চীন যখন গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উদযাপন করছে, তখন দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত চরিত্রও গভীরভাবে যুক্ত।

গত কয়েক দশকে চীনের অভাবনীয় অর্থনৈতিক রূপান্তর দেখিয়েছে যে আধুনিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। বাংলাদেশের জন্য চীন শুধু বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার নয়; ডিজিটাল অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও চীনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। এ বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুশাসন বা এআই গভর্ন্যান্স বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, ই-কমার্স, আর্থিক সেবা, লজিস্টিকস ও বাণিজ্য সহজীকরণে এআই বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে তথ্যের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, অ্যালগরিদমিক জবাবদিহি এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে আসছে। তাই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের পাশাপাশি একটি আস্থাশীল ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ তাই প্রচলিত কূটনীতি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের গণ্ডি অতিক্রম করে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার দিকে আরো বিস্তৃত হতে পারে। ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট উৎপাদন, ই-কমার্স, ফিনটেক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ তার নিজস্ব উন্নয়ন-অভিজ্ঞতা ও অগ্রাধিকারের আলোকে অবদান রাখতে পারে।

এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এআই যেন কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যম না হয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা, কর্মসংস্থান, জনসেবা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের শক্তিতে পরিণত হয়—এটাই হওয়া উচিত আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য। অর্থাৎ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে সংযোগ শুধু সড়ক, বন্দর বা বাণিজ্যপথে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা ক্রমেই ডিজিটাল, বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে।

আর সেই নতুন বাস্তবতায় এআই গভর্ন্যান্স হতে পারে দুই দেশের সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী নতুন সেতুবন্ধন।

ড. মো. রাকিবুল হক: চেয়ারম্যান, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ও পরিচালক, সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়