গত বছর এক দম্পতি আমাদের কাছে আসে, যাদের বিয়ের বয়স আট বছর পেরিয়েছে। কিন্তু এখনো সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি। তারা দেশের বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে সন্তান জন্মদান করতে না পারার জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। এমনকি ল্যাপারোস্কোপিও করিয়েছেন। কিন্তু এর পরও তারা সন্তান ধারণ করতে সক্ষম হননি। সবচেয়ে বড় কথা, তখন পর্যন্ত তারা জানতেন না তাদের সন্তান না হওয়ার পেছনে কী কারণ জড়িত। 

তারা অবশেষে প্রচণ্ড হতাশা নিয়ে চিকিৎসাসেবা নেয়াই বন্ধ করে দেন। একদিন ওই স্ত্রী একাই আমার পরামর্শ নিতে আসেন। সেখানে সব রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যখন তাকে আমি জানাই তার দুটি টিউবের কার্যকারিতা ঠিক নেই তখন তিনি প্রচণ্ড ভেঙে পড়েন। তিনি এ কথা এতদিন জানতেনই না যা কিনা তার ল্যাপারোস্কোপি রিপোর্টে উল্লেখ আছে। এরই মধ্যে তিনি বহুবার ওষুধ এবং দুবার আইইউআই করান। অবশেষে আমরা আইভিএফের সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু যেদিন ওই নারীর ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয় তার একদিন পর তার প্রচণ্ড জ্বর আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত। তাই সেই মাসে তার ভ্রূণ প্রতিস্থাপন না করে পরের মাসে করা হয়। ১৪ দিন পর করা রিপোর্টে দেখা যায়, তিনি প্রথমবারের মতো গর্ভধারণ করেছেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষে ওই দম্পতি সন্তানগ্রহণের স্বাদ অনুভব করেন। 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ওই স্বামী প্রথমবার যেদিন শুনলেন তার স্ত্রী গর্ভবতী সেদিন তারা দুজনেই প্রচণ্ড কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর পুরো গর্ভকালে তারা স্বাভাবিক প্রেগন্যান্সি কেয়ারেই ছিলেন। পুরো গর্ভকালীন পথচলা শেষ করে এনাম আইভিএফ অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টারেই তাদের কোল আলো করে এসেছিল একটি মেয়ে শিশু। 

জন্মের পর ওই শিশুটির ফলোআপ স্বাভাবিক আর অন্য সব সদ্যোজাত শিশুর মতো করেই করা হয়। তার জন্য আলাদা কোনো বাড়তি চিকিৎসার দরকার পড়েনি।

দীর্ঘ সময় সন্তানের জন্য অপেক্ষারত একজন বাবা-মাকে সন্তান উপহার দিতে পারার এ অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। যখন একজন নিঃসন্তান দম্পতির কোলে একটি সন্তান তুলে দেয়া হয় সে মুহূর্তের অনুভূতি পৃথিবীর সব অনুভূতির চেয়ে একজন বন্ধ্যাত্ববিষয়ক ডাক্তারের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা। এটা আত্মতৃপ্তির পাশাপাশি নিজের কাজের পূর্ণতা এবং এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইভিএফ সেন্টারের সফলতা।


লেখক: বন্ধ্যাত্ব ও টেস্টটিউব বেবি বিশেষজ্ঞ

কনসালট্যান্ট, এনাম আইভিএফ অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার