাজ করছে, যেখানে গেইনও একটি সদস্য সংস্থা। সর্বোপরি, প্রধানমন্ত্রী ২০২১-এর সেপ্টেম্বরে ও ডিসেম্বরে আয়োজিত ইউএন ফুড সিস্টেমস সামিট ও নিউট্রিশন ফর গ্রোথ সামিটে যেসব জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে বায়োফর্টিফিকেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে আগামী দিনে সব জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতিগুলোর আলোকে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বিষয়ে আমরা সফল হব। আজকের এ আয়োজনকে অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইনের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছি এবং আশা রাখছি ভবিষ্যতে এ রকম আরো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বায়োফর্টিফায়েড জিঙ্কসমৃদ্ধ ব্রি ধানের বাজার সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ শীর্ষক গোলটেবিলে সবার অংশগ্রহণ করার জন্য, বিশেষত প্রতিমন্ত্রীকে মূল্যবান সময় ও মতামত দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আজকের আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করছি।

সুপারিশ 

জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের বীজ প্রাপ্যতা বাড়ানোর মাধ্যমে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে

জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাষীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিতে হবে

সরকারি ও বাণিজ্যিকভাবে জিঙ্কসমৃদ্ধ চালের প্রচার ও প্রসার করতে হবে

জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল ব্র্যান্ডিং করে বিক্রি তথা ক্রেতার সচেতনতা বাড়াতে হবে

চাষীদের জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান চাষে উৎসাহিতকরণে বিশেষ প্রণোদনা বা ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করতে হবে

জিঙ্কসমৃদ্ধ চাল সরকারি সেফটি নেট কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে

সব কার্যক্রম সরকার, প্রাইভেট ও এনজিও, সবার প্রচেষ্টায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সফল করতে হবে।


প্রধান অতিথি        :               ড. শামসুল আলম

                                প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

বিশেষ অতিথি       :               মো. নাসিরুজ্জামান

                                চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক

সভাপতি :               ড. রুদাবা খন্দকার

                                কান্ট্রি ডিরেক্টর, গেইন, বাংলাদেশ

সঞ্চালক :               দেওয়ান হানিফ মাহমুদ

                                সম্পাদক, বণিক বার্তা

সূচনা বক্তব্য          :               ড. আশেক মাহফুজ

                                পোর্টফোলিও লিড, গেইন, বাংলাদেশ

প্রবন্ধ উপস্থাপনা  :               শাকিব কোরেশী

                                সিইও, বিজনেস ইন্টেলিজেন্স