ওয়ালটন পরিবেশবান্ধব কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলতে কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে? আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভিজ্ঞতা বলুন।
ওয়ালটন সবসময় পরিবেশবান্ধব কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রতিটি শিল্প স্থাপনায় সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই সমাধান ব্যবহার করা হচ্ছে। সৌরশক্তি ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য ই-বাইক ও ই-বাস, পণ্য আনা-নেয়ার জন্য ই-ফর্কলিফট এবং কারখানার বিভিন্ন বিভাগে অভ্যন্তরীণ বায়ুর মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আধুনিক ডাস্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইনস্টল করা হয়েছে। ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুসজ্জিত পরিষ্কার ব্যবস্থা রয়েছে। শক্তির ক্ষতি কমাতে বয়লার ফিড ট্যাংক ও বাষ্প লাইনে নিরোধক ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া এলইডি ও সেন্সরভিত্তিক আলো, এনার্জি-এফিশিয়েন্ট মোটর, সার্ভোমোটর এবং ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ (ভিএফডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে শক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনায় এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রক্রিয়াজাত পানির প্রায় ৭৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দিক থেকেও ওয়ালটন বিশেষভাবে এগিয়ে। ওয়ালটন এরই মধ্যে অর্জন করেছে LEED প্লাটিনাম সার্টিফিকেশন, ISO 14001 (পরিবেশ ব্যবস্থাপনা) এবং ISO 45001 (পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা)। সম্প্রতি অর্জিত SDG Brand Champion Awards 2025 (তিনটি ক্যাটাগরি), গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫, Excellence in Investment Award 2025 (ইএসজি ক্যাটাগরি), বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড, এইচএসবিসি বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড, জাতীয় পরিবেশ পদক, RoSPA Health & Safety গোল্ড অ্যাওয়ার্ড এবং ব্রিটিশ সেফটি কাউন্সিল অ্যাওয়ার্ড ওয়ালটনের পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া, টেকসই উন্নয়ন নীতি ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করছে। এসব অর্জন প্রমাণ করে ওয়ালটন কেবল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নয়, বরং টেকসই ও সামাজিক দায়বদ্ধতায়ও আন্তর্জাতিক মানের উদাহরণ স্থাপন করেছে।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কার্বন নিঃসরণ কমাতে কী ধরনের প্রযুক্তি বা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে?
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা ওয়ালটনের একটি প্রধান লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে আমরা বিভিন্ন ইকো-ফ্রেন্ডলি প্রযুক্তি ও কৌশল গ্রহণ করেছি। প্রথমত, রেফ্রিজারেশন সিস্টেমে R600a, R410 এবং R32 মতো পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়, যা প্রচলিত কুল্যান্টের তুলনায় গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল কমিয়ে দেয়। এছাড়া বিএলডিসি ফ্যান, ইনভার্টার এয়ারকন্ডিশনার, LED এবং সেন্সরভিত্তিক আলো ব্যবহার করে শক্তির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। উৎপাদন মেশিনারিও শক্তি দক্ষ, যেমন সার্ভোমোটর ও ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ (বিএফডি) ব্যবহার করে অপচয় কমানো হয়।
এছাড়া ওয়ালটন ১০ মেগাওয়াট সৌরশক্তি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যা নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব উদ্যোগের ফলে এক বছরে আমরা প্রায় ৯ লাখ ১১ হাজার ৮২৩ টন CO₂e হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছি। শুধু তাই নয়, শক্তি দক্ষ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।
এভাবে ওয়ালটনের কার্বন হ্রাস কৌশল পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ হ্রাস, টেকসই উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধিতেও সহায়তা করছে। এটি প্রমাণ করে যে শক্তি দক্ষ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দুদিকেই লাভজনক।
শিল্প বর্জ্য, ই-বর্জ্য বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবস্থাপনায় ওয়ালটনের নীতি কী?
ওয়ালটন শিল্প বর্জ্য, ই-বর্জ্য ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এটি প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশবান্ধব নীতির একটি কেন্দ্রীয় অংশ। ওয়ালটন সারা দেশ থেকে ই-বর্জ্য সংগ্রহ করে এবং তা সুষ্ঠুভাবে প্রক্রিয়াজাত করে, যাতে দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকি কমানো যায়। একই সঙ্গে নয় হাজার টন প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার বা আপসাইক্লিং এবং ২ হাজার ৫০০ টন মেটাল রিসাইকেল করা হয়, যা কাঁচামালের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করে ও বর্জ্য কমিয়ে আনে। ওয়ালটনের এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত পানির প্রায় ৭৫ শতাংশ নিরাপদভাবে পুনর্ব্যবহার করা হয়, যা পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এছাড়া ওয়ালটন রিফার্বিশড পণ্য অভ্যন্তরীণভাবে কর্মীদের মাঝে বিক্রি করে, যা শুধু সম্পদ সংরক্ষণই নয়, ভোক্তাদের জন্যও টেকসই বিকল্প তৈরি করে।
ওয়ালটনের নীতি মূলত ‘রিসাইকেল, রিইউজ, আপসাইক্লিং’-এর ওপর ভিত্তি করে, যা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়তা করে না, বরং ব্যবসার খরচ কমানো, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডের সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রদর্শন এবং পানি সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ওয়ালটনের পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ও পুনর্ব্যবহার নীতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উৎপাদন, সামাজিক দায়বদ্ধতা, পানি সংরক্ষণ এবং আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে নিশ্চিত করে।
পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে তুলতে সরকারি সহায়তার কোন দিকগুলো সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে?
পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে তুলতে সরকারি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অভিজ্ঞতায় লাইসেন্স ও সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সহজ করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। বর্তমানে প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা সার্টিফিকেশন নেয়ার প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ, যা নতুন ও টেকসই প্রযুক্তি গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। প্রক্রিয়া সহজ হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান দ্রুত সবুজ প্রযুক্তি ও অবকাঠামো গ্রহণ করতে পারবে। তাছাড়া নীতিগত ছাড় বা প্রণোদনা যেমন করছাড়, আমদানি শুল্ক হ্রাস বা ট্যাক্স প্রণোদনা উদ্যোক্তাদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে এবং বিনিয়োগ ঝুঁকি কমায়।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তি, পানি পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং খাতে। সরকারি অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ এ খাতগুলোয় অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহ জোগায়। এ তিনটি সহায়তা একসঙ্গে প্রয়োগ করলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে সক্ষম হবে, যা দেশের সবুজ শিল্পায়ন এবং টেকসই উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে।
বাংলাদেশের সবুজ শিল্পায়নের পথে সরকারের ভূমিকা ও ওয়ালটনের প্রত্যাশা কী?
বাংলাদেশের সবুজ শিল্পায়নের পথে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব নীতি ও ESG মানদণ্ড বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়, তা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসই প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়া গ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে। উদাহরণস্বরূপ, নবায়নযোগ্য শক্তি, পানি পুনর্ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে নীতিগত সহায়তা যেমন করছাড়, আমদানি শুল্ক হ্রাস বা ট্যাক্স প্রণোদনা শিল্পে বিনিয়োগে উৎসাহ জোগায়। ওয়ালটন আশা করে, সরকার নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও সবুজ অবকাঠামোতে নীতিগত সহযোগিতা প্রদান করবে, যা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহজে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণে সহায়তা করবে। এছাড়া সরকারি অংশগ্রহণ ও প্রণোদনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ঝুঁকি কমিয়ে দেবে এবং সবুজ প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়ার বিস্তার ত্বরান্বিত করবে। এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের শিল্পকে সবুজ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্যবসায় মুনাফা বজায় রেখে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন?
ব্যবসায় মুনাফা বজায় রেখে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সৌরশক্তি বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট স্থাপনের প্রাথমিক খরচ প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি, ফলে বিনিয়োগের রিটার্ন পেতে সময় লাগে। দ্বিতীয়ত, সাপ্লাই চেইনে টেকসই উপকরণ নিশ্চিত করা এবং অংশীদারদের টেকসই নীতিতে যুক্ত করা কঠিন। তৃতীয়ত, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে শ্রমিক ও ম্যানেজারদের দক্ষতা তৈরি করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, যা অতিরিক্ত খরচ এবং সময় দাবি করে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এ বিনিয়োগ খরচ সাশ্রয় করে। শক্তিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমায়, পানি পুনর্ব্যবহার নতুন পানি সংগ্রহের খরচ হ্রাস করে আর বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখায় ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি পায়। স্বল্পমেয়াদে চ্যালেঞ্জ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যবসাকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে।
পরিবেশ সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ খরচ বৃদ্ধি করে নাকি মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে?
প্রাথমিকভাবে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক উদ্যোগগুলোয় বিনিয়োগ করলে খরচ কিছুটা বেড়ে যায়—যেমন সৌরশক্তি প্রকল্প, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো বা আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি স্থাপন করতে এককালীন বড় ব্যয় প্রয়োজন হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ ব্যয় আসলে সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, শক্তিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার বিদ্যুৎ খরচ কমায়, পানি পুনর্ব্যবহার নতুন পানি সংগ্রহের খরচ কমিয়ে আনে এবং পুনর্ব্যবহার ও আপসাইক্লিং প্রক্রিয়া কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে।
এছাড়া পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে, ফলে বিদেশী ক্রেতাদের আস্থা ও বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বাড়ে। ফলে শুধু বিক্রি বাড়ে না, বরং প্রিমিয়াম প্রডাক্ট হিসেবে ব্র্যান্ডের অবস্থানও শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষায় বিনিয়োগ কোম্পানির সুনাম বৃদ্ধি করে, যা বিনিয়োগকারী ও অংশীদারদের আস্থা অর্জনে সহায়তা করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রাথমিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো খরচ সাশ্রয়, বাজার সম্প্রসারণ, ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা অর্জনের মাধ্যমে মুনাফা বৃদ্ধিতেই সহায়তা করে। অর্থাৎ, টেকসই উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক সাফল্য এখানে একে অপরের পরিপূরক।
এক বছরে ওয়ালটনের পরিবেশবিষয়ক সংস্কার কার্যক্রম ও অগ্রগতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
গত এক বছরে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ১০ মেগাওয়াট সৌরশক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। শিল্প প্রক্রিয়ায় পানি সাশ্রয় ও পুনর্ব্যবহারে বড় সাফল্য এসেছে, যেখানে প্রক্রিয়াজাত পানির প্রায় ৭৫ শতাংশ নিরাপদভাবে পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে। ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, একই সঙ্গে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার ও আপসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বর্জ্য কমিয়ে সম্পদের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। ওয়ালটন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রিফার্বিশড পণ্য বাজারে ফিরিয়ে এনেছে, যা শুধু সম্পদ সংরক্ষণই নয়, ভোক্তাদের জন্যও টেকসই বিকল্প তৈরি করেছে। এসব কার্যক্রমের ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৯ লাখ ১১ হাজার ৮২৩ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমিয়েছে এবং সামগ্রিক কার্বন ফুটপ্রিন্ট ১০ শতাংশ হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে। এ অগ্রগতি প্রমাণ করে, ওয়ালটন কেবল পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণই করেনি, বরং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই শিল্প ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি মডেল তৈরি করেছে।










