৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। আমি সেখানে থাকাকালে বহুদিন এ দিবস উদযাপন করেছি। যুক্তরাষ্ট্র একটি পরিপক্ব গণতন্ত্রের দেশ। প্রায় আড়াইশ বছরের গণতন্ত্র। দেশটি মানুষের মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। অভ্যন্তরীণভাবেও দেশটির আইন অত্যন্ত উন্নত। সেখানে প্রত্যেক নাগরিকের সমঅধিকার আছে। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেও যুক্তরাষ্ট্র খুব উন্নত দেশ।

কিছু কিছু ছোটখাটো বৈষম্য থাকলেও চূড়ান্ত বিশ্লেষণে তারা ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারে বিশ্বাস করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটে ঠিকই। ৪ জুলাই মানবজাতির জন্য বড় এক কল্যাণকর দিন। আমেরিকান কারা? যারা ইউরোপ থেকে প্লেগে বিতাড়িত হয়েছে, যারা সেখানকার সংকীর্ণতায় অসম্মতি জানিয়েছে, তারাই বাধ্য হয়ে আমেরিকায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আমেরিকা হচ্ছে সেই দেশ যেখানে নির্যাতিতরা আশ্রয় নিয়েছে। এটি অভিবাসীদের দেশ। সেই অভিবাসীরা ওখানে গিয়ে তাদের স্পৃহা দিয়ে দেশটিকে গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে অভিবাসী বিদেশী লোকজন। এই যে এত উদ্ভাবন, এর মূলে কারা? ডিজিটাল জগতে পে-পাল হোক, ইউটিউব হোক—কারা তৈরি করেছে? বিদেশ থেকে আসা নতুন আমেরিকান নাগরিক।

যুক্তরাষ্ট্র হলো একটি মেল্টিং পট যেখানে অনেক কিছু একসঙ্গে দ্রবীভূত হয়েছে। সেই যুক্তরাষ্ট্র যখন প্রতি বছর ৪ জুলাই উদযাপন করে, তখন তারা অভিবাসীদের উদ্যোগকে, নিপীড়ন থেকে মুক্তিকেই উদযাপন করে। এটাই হচ্ছে আমেরিকা। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র যদি কখনো পৃথিবীর নিপীড়ন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে খুব দুঃখ লাগে। কারণ দেশটিই হচ্ছে দুঃখী মানুষের দেশ। আর সেখানে তারা গড়ে তুলেছে এক অপূর্ব মানবসভ্যতা। ৪ জুলাই আমেরিকানদের জন্য একটি স্মরণচিহ্ন, যেটা মনে করিয়ে দেয় যে আপনি সংকীর্ণ মানসিকতায় আটকে থাকবেন না। মার্কিন জাতিকে ৪ জুলাই স্মরণ করিয়ে দেয় যে ‘‌যুক্তরাষ্ট্র! তুমি হচ্ছো নির্যাতিত মানুষের অভয়স্থল’। ৪ জুলাই তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ‘‌দেখো আমি কিন্তু সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য আশার আশ্রয়স্থল’। আমি ৪ জুলাই উপভোগ করি।