বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি, নতুন প্রযুক্তি, দক্ষ শ্রমিক তৈরি এবং বিভিন্ন খাতে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। দেশকে এখন এগিয়ে নিতে হলে আমাদের এমন মিত্র দেশ দরকার, যে দেশ আমাদের সাহায্য করতে পারবে। আমরা মনে করি, চীনের প্রযুক্তি সারা বিশ্বে গৃহীত। এ প্রযুক্তি যদি আমাদের কাছে আসে, তাহলে আমরা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে পারব।

ব্যবসা-বাণিজ্যে আমাদের যে আমদানি-রফতানি আছে, সেখানে ঘাটতি আছে। এ ঘাটতি পূরণ করার জন্য আমরা চীনের সহযোগিতা চেয়েছি। চীন আমাদের আপাতত কুনমিংয়ে দুই হাজার বর্গমিটারের একটা স্টল দিয়েছে। দুই হাজার বর্গমিটারের একটা গোডাউন, একটা গুদামও দিয়েছে। যদি সঠিকভাবে আমাদের পণ্য সেখানে নিতে পারি, তাহলে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি বাড়বে, রফতানি বাড়বে এবং সরাসরি চীনে রফতানির সুযোগ পাব।

আমরা আশা করি, আমাদের সঙ্গে চীনের যে বর্তমান সম্পর্ক আছে, সেটা দিন দিন আরো বাড়বে। এতে করে আমাদের দেশ উপকৃত হবে। বিশেষ করে চীন একটা উন্নত দেশ। চীন থেকে আমরা যদি সঠিকভাবে আমাদের চাহিদাগুলো চিন্তাভাবনা করে বের করতে পারি, কোন সমস্যাগুলো সবার আগে এগিয়ে নিতে হবে, সেসব যদি চীনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করতে পারি, তাহলে আমাদের উন্নয়নের পথ আরো সহজ হবে।

আমাদের বর্তমানে জ্বালানি সংকট আছে। বিভিন্ন ধরনের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর সমস্যা আছে। এসব সংকট মোকাবেলায় যদি আমরা তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে আশা করি, চীনের সঙ্গে আমাদের উন্নয়নের পথ আরো বাড়বে এবং উভয় দেশই উপকৃত হবে।

এর মধ্যে আমাদের বাংলাদেশকে সবার আগে রাখতে হবে। আমাদের স্বার্থ দেখে তাদের সঙ্গে আমরা কাজ করতে পারি, যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা আছে, তাদের উপকারে আসে।

১ অক্টোবর চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আমরা চীনকে অভিনন্দন জানাই। তারা আরো উন্নতি করুক। তাদের দেশকে উন্নয়নের সঠিক পথে চালাক এবং আমাদেরও সঠিক পথে চলার রাস্তা দেখাক।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) পক্ষ থেকে বলতে চাই, আমরা ব্যবসা করি না, কিন্তু আমাদের সদস্যরা ব্যবসা করে। দুই দেশের সম্পর্ক আরো উন্নত করার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। এটাই হলো আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

মোহা. খোরশেদ আলম: সভাপতি, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)