করপোরেট ঋণনির্ভর ব্যাংক হওয়ায় পরও প্রাইম ব্যাংক কীভাবে টেকসই তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। টেকসই খাতে আপনাদের ব্যাংক কেমন অর্থায়ন করেছে। এসব ঋণ কোন কোন খাতে গেছে?

প্রাইম ব্যাংক করপোরেট ঋণনির্ভর হলেও টেকসই ব্যাংকিংয়ের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে মূলত পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের মাধমে। আমাদের সবুজ অর্থায়নের বেশির ভাগ অংশ জ্বালানি ও সম্পদ দক্ষতায় কেন্দ্রীভূত, যা ২০২৪ সালে ছিল ৮৬ শতাংশ। বাজারের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক হিসেবে আমরা এমন একটি কৌশল বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতিশীল গ্রাহক নির্বাচনকে গুরুত্ব দেয় এবং উচ্চমানের কমপ্লায়েন্স মান বজায় রাখে। ফলস্বরূপ আমাদের অধিকাংশ গ্রাহক পরিবেশ ও সামাজিক বিবেচনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে।

টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন করা ঋণ আদায় পরিস্থিতি কেমন। অন্য ঋণের মতো, নাকি ভিন্নতা আছে?

টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার সাধারণ ঋণের তুলনায় কম। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব খাতে এ হার আরো কম দেখা গেছে। এসব প্রকল্পে ঋণগ্রহীতারা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যান, ফলে ঋণ পরিশোধে দায়িত্বশীলতা থাকে বেশি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করা হয়, যেগুলোয় বাজার চাহিদা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বেশি থাকে। এ খাতে ঋণ আদায়ের ইতিবাচক প্রবণতা শুধু আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য নয়, বরং পরিবেশ ও সমাজের জন্যও এক বড় আশাবাদী বার্তা।

টেকসই কোর ব্যাংকিং সূচকে প্রাইম ব্যাংক কেমন করছে?

প্রাইম ব্যাংক টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ব্যাংকটি ধারাবাহিক পরিচালনাগত, অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যকারিতা, উদ্ভাবন এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিশ্চিত করে চলেছে। তারল্য পরিস্থিতি অনুকূল রাখতে এবং সম্প্রসারণকে সহায়তা করতে শক্তিশালী অর্থায়ন কাঠামো বজায় রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ব্যাংকটি নিট কর-পরবর্তী মুনাফায় উল্লেখযোগ্য ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। এ সময় ব্যাংকের নিট মুনাফা হয়েছে ৪১০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য এবং শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ যথাক্রমে ৩৫ টাকা ২৯ ও ১৭ টাকা ১০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল যথাক্রমে ২৯ টাকা ৮৩ ও ৮ টাকা ৪৬ পয়সা। এটি ব্যাংকের স্থিতিশীলতারই প্রতিফলন।

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংকের মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৬০৫ কোটি টাকায়, যার মধ্যে ঋণ ও অগ্রিম ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ২০২৫ সালের প্রথমার্ধ শেষে মূলধন-ঝুঁকি ভারসাম্যে ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশের শক্তিশালী অনুপাত বজায় রেখেছে, যা এর দৃঢ় আর্থিক ভিত্তির সাক্ষ্য বহন করে।

প্রাইম ব্যাংক উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সমাধান এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছে, যাতে তার গ্রাহক ও অংশীদাররা একটি পরিবর্তনশীল আর্থিক পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অর্জন করতে পারে।

এসব উদ্যোগ আপনাদের ব্যাংকিং সেবায় কী ধরনের প্রভাব ফেলছে? পাশাপাশি পরিবেশের ওপর আপনাদের উদ্যোগগুলোর প্রভাব কেমন?

প্রাইম ব্যাংকের টেকসই উদ্যোগগুলো ব্যাংকিং সেবা ও পরিবেশ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। আমাদের সবুজ অর্থায়নের বেশির ভাগ অংশ জ্বালানি ও সম্পদ দক্ষতায় কেন্দ্রীভূত, যা ২০২৪ সালে ছিল ৮৬ শতাংশ। এছাড়া ২০২৪ সালে আমাদের মোট ঋণ বিতরণের ৮০ দশমিক ৪৮ শতাংশ নিবেদিত ছিল টেকসই অর্থায়নে। ২০২৩ সালের মে মাসে প্রাইম ব্যাংক জাতিসংঘের বৈশ্বিক ব্যাংক জোট নেট জিরো ব্যাংকিং অ্যালায়েন্সে (এনজেডবিএ) যোগ দেয়। এ জোটের সদস্য হিসেবে প্রাইম ব্যাংক ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম জলবায়ু কৌশল প্রকাশ করে। ব্যাংকটি তাদের কার্বন নিঃসরণ পরিমাণ পরিমাপ করছে স্কোপ ১, স্কোপ ২ ও স্কোপ ৩ মানদণ্ডের ভিত্তিতে। এছাড়া প্রাইম ব্যাংক বিদ্যুৎ, বস্ত্র ও ইস্পাত খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মধ্যে প্রাইম ব্যাংক শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে শীর্ষস্থানীয় টেকসই ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি, বরং ইউরোমানিসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছে।

সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স রিপোর্টে আপনার ব্যাংক শীর্ষ তালিকায় উঠে আসার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

বাংলাদেশে শীর্ষ টেকসই ব্যাংকের স্বীকৃতি লাভ আমাদের জন্য এক গর্বের বিষয়। এ সম্মান আমাদের টিমের আন্তরিক প্রচেষ্টা, গ্রাহকদের নিরন্তর আস্থা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থার দিকে আমাদের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি। আমাদের দৃষ্টিতে সাসটেইনেবিলিটি কেবল একটি মানদণ্ড নয় বরং এটি আমাদের কৌশল, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে একটি মৌলিক নীতি। সমাজ, পরিবেশ এবং আগামী প্রজন্মের কল্যাণে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব রাখতে প্রাইম ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ অর্জনের পেছনে কোন উদ্যোগ বা কর্মসূচিগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আপনি মনে করেন?

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে কোর ব্যাংকিংয়ে সাসটেইনেবিলিটি চর্চা এবং সর্বজনীন ব্যাংকিং সেবার আওতা বৃদ্ধি প্রাইম ব্যাংকের অন্যতম প্রধান শক্তি ও বৈশিষ্ট্য। এ দুটি দিকই আমাদের গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, দায়িত্বশীল পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎবান্ধব ব্যাংকিং মডেলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। সময়ের পরিক্রমায় আমরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের সবুজ ও টেকসই অর্থায়ন কার্যক্রমকে বিস্তৃত করেছি, যা পরিবেশবান্ধব ও সামাজিকভাবে ইতিবাচক প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আর্থিক পরিবেশ গড়ে তুলছে। এ অগ্রগতি শুধু আমাদের টেকসই ব্যাংকিংয়ের প্রতিশ্রুতির প্রমাণই নয়, বরং এটি আমাদের দায়িত্বশীল করপোরেট আচরণ ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব তৈরির অঙ্গীকারকেও দৃশ্যমান করে।

২০২৪ সালে প্রাইম ব্যাংকের সবুজ অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ২৬৭ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন টাকা, যা মোট মেয়াদি ঋণ বিতরণের ৩৪ দশমিক ১১ শতাংশ। পূর্ববর্তী বছরে এ হার ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিফলন। ২০২৪ সালে আমাদের টেকসই অর্থায়ন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন টাকায়, যা মোট ঋণ বিতরণের ৮০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যেখানে পূর্ববর্তী বছরে এ হার ছিল ৩৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি আমাদের স্থায়ী প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে নেয়া দৃঢ় পদক্ষেপগুলোর প্রতিচ্ছবি। বিশ্বব্যাপী প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও প্রাইম ব্যাংক তার নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সিএসআর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দিয়েছে।

টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বা গ্রাহকদের কীভাবে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে?

প্রাইম ব্যাংক টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বা গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে মোট মেয়াদি ঋণের অন্তত ৫ শতাংশ পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে এবং ২০ শতাংশ টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে বলা হয়েছে। যার বিপরীতে প্রাইম ব্যাংকের যথাক্রমে ৩৭ দশমিক ৬৪ ও ৮০ দশমিক ৪৮ শতাংশ অর্থায়ন রয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় সুবিধাজনক সুদের হার, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এবং প্রযুক্তিগত ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রাইম ব্যাংক তার রিলেশনশিপ ম্যানেজারদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করে, যা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ অগ্রাধিকারমূলক অর্থায়ন শুধু পরিবেশ রক্ষা করছে না বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রমে সম্প্রতি কোনো বড় পরিবর্তন বা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে কি?

২০০২ সালে প্রাইম ব্যাংকের করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশনটি সামাজিক দায়িত্ব ও কমিউনিটি উন্নয়নভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অথবা এনজিও, সরকারি সংস্থা ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সিএসআর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। গত দুই বছরে ব্যাংকটি জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমন-সংক্রান্ত প্রকল্পের দিকে সিএসআর কার্যক্রমের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে, যেমন দুর্গত ও জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাবিত অঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সরবরাহ।

গ্রিন ব্যাংকিং বাস্তবায়নে আপনার ব্যাংকের গ্রহণযোগ্য উদ্যোগগুলো কী?

প্রাইম ব্যাংক গ্রিন ব্যাংকিং বাস্তবায়নে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করছে। প্রাইম ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যবস্থা করে থাকে, যা গ্রাহকদের জন্য কম সুদের সুবিধা নিশ্চিত করে। ২০১৪ সাল থেকে প্রাইম ব্যাংক আন্তর্জাতিক জিআরআই মান অনুযায়ী টেকসই কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। ব্যাংকটি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির আওতায় এনজেডবিএর সদস্য, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে। বিগত তিন বছর ধরে প্রাইম ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ টেকসই ব্যাংকের স্বীকৃতি পেয়ে আসছে, যা আমাদের সবুজ অর্থায়ন, সিএসআর ও মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমে টেকসই চর্চার স্বীকৃতি। এ উদ্যোগগুলো শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গ্রাহক বা ব্যবসায়িক অংশীদারদের টেকসই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে ব্যাংক কী ধরনের প্রণোদনা বা সুবিধা দিয়েছে?

প্রাইম ব্যাংক শুধু আর্থিক সেবা নয়, বরং অগ্রগতির প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে—পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতিকে একত্রে এগিয়ে নিতে। গ্রাহক বা ব্যবসায়িক অংশীদারদের টেকসই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য কম সুদের সুবিধা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যবস্থা করে থাকে। আমাদের সব আরএম গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা প্রদানে সুপ্রশিক্ষিত ও জ্ঞানসম্পন্ন।

এ অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা বা গাইডলাইন কতটা সহায়ক হয়েছে?

শীর্ষ টেকসই ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও গাইডলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স পলিসি প্রণয়ন, ব্যাংকগুলোকে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে এবং টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। উপরন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য সাসটেইনেবল ব্যাংকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজন করে। এতে ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্প মূল্যায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং রিপোর্টিংয়ে দক্ষতা অর্জন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংকগুলোকে ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক সাসটেইনেবল ব্যাংকিং রিপোর্ট জমা দিতে হয়। এ রিপোর্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর অডিট করে, যার মাধমে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে।

এ ধরনের স্বীকৃতি ব্যাংক খাতে অন্যদের জন্য কী বার্তা দেয় বলে আপনি মনে করেন?

এ ধরনের স্বীকৃতি ব্যাংক খাতের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করা নয়, বরং পুরো খাতকে একটি মানদণ্ডে পৌঁছার প্রেরণা দেয়। এতে প্রমাণিত হয় যে গ্রাহকসেবা, নিরাপত্তা বা টেকসইতা নিয়ে কাজ করলে আন্তর্জাতিক বা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের স্বীকৃতিকে মানদণ্ড হিসেবে ধরে নিজেদের পরিষেবা, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করতে চায়। সাধারণ গ্রাহকের দৃষ্টিতে এটি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা গড়ে তোলে। ফলে খাতের প্রতি সামগ্রিক বিশ্বাসও বাড়ে। এমন স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হতে পারে। এসব বার্তা ব্যাংক খাতে শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং একটি জাতির আর্থিক ব্যবস্থার সক্ষমতাও তুলে ধরে।

আপনার প্রতিষ্ঠান আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে টেকসই ব্যাংকিং ক্ষেত্রে কী কী নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে?

আধুনিক ব্যাংক খাতে যে ধরনের টেকসই উদ্যোগের দিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে এবং তা সামনের এক-দুই বছরে আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে; সেগুলো হলো নবায়নযোগ্য শক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বা জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎপাদনের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা ইত্যাদি। গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়া, ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে ইনোভেশন সেন্টার গড়ে তুলছে যেখানে এআই, ডাটা অ্যানালিটিকস এবং ব্লকচেইন ব্যবহার করে টেকসই সমাধান তৈরি করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু পরিবেশের জন্য ভালো নয়, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য।