ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। সময়ের আবর্তনে শিল্প-কারখানার বিকাশ ঘটলেও গ্রামীণ জীবিকা ও অর্থনীতি কৃষিকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান সে কথাই বলছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী এ ৫০ বছরে বদলেছে চাষাবাদের ধরন। উল্লেখযোগ্য যে পরিবর্তনটি ঘটেছে, বলা যায় এক রকম নীরব বিপ্লব ঘটে গেল কৃষিতে। তা হলো নারীদের ব্যাপক হারে কৃষিতে অংশগ্রহণ। শুধু যে অংশগ্রহণের হারই বেড়েছে তা কিন্তু নয়। নারীরা আজ কৃষিকাজের পরোক্ষ ভূমিকাতেই নেই, অংশ নিচ্ছেন চাষাবাদের শুরু থেকে অর্থাৎ জমি কর্ষণ থেকে সংরক্ষণ এবং বিপণনকাজেও। আর এ পরিবর্তিত ভূমিকায় নারীর সরব উপস্থিতি খুব সহজে বা স্বেচ্ছায় হয়নি। অনেকগুলো প্রেক্ষিত ও কার্যকারণের ধারাবাহিকতায়, যেমন—ভূমিহীনতা, অলাভজনক কৃষি, পুরুষ সদস্যদের শহরমুখী বা ভিনদেশে অভিবাসন ইত্যাদি কারণে বিগত বছরে নারী ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছেন, হাল ধরেছেন ভঙ্গুর কৃষির। নারী আজ কৃষির মুখ্য ভূমিকায় শক্তপোক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন। কিন্তু এতৎসত্ত্বেও মেলেনি নারী কৃষকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, প্রসারিত হয়নি জমিতে মালিকানা বা প্রবেশাধিকার, প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন সরকারি ঋণপ্রাপ্তি থেকে, কৃষি উপকরণের সহজপ্রাপ্তি থেকে এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ থেকে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ছাড়াও ২০২০-২১ অর্থবছরটি নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময়ে টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডারও পাঁচ বছর পূর্ণ হলো। জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) একটি অন্যতম লক্ষ্য হলো জেন্ডার সমতা অর্জন এবং সব নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন। এসডিজির ১৯৯টি লক্ষ্যের মধ্যে নয়টি ভূমির সাথে সংশ্লিষ্ট এবং ২৪০টি সূচকের মধ্যে ১২টি ভূমি ভোগদখলের ক্ষেত্রে ও জেন্ডার সমতা বিষয়ের সাথে সরাসরি প্রাসঙ্গিক। আর বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে উন্নয়নের মূলধারায় দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া দরিদ্র, প্রান্তিক নারীদের অন্তর্ভুক্তি টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৭১-এ নারী-পুরুষ একযোগে যুদ্ধ করেছিল, স্বপ্ন দেখেছিল রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে সমমর্যাদায় বেঁচে থাকার, সময়ের ব্যবধানে সেই স্বপ্নের রঙ ফিকে হতে হতে প্রায় বিলীন হয়েছে। অথচ আমাদের প্রথম সংবিধান নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দেয়ার কথা বলেছিল। প্রসঙ্গত, যার হাত ধরে এ স্বাধীনতা, আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু তার চিন্তাচেতনায় কৃষিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ছোট ছোট চাষীদের অবশ্যই উৎপাদনক্ষম করে তুলতে হবে। এ কথা মনে রেখে আমরা পল্লী এলাকায় সমবায় ব্যবস্থার ভিত্তিতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করতে চেষ্টা করছি। এর ফলে চাষীরা কেবলমাত্র আধুনিক ব্যবস্থার সুফলই পাবে না বরং সমবায়ের মাধ্যমে সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ পাওয়া সম্ভব হবে। এই সাথে আমাদের উদ্দেশ্য হলো ভূমিহীন ও স্বল্প জমির অধিকারী চাষীদের জন্য ব্যাপক পল্লী পুনর্গঠনের কর্মসূচি গ্রহণ করা।’

আজ অর্ধশত বছর পরও এ জনবহুল দেশে কমেনি জমি ও কৃষির গুরুত্ব। কারণ বর্তমানে কৃষিতে নিয়োজিত শ্রমশক্তি দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪০.৬ শতাংশ। অথচ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ভূমি ও কৃষির কোনো ধরনের সংস্কার হয়নি। যার কারণে জমির মালিকানায় ক্রমাগত বৈষম্য বেড়েছে। জমি কুক্ষিগত হয়েছে অকৃষকের হাতে। তদুপরি রয়েছে জবরদখল, কৃষিজমির অকৃষিখাতে বাণিজ্যিক ব্যবহার। সব মিলিয়ে একদিকে যেমন জমির স্বল্পতা রয়েছে, অন্যদিকে প্রকৃত কৃষকের হাতে থাকছে না আবাদি জমি। তারা না পাচ্ছেন উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি, না আছে তাদের ক্রয়ক্ষমতা। 

কৃষিশুমারি ২০১৯ অনুযায়ী এখনো বাংলাদেশে মোট ৯৮.৬৬% পরিবার পল্লী এলাকায় বসবাস করে। যার মধ্যে ৫৩.৮২ শতাংশ কৃষি পরিবার। শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ অনুযায়ী ৭২.৬ শতাংশ গ্রামীণ নারী কৃষিকাজের সাথে জড়িত।

একই সাথে পরিসংখ্যান এও বলে, দেশের মোট পরিবারের মধ্যে ৪০ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ খানার নিজস্ব কোনো জমি নেই। শতকরা হিসাবে এ সংখ্য ১১.৩৩%। বর্গাচাষ অথবা অর্থের বিনিময়ে অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে এমন পরিবারের সংখ্যা ৬৭ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৭, যা মোট পরিবারের ১৯.০৩%। দেশে মোট ১৬ লাখ ৫ হাজার ১৮৫ খানার মত্স্য চাষের জমি রয়েছে, যা মোট পরিবারের ৪.৫২%।

এত কিছুর মাঝেও গত আট বছরে কৃষি খাতে নারীর অংশগ্রহণ ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্যানুযায়ী এ বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার মধ্যেই কৃষিতে গ্রামীণ নারীর অংশগ্রহণ ৭২.৬ শতাংশ (শ্রমশক্তি জরিপ প্রতিবেদন ২০১৬-১৭)। নারীরা শুধু ফসল কাটার পর নয়, উৎপাদনের সর্বস্তরের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন, জুম চাষ, মত্স্য চাষ, জৈব কৃষি, কেঁচো সার, সর্জন পদ্ধতি ইত্যাদির চর্চা করছেন। কৃষি খাতের ২১ ধরনের কাজের মধ্যে ১৭টিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। অথচ ভূমিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা এবং কৃষক হিসেবেও তারা স্বীকৃত নন। বাজার ব্যবস্থার ওপরও নেই তাদের নিয়ন্ত্রণ।

বাংলাদেশের গ্রামীণ নারী কৃষকরা পরিবারের পুষ্টি সরবরাহ করলেও নিজেরাই পুষ্টিহীনতার শিকার। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতিবিষয়ক ফুড সিকিউরিটি নিউট্রিশনাল সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম (এফএসএনএসপি) থেকে জানা যায়, দেশে আড়াই কোটির বেশি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে, যার ৬০ শতাংশই নারী। দীর্ঘমেয়াদে শক্তির ঘাটতি আছে এমন নারীর হার ২৫ শতাংশ। তারা বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভেতরে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মায়েদের এক-তৃতীয়াংশ অপুষ্টির শিকার এবং উচ্চতার তুলনায় তাদের ওজন কম বলেও জানিয়েছে ইউএসএআইডি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সমন্বিত পুষ্টি প্রকল্প এবং জাতীয় পুষ্টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের কার্যক্রম সাফল্য পেলেও এখনো আমাদের দেশের বহু নারী পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। 

সার্বিকভাবে এ কথা সত্য যে এ দেশে ভূমির মালিকানা ও প্রবেশাধিকার যেমন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কৃষিজীবী জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষা, খাদ্য, পানি, আশ্রয় ইত্যাদি নিশ্চিত করে একই সাথে সামাজিক মূলধন হিসেবে তার আত্মমর্যাদা ও ক্ষমতায়ন আনে। নারী-পুরুষের সামাজিক অবস্থান এবং ক্ষমতার সম্পর্ক নির্ধারণ করে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত একটি জরিপে বলা হয়েছে, নারীপ্রধান পরিবারে তুলনামূলকভাবে দারিদ্র্যের হার কমছে (নিম্নদারিদ্রসীমা ১৪.৬ শতাংশ) এবং ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। বিপরীতে পুরুষ পরিচালিত পরিবারে দারিদ্র্যের (নিম্নদারিদ্রসীমা ১৭.৯ শতাংশ) হার বেশি।

অথচ এ দরিদ্র, প্রান্তিক, ভূমিহীন গ্রামীণ নারীপ্রধান পরিবারের নারীরা প্রায় সবাই ভূমিহীন। এ কৃষিভিত্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধান উপকরণ ভূমিতে প্রবেশাধিকারের একমাত্র উপায় হচ্ছে খাসজমি। বাংলাদেশের খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন নীতিমালানুযায়ী ভূমিহীন স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে খাসজমির জন্য আবেদন করতে পারলেও বিধবা বা একক নারীর ক্ষেত্রে সক্ষম পুত্রসন্তানসহ আবেদন করার শর্ত রয়েছে, যা নারীপ্রধান কৃষক পরিবার তথা নারীর খাসজমিতে অভিগম্যতা বাধাগ্রস্ত করে।

১৯৯৫ সালে গৃহীত BPfA কর্মপরিকল্পনায় ১২টি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নারী ও দারিদ্র্য, নারীর প্রতি সহিংসতা, নারী ও অর্থনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ, নারীর মানবাধিকার ইত্যাদি। বেইজিং প্লাটফর্ম ফর অ্যাকশন সম্মেলনের ২৫ বছর পূর্তি হলো ২০২০ সালে।

বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালে সর্বশেষ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ প্রতিবেদনে চ্যালেঞ্জগুলো উল্লেখ করার পাশাপাশি অগ্রাধিকার বিষয়গুলো তুলে ধরে পরবর্তী কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রতিবেদন থেকে সরকারের অর্জন সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের অধীনে ১.৫৭ মিলিয়ন নারীকে সহায়তা দেয়া হয়েছে। প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার নারীকে সহায়তা দেয়া হয়েছে কম্প্রিহেনসিভ ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ফেজ-২) প্রকল্পের আওতায়। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি যেমন—বয়স্ক ভাতা বিতরণ, বিধবা ভাতা বিতরণ, মাতৃত্বকালীন ভাতা ইত্যাদি গ্রহণ করেছে সরকার গত পাঁচ বছরে। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং চট্টগ্রামের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার দশমিক ১৮ মিলিয়ন নারীর মাঝে মাতৃত্বকালীন ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। ভিজিডি প্রোগ্রামের আওতায় ২০১৭ সালে দেশব্যাপী এক মিলিয়ন সুবিধাবঞ্চিত নারীকে সহায়তা দেয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ৬ লাখ ২১ হাজার ২০ নারীকে উচ্চফলনশীল কৃষিপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এসব প্রকল্পভিত্তিক সাফল্যগাথা সার্বিক পরিবর্তন আনতে যথেষ্ট নয়। স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন অর্জন ও তা ধরে রাখার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আমূল সংস্কার অপরিহার্য।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলোর প্রতিশ্রুতি যদি হয় ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’, তাহলে এ আলোচনা থেকে যে অসংগতিগুলো উঠে এসেছে যেমন—অর্থনৈতিক কর্মক্ষেত্র, কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ ৮ শতাংশ বৃদ্ধি বনাম সম্পদে তার ৪ শতাংশ মালিকানা, কৃষক হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক অস্বীকৃতি, মজুরিবৈষম্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তাহীনতার কী হবে? 

অন্যান্য দুর্যোগের মতো কভিড-১৯ নারীদের পুষ্টিহীনতা ও অসুস্থতা আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। কভিড-১৯ মহামারী গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক অবস্থা, খাদ্যনিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরো বেশি হুমকির মুখে ফেলেছে। করোনার প্রভাবে কৃষি ও অকৃষি খাতে নিয়োজিত নানা বর্ণ ও জাতিসত্তার গ্রামীণ ও শহরের নারীদের সাময়িক অথবা স্থায়ী বেকারত্ব সৃষ্টি হয়েছে। গার্মেন্ট, বিউটি পারলার ইত্যাদি ক্ষেত্রে কর্মরত আদিবাসী ও গ্রামীণ নারীরা কাজ হারিয়ে গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, যা যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এর পেছনে করোনার প্রভাবে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের সংকট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা অন্যতম একটি কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

এসব উদ্ভূত সমস্যা দূর করে একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ও তা বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও বাজেট বরাদ্দ জরুরি। কারণ এটি সরকারেরই দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে যেসব কাজ করা দরকার তার কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে অনতিবিলম্বে খাসজমি নীতিমালায় বিধবা ও একক নারীর জন্য সক্ষম পুত্রের শর্ত বাতিল করে কৃষিনির্ভর সব ভূমিহীন দরিদ্র নারীকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দিতে হবে; বেহাত হয়ে যাওয়া খাসজমি পুনরুদ্ধার ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ জোরদার করতে সুনির্দিষ্ট আইন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে; কৃষি নীতিমালা সংশোধন করে নারী কৃষকের সুস্পষ্ট সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান, সরকারি সেবাগুলোতে নারীর অন্তর্ভুক্তি ও প্রাপ্তি নিশ্চিত করা; নারী কৃষকের ভূমিহীনতা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় (জামানতবিহীন অথবা সহজ শর্তে) সরকারি ব্যাংক থেকে অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং শস্য বীমা চালু করতে হবে। আদিবাসী, দলিতসহ সব প্রান্তিক নারী কৃষকের জন্য উপযোগী সমবায় গঠনে বর্তমান আইনের জটিলতা পরিহার করা ও এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করা; সিডও কমিটির সুপারিশমালা আমলে নিয়ে CEDAW সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে (যেমন আইন কমিশনের মতামত অনুসারে উদ্যোগ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামী চিন্তাবিদদের সাথে আলোচনা ইত্যাদি)। কভিড-১৯-পরবর্তী সমাজে দক্ষ ও যোগ্য ভূমিকা পালনে প্রান্তিক নারীর জন্য আর্থিক ও উপযুক্ত কারিগরি প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহায়তা অবারিত করা।

পরিশেষে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরের অঙ্গীকার হোক অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রবর্তনসহ নারী/কৃষকবান্ধব ভূমি ও কৃষির আমূল সংস্কারের মাধ্যমে নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে নারীর সার্বিক ক্ষমতায়ন।

 

রওশন জাহান মনি: উন্নয়নকর্মী ও উপনির্বাহী পরিচালক,

এএলআরডি