বর্তমান সময়ে
মানুষের
খাদ্যাভ্যাসে
চিনি
এমন
একটি
স্থান
দখল
করে
ফেলেছে
যে
ধারণা
করা
যায়
দিনে
দিনে
চিনির
ওপর
নির্ভরশীলতা
আরো
বাড়বে;
কমবে
না।
স্বাস্থ্যের
জন্য
যতই
ক্ষতিকারক
হোক
লবণ,
তেল,
পেঁয়াজের
মতো
প্রতিদিন
কোনো
না
কোনো
খাদ্যের
উপস্থিতিকে
অস্বীকার
করার
বাস্তবতা
এখন
আর
নেই।
চিনির
বিকল্প
হিসেবে
গুড়ের
ব্যবহার
এ
উপমহাদেশে
প্রাচীন
হলেও
মানুষের
খাদ্যাভ্যাসে
কেক,
বিস্কুট,
মিষ্টি,
চা,
কফি
ও
অন্যান্য
অনেক
মিষ্টিজাতীয়
খাবারে
অভ্যস্ততার
কারণে
চিনির
ব্যবহার
দিন
দিন
বিস্তৃত
হয়েছে।
চিনির
এ
সর্বজনীন
ব্যবহার,
চাহিদা
ও
অপরিহার্যতা
রয়েছে
জেনেও
অনেকেই
স্থানীয়
চিনি
শিল্পকে
বৈশ্বিক
প্রতিযোগিতায়
টিকে
থাকতে
না
পারার
অজুহাত
দেখিয়ে
বন্ধ
করার
পক্ষে।
তাদের
মতে,
বৈশ্বিক
প্রতিযোগিতায়
টিকে
থাকতে
পারে
না,
এমন
শিল্পগুলোকে
বিলুপ্ত
করার
মধ্য
দিয়ে
বৈশ্বিক
প্রতিযোগিতায়
টিকে
থাকতে
সক্ষম
এমন
শিল্পের
বিকাশ
ঘটানো
বরং
লাভজনক।
আর
সেই
অজুহাতে
আমাদের
কৃষিভিত্তিক
শিল্পের
মধ্যে
চিনি
শিল্প
বহু
দিন
ধরে
বিবেচনায়
থাকলেও
করোনাকালে
নতুন
টার্গেটে
পরিণত
হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত
১৫টি
চিনিকলের
মধ্যে
ছয়টি
গত
মাড়াই
মৌসুমে
(ডিসেম্বর ২০২০)
বন্ধ
করে
দেয়া
হয়েছে
উৎপাদন
খরচ
বৃদ্ধি
ও
লোকসানের
অজুহাত
দেখিয়ে।
এ
খাত
রক্ষা
করতে
সরকারের
নতুন
বিনিয়োগ
প্রয়োজন।
প্রয়োজন
ব্যবস্থাপনা
ঢেলে
সাজানো।
প্রয়োজন
উৎপাদনশীলতা
বৃদ্ধি
ও
এমনসব
পদক্ষেপ
নেয়া,
যেন
চিনির
উৎপাদন
খরচ
কমে।
কিন্তু
সরকার
তা
করতে
আগ্রহী
নয়।
এর
কারণ
কিছু
কিছু
প্রয়োজনীয়
খাদ্যের
স্থানীয়
উৎপাদন
কেন
জরুরি
তা
বুঝতে
পারার
সক্ষমতা
না
থাকা।
একেকটা
শিল্পের
গড়ে
ওঠার
পেছনে
থাকে
একেকটা
অর্থনৈতিক,
সামাজিক
ও
রাজনৈতিক
ইতিহাস।
শিল্পের
বিকাশের
সঙ্গে
সেই
সামাজিক,
রাজনৈতিক
ও
অর্থনৈতিক
সম্পৃক্তা
অস্বীকার
করে
আপাতদৃষ্টিতে
শুধু
লাভ-ক্ষতি
দেখলে
অর্থনীতিতে
চিনি
শিল্পের
প্রকৃত
ভূমিকা
বোঝা
যাবে
না।
২০২০ সালে
ছয়টি
চিনিকল
বন্ধের
সিদ্ধান্তের
আগ
পর্যন্ত
বাংলাদেশ
চিনি
ও
খাদ্য
শিল্প
করপোরেশনের
অধীনে
মোট
১৫টি
চিনিকল
চালু
ছিল,
যার
মধ্যে
তিনটি
ব্রিটিশ
আমলে,
নয়টি
তত্কালীন
পূর্ব
পাকিস্তান
আমলে
ও
তিনটি
বাংলাদেশ
স্বাধীন
হওয়ার
পর
স্থাপিত
হয়েছিল।
১৯৭২
সালে
বাংলাদেশ
সুগার
মিলস
করপোরেশন
গঠিত
হয়েছিল।
পরে
১৯৭৬
সালে
বাংলাদেশ
সুগার
মিলস
করপোরেশন
ও
বাংলাদেশ
ফুড
অ্যান্ড
অ্যালাইড
ইন্ডাস্ট্রিজ
করপোরেশনকে
একীভূত
করে
বাংলাদেশ
সুগার
অ্যান্ড
ফুড
ইন্ডাস্ট্রিজ
করপোরেশন
গঠন
করা
হয়।
যদিও
প্রাথমিকভাবে
এ
করপোরেশনের
অধীনে
চিনি
ও
খাদ্য
শিল্প
উভয়ই
ছিল
কিন্তু
এখন
করপোরেশনের
অধীনে
আর
কোনো
খাদ্য
শিল্পপ্রতিষ্ঠান
নেই।
প্রতিষ্ঠার
পর
থেকে
এখন
পর্যন্ত
এর
আওতায়
থাকা
ঘানির
তেল,
তেল
রিফাইনারি,
টোব্যাকো
কোম্পানি,
কোল্ডস্টোরেজ
ও
মত্স্য
প্রক্রিয়াকরণ,
ময়দা,
বিস্কুট
ও
কোল্ড
ড্রিংকস,
বেকারিসহ
মোট
৫৭টি
খাদ্য
শিল্পপ্রতিষ্ঠান
এবং
তিনটি
চিনিকল
(কালিয়া চাপড়া,
দেশবন্ধু
ও
ন্যাশনাল)
বেসরকারি
করা
হয়েছে।
২০২০
সালের
ডিসেম্বরে
এসে
লোকসানের
বোঝা
কমানোর
কথা
বলে
রাষ্ট্রায়ত্ত
১৫টি
চিনিকলের
মধ্যে
ছয়টি
চিনিকলের
(পঞ্চগড়, সেতাবগঞ্জ,
শ্যামপুর,
রংপুর,
পাবনা
ও
কুষ্টিয়া)
চিনি
উৎপাদন
বন্ধের
সিদ্ধান্ত
নিয়েছে
বাংলাদেশ
চিনি
ও
খাদ্য
শিল্প
করপোরেশন।
কর্মসংস্থান: বিএসএফআইসির তথ্যানুযায়ী
বাংলাদেশের
চিনিকলগুলোয়
সরাসরি
১৬
হাজার
মানুষের
কর্মসংস্থান
ছিল।
আখ
চাষের
ওপর
নির্ভর
ছিল
উত্তর
ও
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের
পাঁচ
লাখ
চাষীসহ
প্রায়
৫০
লাখ
মানুষের
জীবিকা।
প্রকাশিত
তথ্যানুযায়ী
বন্ধ
হওয়া
ছয়
চিনিকলে
২
হাজার
৮৮৪
শ্রমিক-কর্মচারী
কর্মরত
ছিলেন।
তবে
অস্থায়ী
সাময়িক
কর্মচারী
ও
শ্রমিক
যোগ
করলে
এ
সংখ্যা
৩
হাজার
২০০-এর
ওপর
হবে।
(বিএসএফআইসি, ২০১৯
)
চিনি শিল্পকে কেন্দ্র করে
অবকাঠামো: বাংলাদেশের চিনি
শিল্প
প্রথম
গড়ে
ওঠে
ব্রিটিশ
আমলে।
মাড়োয়ারি
ব্যবসায়ীরা
এ
দেশে
চিনি
শিল্পে
বিনিয়োগ
শুরু
করে
বিশাল
চিনিকল
ও
একে
কেন্দ্র
করে
অবকাঠামো
নির্মাণের
মধ্য
দিয়ে।
সে
সময়
গড়ে
ওঠা
চিনিকলগুলো
নির্মাণের
সময়
ক্ষেত
থেকে
আখ
মিলে
আনার
জন্য
রেলপথও
তৈরি
করা
হয়েছিল।
কিছু
কিছু
চিনিকলে
নিজস্ব
খামারও
করা
হয়।
খামারসংলগ্ন
এলাকায়
কৃষকদের
বসবাসের
জন্য
জমিও
নির্ধারণ
করে
দেয়া
হয়।
মিলের
পাশেই
কর্মচারীদের
জন্য
যেই
আবাসিক
এলাকা,
ক্লাব,
মাঠ,
স্কুল
ও
হাসপাতাল
ইত্যাদি
নির্মাণ
করা
হয়
সেগুলো
এখনো
রয়েছে।
অর্থাৎ
এ
মিলগুলো
তৈরি
করা
হয়েছিল
বিশাল
জমি
নিয়ে,
যা
দিনে
দিনে
আরো
দুর্লভ
ও
মূল্যবান
হচ্ছে।
তাছাড়া
এ
মিলগুলোকে
কেন্দ্র
করে
তৈরি
হয়েছে
আরো
ব্যবসা।
মিলের
বর্জ্য
থেকে
সার
বানানো,
মোলাস,
বাগাস
বিক্রি
নিয়ে
তৈরি
হয়েছে
অনেক
মানুষের
কর্মসংস্থান।
এছাড়া
কৃষিভিত্তিক
চিনি
শিল্পকে
কেন্দ্র
করে
গ্রামীণ
এলাকায়
রাস্তাঘাট,
বিদ্যুৎ,
ব্যাংক,
হাটবাজার,
অন্যান্য
ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্র
ও
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ
বিভিন্ন
অবকাঠামো
এবং
প্রতিষ্ঠান
গড়ে
উঠেছে।
এ
অবকাঠামো
এখন
আবার
চিনি
শিল্পের
ওপর
নির্ভরশীল।
উপজাতের ব্যবহার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান:
চিনির
উপজাত
চিটাগুড়,
আখের
ছোবড়া
ইত্যাদি
কাঁচামাল
হিসেবে
ব্যবহার
করেও
বিভিন্ন
শিল্প-কারখানা
গড়ে
উঠেছে,
যার
মাধ্যমে
বহু
কর্মসংস্থান
তৈরি
হয়েছে।
মিলের
বর্জ্য
ব্যবহার
করে
চিনিকলগুলো
মাড়াই
মৌসুমে
বিদ্যুৎ
উৎপাদন
করে।
এতে
বিদ্যুতের
খরচ
যেমন
সাশ্রয়
হয়,
তার
সঙ্গে
বর্জ্য
কাজে
লাগিয়ে
চিনিকলগুলোর
বর্জ্য
নিষ্কাশনের
জন্য
বাড়তি
খরচও
বেচে
যায়।
বর্জ্য
থেকে
প্রেসমাড
ব্যবহার
করে
কিছু
কিছু
মিলে
জৈব
সার
কারখানা
তৈরি
হয়েছে।
রাসায়নিক
সারের
বিকল্প
হিসেবে
এ
জৈব
সার
ব্যবহার
করে
স্থানীয়
কৃষি
খাত
উপকৃত
হয়।
আসবাব
বার্নিশের
জন্য
ব্যবহূত
স্পিরিটও
চিনিকলের
উপজাত
থেকে
তৈরি
হয়।
আখের
চিনি
উৎপাদন
করতে
গিয়ে
যে
উপজাত
তৈরি
হয়
তা
থেকে
কেরু
অ্যান্ড
কোম্পানি
ইথানল
প্রস্তুত
করে
এবং
এ
ইথানল
কাজে
লাগিয়ে
যে
জীবাণুনাশক
তৈরি
হয়
তা
বাংলাদেশের
সরকারি
হাসপাতালগুলোতে
কম
মূল্যে
সরবরাহ
করা
হয়।
আমরা
দেখেছি,
নভেল
করোনাভাইরাস
অতিমারী
শুরুর
পর
যখন
হ্যান্ড
স্যানিটাইজারের
চাহিদা
বাড়তে
থাকে
তখন
দামও
বাড়তে
থাকে।
সে
সময়
রাষ্ট্রায়ত্ত
চিনিকল
বাজারের
অন্যান্য
স্যানিটাইজারের
চেয়ে
অনেক
কম
দামে
স্যানিটাইজার
সরবরাহ
করতে
সক্ষম
হয়েছিল।
এছাড়া
চিনিকলগুলো
থেকে
উৎপাদিত
ইথানল
সারা
দেশে
বিভিন্ন
বেসরকারি
কোম্পানি
কিনে
নিয়ে
তা
দিয়ে
জীবাণুনাশক
ছাড়াও
আরো
অনেক
কিছু
তৈরিতে
ব্যবহার
করে
থাকে।
অর্থাৎ
বৈশ্বিক
যেকোনো
দুর্যোগের
সময়
যখন
সারা
বিশ্বে
উৎপাদন,
আমদানি
রফতানি
ব্যাহত
হয়
তখন
দেশীয়
শিল্পগুলো
স্থানীয়ভাবে
আমাদের
সুরক্ষার
কবচ
হিসেবে
আবির্ভূত
হয়।
স্থানীয় বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা: দেশের চাহিদা
পুরোটা
মেটানোর
সক্ষমতা
বাংলাদেশের
রাষ্ট্রায়ত্ত
চিনিকলগুলোর
কখনোই
ছিল
না।
সবসময়ই
উৎপাদনের
বাইরে
চিনি
আমদানি
করতে
হতো।
২০০২
সালের
আগ
পর্যন্ত
বাংলাদেশ
চিনি
ও
খাদ্য
শিল্প
করপোরেশন
(বিএসএফআইসি) এককভাবে
চিনি
উৎপাদন
ও
আমদানি
উভয়ই
করত।
সরকারের
নিয়ন্ত্রণ
থাকায়
বিএসএফআইসি
বহু
দিন
দেশের
অভ্যন্তরীণ
বাজারে
চিনির
মূল্য
নিয়ন্ত্রণ
করে
আসতে
পেরেছে।
এ
চিনিকলগুলোর
কারণেই
দেশব্যাপী
বিস্তৃত
বিপণন
নেটওয়ার্কের
মাধ্যমে
নির্ধারিত
দামে
সুষ্ঠু
বিপণনের
মাধ্যমে
ভোক্তাসাধারণের
স্বার্থ
সংরক্ষণ
করে
আসা
সম্ভব
হয়েছে।
২০০২
সালে
চিনির
বাজার
উদারীকরণের
ফলে
চিনি
আমদানি
অবাধ
হয়ে
যায়
আর
শুরু
হয়
বেসরকারি
পর্যায়ে
আমদানিকারকদের
সাদা
চিনি
আমদানি
করে
বাজারজাত।
এরপর
থেকেই
বৈশ্বিক
প্রতিযোগিতার
সম্মুখীন
হয়ে
চিনি
শিল্প
ধীরে
ধীরে
নিয়ন্ত্রণ
হারাতে
শুরু
করে।
২০০৪
সাল
থেকে
পর্যায়ক্রমে
বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানগুলো
ছয়টি
বেসরকারি
সুগার
রিফাইনারি
প্রতিষ্ঠা
করে
র-সুগার
আমদানি
করে
পরিশোধিত
চিনি
বাজারজাত
শুরু
করে।
এর
মধ্যে
চালু
আছে
পাঁচটি
এবং
এ
পাঁচটি
বেসরকারি
রিফাইনারি
প্রতি
বছর
উৎপাদন
করতে
পারে
প্রায়
৩২
লাখ
টন
চিনি।
রিফাইনারস
অ্যাসোসিয়েশন
ধীরে
ধীরে
শক্তিশালী
হয়ে
উঠতে
শুরু
করে
ও
বৈশ্বিক
বাজার
থেকে
নিম্নমানের
এবং
স্বাস্থ্যের
জন্য
ক্ষতিকারক
র-সুগার
আমদানি
করে
তা
রিফাইন
করে
স্থানীয়
বাজারে
আধিপত্য
সৃষ্টি
করতে
শুরু
করে।
এর
আগে
বিএসএফআইসি
যখন
নিজে
আমদানি
করত
তখন
ভোক্তাসাধারণের
স্বার্থ
মাথায়
রেখেই
চিনির
দাম
নির্ধারণ
করত।
বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানগুলোকে
রিফাইন
করার
সুযোগ
দেয়ার
পর
থেকেই
চিনির
দামের
ওপর
একক
নিয়ন্ত্রণ
চলে
যায়
ও
রাষ্ট্রায়ত্ত
চিনিকলগুলো
প্রতিযোগিতার
মুখে
ধীরে
ধীরে
দুর্বল
হতে
থাকে।
এ মাসেই
(সেপ্টেম্বর ২০২১)
আমরা
চিনির
বাজারে
অস্থিতিশীলতা
লক্ষ
করেছি।
২০২০
সালেও
চিনির
দাম
৬০
টাকার
নিচে
ছিল।
আর
এ
বছরের
বড়
অংশজুড়ে
বাজারে
প্রতি
কেজি
চিনির
দাম
৬০
থেকে
৬৫
টাকার
মধ্যে
ছিল।
গত
আগস্টের
শুরু
থেকে
চিনির
দাম
বাড়তে
থাকে।
চিনির
দাম
বেড়ে
৮০
টাকায়
উঠে
গিয়েছিল।
ঠিক
এমন
সময়
বাংলাদেশ
সুগার
রিফাইনারস
অ্যাসোসিয়েশন
আন্তর্জাতিক
বাজারে
চিনির
দাম
বাড়ার
অজুহাত
দেখিয়ে
৫
সেপ্টেম্বর
প্রতি
কেজি
খোলা
চিনির
দাম
৮৫
টাকা
ও
প্যাকেটজাত
চিনির
দাম
৯৮
টাকা
করার
প্রস্তাব
করে।
পরে
বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়ের
সঙ্গে
আলোচনা
করে
সর্বোচ্চ
খুচরা
মূল্য
৭৪
টাকা
ও
প্রতি
কেজি
প্যাকেটজাত
চিনির
সর্বোচ্চ
খুচরা
মূল্য
৭৫
টাকা
নির্ধারণ
করা
হয়েছে।
অর্থাৎ
২০২০
সালেও
রাষ্ট্রায়ত্ত
চিনিকলের
চিনির
দাম
৫৩
থেকে
৫৭
টাকার
মধ্যে
ছিল।
আর
২০২১
সালে
এসে
রিফাইনাররা
৮৫
থেকে
৯৮
টাকা
করার
প্রস্তাব
দিয়েছে।
স্পষ্ট
বোঝা
যায়,
বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানগুলো
আমদানীকৃত
চিনি
কোনো
কারণ
পেলেই
বেশি
দামে
বিক্রি
করার
সুযোগ
খোঁজে।
শুধু
এ
মাসেই
নয়,
এর
আগেও
বহুবার
বেসরকারি
উৎপাদকরা
চিনির
দাম
নিজেদের
সুবিধামতো
কমানো-বাড়ানোর
চেষ্টা
করেছে
হয়
রাষ্ট্রায়ত্ত
চিনিকলের
সঙ্গে
প্রতিযোগিতা
করে
বেশি
চিনি
বিক্রির
উদ্দেশ্যে
অথবা
মুনাফালাভের
আশায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত
চিনিকলগুলো
সংকটের
সময়
মজুদ
রাখায়
অনেকাংশে
তাদের
ওই
চেষ্টা
ব্যাহত
করেছে
সরকার।
সরকারের
জন্য
বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানগুলোকে
নিয়ন্ত্রণে
রাখার
জন্য
রাষ্ট্রায়ত্ত
চিনিকলগুলোর
উৎপাদন
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
পালন
করেছে।
দরকষাকষিতে
বিএসএফআইসি
অন্যতম
স্টেকহোল্ডারের
ভূমিকা
পালন
করে
এসেছিল।
বিএসএফআইসি
দুর্বল
হলে
সবার
আগে
লাভবান
হয়
বেসরকারি
রিফাইনাররা,
বেশি
ক্ষতিগ্রস্ত
হয়
এ
দেশের
সাধারণ
মানুষ।
চিনিকল বন্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি শ্রমিক অসন্তোষ: যদিও
কর্তৃপক্ষ
বলেছিল
শ্রমিক-কর্মচারীদের
বদলি
করে
চালু
মিলগুলোতে
তাদের
নতুন
করে
নিয়োগ
দেয়া
হবে,
কিন্তু
পরে
স্থায়ী
শ্রমিক-কর্মচারীদের
সুবিধাবঞ্চিত
করে
কিছুটা
সমন্বয়
করা
গেলেও
অস্থায়ী
ও
মৌসুমি
শ্রমিক-কর্মচারীদের
আগের
মতো
সমন্বয়
করা
সম্ভব
হয়ে
ওঠেনি।
নর্থ
বেঙ্গল
চিনিকলে
অতিরিক্ত
কর্মচারী
নিয়োগের
ফলে
অস্থায়ী
শ্রমিক-কর্মচারীরা
চাকরি
হারানোর
আশঙ্কা
থেকে
পথে
নেমে
সমাবেশ
করেছেন।
তাদের
মতে,
এই
অতিরিক্ত
শ্রমিক
নিয়োগের
ফলে
উৎপাদন
খরচ
বৃদ্ধি
পেলে
মিল
আরো
অর্থনৈতিকভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত
হবে
এবং
লোকসানের
কারণে
পরবর্তী
সময়ে
মিল
বন্ধ
করার
উদ্যোগ
নেবে
সরকার।
তাছাড়া
অনেক
মিলে
বহু
দিন
শ্রমিকদের
পাওনা
পরিশোধ
করা
হয়নি
বলে
এখনো
শ্রমিক-কর্মচারীদের
মধ্যে
অসন্তোষ
বিরাজ
করছে।
অবসরপ্রাপ্ত
কর্মচারী
ও
অফিসাররা
বহু
বছর
পর
এখনো
তাদের
প্রভিডেন্ট
ফান্ডের
টাকা
পাননি।
এর
মধ্যে
অবসরপ্রাপ্ত
অফিসারদের
কেউ
কেউ
করোনাকালে
মৃত্যুবরণ
করেছেন।
আন্দোলন
করতে
গেলেই
তাদের
নানা
ধরনের
আশ্বাস
ও
ভয়ভীতি
প্রদর্শন
করা
হয়।
এ
নিয়ে
শ্রমিক-কর্মচারী
কৃষকদের
মধ্যে
তীব্র
অসন্তোষ
বিরাজ
করছে।
দীর্ঘদিন
ধরে
তারা
আন্দোলন
কর্মসূচি
চালিয়ে
যাচ্ছেন।
কৃষকের ক্ষতি:
সরকার
আখের
মূল্য
নির্ধারণ
করে
দেয়ার
কারণে
আখচাষীরা
আখ
চাষের
আগে
নিশ্চিতভাবে
জানতেন
যে
তাদের
আখের
ক্রেতা
রয়েছে।
অবিক্রীত
থাকার,
দাম
না
পাওয়ার
ঝুঁকি
কম
ছিল।
অন্যদিকে
বাজারে
সবজি
ও
ধানের
দাম
ওঠানামা
করায়
আখচাষীরা
অন্য
কিছুর
তুলনায়
আখ
চাষে
কিছুটা
নিশ্চয়তা
পেতেন।
লাভ
কম
হলেও
বিক্রির
নিশ্চয়তা
তাদের
আখ
চাষে
উদ্বুদ্ধ
করত।
মিলগুলো
বন্ধ-পরবর্তী
কৃষকদের
ঋণ
দেয়া,
সার,
কীটনাশক
বিতরণ
বন্ধ
হয়ে
যাওয়ায়
এরই
মধ্যে
আখচাষীরা
আখের
বদলে
অন্য
ফসল
চাষ
শুরু
করে
দিয়েছেন।
এতে
পরের
বছর
অন্য
শস্যে
সরবরাহ
বেশি
হওয়ায়
ন্যায্য
দাম
পাওয়ার
সম্ভাবনাও
কমে
যাবে।
চাষীদের
আয়ে
অনিশ্চয়তা
বাড়বে।
যদিও
চিনিকল
কর্তৃপক্ষ
দাবি
করেছিল,
এক
অঞ্চলের
কৃষকদের
উৎপাদিত
আখ
নিয়ে
তারা
অন্য
মিলে
মাড়াই
করবেন,
কিন্তু
আদতে
কৃষকরা
তাদের
আখ
নিয়ে
এক
মিল
থেকে
অন্য
মিলে
যেতে
যেতে
আখ
অনেক
ক্ষেত্রে
শুকিয়ে
গেছে।
কেউ
কেউ
বিক্রি
করতে
না
পেরে
আখ
পুড়িয়ে
ফিরে
এসেছেন।
আখের উৎপাদন হ্রাস: সেতাবগঞ্জে কৃষকদের
সঙ্গে
আলাপ
করতে
গিয়ে
জেনেছিলাম,
তারা
অনেকেই
আখ
চাষ
না
করার
সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন।
২০২০-২১
মাড়াই
মৌসুমে
যে
ভয়াবহ
অভিজ্ঞতার
মধ্য
দিয়ে
গেছেন
তাতে
আশঙ্কা
করা
হচ্ছে,
আখ
চাষ
২০২১-২২
মাড়াই
মৌসুমে
আরো
কমে
যাবে।
প্রতি
বছর
আখচাষীরা
সরকারের
কাছ
থেকে
বীজ
ও
সার
বাবদ
ঋণ
পেতেন
এবং
মাড়াই
মৌসুমে
সরবরাহ
করে
সেখান
থেকে
আখের
বিনিময়ে
তাদের
কাছ
থেকে
ঋণের
টাকা
কেটে
রাখা
হতো।
কিন্তু
২০২০-২১
মৌসুমে
কৃষকদের
আগের
মতো
ঋণ
দেয়া
হয়নি
এবং
সেক্ষেত্রে
যা
রোপণ
হয়েছে
ধারণা
করা
হচ্ছে,
যে
আখ
উৎপাদন
আগের
বছরের
চেয়ে
অনেক
কমে
অর্ধেকও
হয়ে
যেতে
পারে।
তবে
এ
বিষয়ে
বিএসএফআইসি
পুরো
তথ্য
প্রকাশ
করেনি।
আমরা
জানি,
আখ
উৎপাদন
কম
হলে
চিনি
উৎপাদন
কম
হবে
এবং
সেই
সঙ্গে
প্রতি
কেজি
চিনির
উৎপাদন
খরচ
বাড়বে।
লোকসানের আশঙ্কা: করপোরেশনের
সিদ্ধান্ত
অনুযায়ী
বন্ধ
হওয়া
চিনিকলে
চিনি
উৎপাদন
বন্ধ
হলেও
ওই
এলাকায়
উৎপাদিত
আখ
কাছের
চালু
মিলগুলোয়
সরবরাহ
করা
হলে
চিনি
উৎপাদন
বাড়াবে।
যেমন
ঠাকুরগাঁও
চিনিকল
বন্ধ
হয়ে
যাওয়া
পঞ্চগড়
ও
সেতাবগঞ্জ
চিনিকলসংলগ্ন
এলাকা
থেকে
আখ
এনে
মাড়াই
করে।
নতুন
সিদ্ধান্ত
অনুযায়ী
জয়পুরহাট
চিনিকল
আখ
আনছে
শ্যামপুর
ও
রংপুর
থেকে,
নর্থ
বেঙ্গল
চিনিকল
আনছে
পাবনা
থেকে,
মোবারকগঞ্জ,
কেরু
ও
ফরিদপুর
চিনিকল
আনছে
কুষ্টিয়া
থেকে।
কোনো
কোনো
চিনিকল
থেকে
আখ
উৎপাদন
এলাকার
দূরত্ব
এত
বেশি,
যেসব
পুরনো
ও
কম
শক্তিসম্পন্ন
ট্রাক
ব্যবহার
করে
এগুলো
এক
অঞ্চল
থেকে
অন্য
অঞ্চলে
নেয়া
হয়,
সেগুলোর
সর্বনিম্ন
২-৩
ঘণ্টা
থেকে
সর্বোচ্চ
৭-৮
ঘণ্টা
পর্যন্ত
লেগে
যেতে
পারে
আখ
পরিবহন
করতে।
আখ
মাঠ
থেকে
সংগ্রহের
পর
মিলে
আনতে
আনতে
এমনিতেই
সুক্রোজের
পরিমাণ
কমে
যায়
ও
চিনি
আহরণ
ক্ষমতা
কমে
যায়,
এর
সঙ্গে
দূরত্ব,
সঠিক
তদারকির
অভাব,
সমন্বয়হীনতা
এবং
জ্বালানি
খরচ
যোগ
হলে
উৎপাদন
খরচ
আরো
বেড়ে
যাওয়ার
আশঙ্কা
থাকে।
২০২০-২১
মাড়াই
মৌসুমের
পর
২০২১-২২
মাড়াই
মৌসুমে
যেই
আখ
উৎপাদন
হবে
তার
জন্য
সরকার
যেহেতু
ঋণ
দেয়নি,
কাজেই
এ
কারণেও
লোকসান
পরের
বছর
আরো
বাড়তে
পারে।
(সর্বজনকথা সংবাদ
সম্মেলন,
২০২০)
স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষতি: চিনিকলগুলোকে ঘিরে
গড়ে
উঠেছিল
যে
স্থানীয়
অর্থনৈতিক
নির্ভরতার
সম্পর্ক,
তা
ব্যাহত
হতে
শুরু
করেছে
ছয়টি
মিল
বন্ধের
সঙ্গে
সঙ্গে।
আখের
যে
বর্জ্য
থেকে
তৈরি
প্রেসমাড
বন্ধ
হয়ে
যাওয়া
মিলের
আশপাশের
কৃষিকাজে
সার
হিসেবে
ব্যবহার
করা
হতো,
তা
আর
নেই।
বাগাস
ও
মোলাস
কেনাবেচা
করে
তৈরি
হওয়া
ব্যবসায়ী
শ্রেণীকে
নিরুপায়
হয়ে
অন্য
কিছু
খুঁজতে
হচ্ছে।
মিল
এলাকা
ঘিরে
গড়ে
উঠেছিল
হোটেল,
রেস্টুরেন্ট,
বাজার,
পরিবহন
ব্যবস্থা,
ব্যাংক
ছাড়াও
আরো
অন্যান্য
সেবামূলক
প্রতিষ্ঠান।
মিলের
শ্রমিক-কর্মচারীও
মিলকেন্দ্রিক
ব্যবসায়ীদের
আয়
বন্ধ
হয়ে
যাওয়ায়
এই
ভোক্তাদের
ওপর
নির্ভরশীল
প্রতিষ্ঠানের
ব্যবসা
ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে।
তার
ওপর
অতিমারীর
প্রভাবে
বিপর্যস্ত
হয়েছে
নানা
শ্রেণীর
মানুষের
জীবন।
কর্মহীন
হয়ে
সামাজিক,
রাজনৈতিক
ও
সাংস্কৃতিক
জীবনও
বিপর্যস্ত
হয়েছে।
আর্থিক
ক্ষতির
বাইরে
এসব
ক্ষতির
মূল্য
দিতে
হবে
এমনসব
মানুষকে—যাদের
কোনো
দায়িত্ব
ছিল
না
চিনিকলের
ব্যবস্থাপনার।
দুর্নীতি
ও
অব্যবস্থাপনার
মাশুল
দিতে
গিয়ে
একেকটি
অঞ্চলের
ধীরে
ধীরে
গড়ে
ওঠা
জনপদ
ক্ষতিগ্রস্ত
হতে
শুরু
করেছে
এরই
মধ্যে।
রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে সংকটের কারণ
অনুসন্ধান: রাষ্ট্রীয় চিনিকলগুলোর
সংকটের
একটা
বড়
কারণ
চিনির
উৎপাদন
খরচ
আমদানি
করা
চিনির
বাজারদরের
তুলনায়
অনেক
বেশি।
এ
খরচের
একটা
বড়
অংশ
আবার
ঋণের
সুদ।
যেমন
রংপুর
চিনিকলে
প্রতি
কেজি
চিনি
উৎপাদনে
২০১৯-২০
মৌসুমে
খরচ
হয়েছে
১৮৬
টাকা
২৪
পয়সা।
এই
চিনিকলের
১৫৮
কোটি
টাকা
ব্যাংক
ঋণ
আছে।
এর
সুদ
হিসাব
করলে
প্রতি
কেজি
চিনির
উৎপাদন
খরচ
দাঁড়ায়
৩১১
টাকা
৯৭
পয়সা।
সেই
চিনি
বিক্রি
হয়েছে
মাত্র
৫৩
টাকা
৩৫
পয়সা
কেজি
দরে।
পঞ্চগড়
চিনিকলে
একই
মৌসুমে
প্রতি
কেজি
চিনির
উৎপাদন
খরচ
ছিল
৩০২
টাকা
(সুদসহ)।
একইভাবে
প্রতি
কেজি
উৎপাদনে
কুষ্টিয়ায়
২৭৩,
শ্যামপুরে
২৬২,
সেতাবগঞ্জে
২৪৯
এবং
পাবনায়
৭৮
টাকা
ব্যয়
হয়েছে।
আর
বিক্রি
হয়েছে
৫৩
থেকে
৫৭
টাকা
কেজি
দরে।
(প্রথম
আলো, ৩
ডিসেম্বর
২০২০)
এ সংকট
ত্বরান্বিত
হতে
থাকে
সরকার
প্রয়োজন
অনুযায়ী
নতুন
করে
বিনিয়োগ
না
করে
যখন
চিনিকলগুলোকে
ঋণ
নিতে
বাধ্য
করে।
সুদ
পরিশোধ
না
করায়
দিনে
দিনে
ঋণের
বোঝা
বেড়ে
গেছে।
এর
সঙ্গে
নানা
রকম
অব্যবস্থাপনা,
দুর্নীতিযুক্ত
হয়ে
লোকসানের
পরিমাণ
দিনে
দিনে
বাড়তে
থাকে।
উল্লেখ্য,
কৃষকরা
ঋণ
নিলে
তা
তারা
আখ
সরবরাহ
করে
পরিশোধ
করত
ঠিকই,
কিন্তু
মিল
তার
ঋণ
পরিশোধ
করতে
ব্যর্থ
হতো।
কাজেই
এ
সংকটের
মূলে
রয়েছে
অব্যবস্থাপনা,
জবাবদিহিতা
ও
সমন্বয়ের
অভাব।
কোনো
কোনো
চিনিকলের
কর্মচারীরা
অভিযোগ
করেছেন,
কোটি
কোটি
টাকা
দিয়ে
নতুন
সেন্ট্রিফুগাল
মেশিন
কিনে
আনার
পর
অচল
হয়ে
যাওয়ায়
ফেলে
রাখা
যন্ত্রাংশ
বেশি
দাম
দিয়ে
কেনা,
কাঁচামাল
কেনাকাটায়
অনিয়ম,
পুর্জি
বিতরণে
অনিয়ম,
এসব
কারণে
দিনে
দিনে
উৎপাদন
খরচ
বেড়ে
গেছে।
অথচ
প্রশাসন
চাইলে
এই
প্রতিবন্ধকতাগুলো
দূর
করতে
পারত।
উৎপাদন খরচ
বৃদ্ধির
পেছনে
অনেক
কারণের
মধ্যে
রয়েছে
আখ
চাষে
কৃষকদের
যথেষ্ট
উদ্বুদ্ধ
করতে
না
পারা,
আখের
জমির
পরিমাণ
হ্রাস,
আখ
উৎপাদন
হ্রাস,
আখ
থেকে
চিনি
আহরণ
হার
কমে
যাওয়া,
পুরনো
মিলগুলোর
অবক্ষয়,
উৎপাদনক্ষমতা
হ্রাস
ইত্যাদি।
এর
সবই
সমাধান
সম্ভব
ছিল।
কিন্তু
তা
করা
হয়নি,
বরং
অব্যবস্থাপনাকে
জিইয়ে
রেখে
এমন
পরিস্থিতি
তৈরি
করা
হয়েছে,
একদিকে
যেমন
ঋণের
বোঝা
বেড়েছে,
তেমনি
অন্যদিকে
দিনে
দিনে
উৎপাদন
ক্ষমতা
হ্রাস
পেয়েছে।
(এ বিষয়ে
আরো
বিস্তারিত
জানা
যাবে
সর্বজনকথা
২০১৬
সংখ্যার
ফেব্রুয়ারি
ইস্যুতে
প্রকাশিত
‘আখ
চাষ
ও
রাষ্ট্রায়ত্ত
চিনিকল:
সংকট
কেন?’
শিরোনামের
লেখাটিতে)
বিনিয়োগ না
ভর্তুকি?: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে
সরকার
কোনো
আর্থিক
সুযোগ-সুবিধা
দিলেই
তাকে
ভর্তুকি
হিসাবে
আখ্যায়িত
করার
একটি
চিরাচরিত
অভ্যাস
আমাদের
তৈরি
হয়ে
আছে।
অথচ
যেকোনো
মিল
পুরনো
হয়ে
গেলে
সেখানে
নতুন
করে
বিনিয়োগ
প্রয়োজন।
পৃথিবীর
বিভিন্ন
দেশে
আর্থসামাজিক
দিক
থেকে
গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিষ্ঠানে
যেখানে
শিল্পের
ব্যাকওয়ার্ড
ও
ফরোয়ার্ড
লিংকেজ
থাকে,
যেখানে
ঐতিহ্যগতভাবে
কৃষক
শ্রমিকের
কর্মসংস্থান
সৃষ্টি
হয়,
যেখানে
বহু
দিন
ধরে
পারস্পরিক
লেনদেনের
গভীর
সম্পর্ক
তৈরি
হয়ে
আছে,
সেখানে
কৌশলগত
কারণেই
সরকার
আর্থিক
বিনিয়োগ
করে
থাকে।
আশির
দশক
থেকে
নব্য
উদারবাদ
আমাদেরকে
কিছু
বুলি
শিখিয়েছে।
তার
মধ্যে
একটি
বহুল
ব্যবহূত
বুলি
হলো,
ভর্তুকি
কেন
দিতে
হবে?
তবে
এ
প্রশ্ন
করার
সময়
কারো
মাথায়
থাকে
না
যে
যুক্তরাষ্ট্র
ও
ইউরোপের
অনেক
দেশ
কৃষিভিত্তিক
শিল্পে
ভর্তুকি
দিয়ে
থাকে।
আবার
যেকোনো
উৎপাদক
তা
রাষ্ট্রায়ত্ত
হোক
আর
বেসরকারি
হোক,
লাভক্ষতি
একটি
স্বাভাবিক
প্রক্রিয়া
এবং
সাময়িক
লোকসান
হলেও
ব্যবস্থাপনা
পরিবর্তন
এবং
উন্নত
করার
মধ্য
দিয়ে
লাভ
করার
উদ্যোগ
নেয়া
যায়
এবং
সেজন্য
ভর্তুকিকে
বিনিয়োগ
হিসেবেই
দেখা
উচিত।
কিন্তু
নব্য
উদারবাদী
সংস্কৃতি
নীতি-নির্ধারকদের
মস্তিষ্কে
যে
ভর্তুকিবিরোধী
বীজ
বপন
করে
গেছে
তাতে
ভর্তুকি
জনকল্যাণমূলক
কাজে
ব্যবহূত
না
হয়ে
বেসরকারি
খাতকে
নানাভাবে
পরোক্ষভাবে
ভর্তুকি
দেয়ার
ব্যবস্থা
পাকা
করে
চলেছে।
আর
এগুলো
এমন
কারসাজি
করে
করা
হয়
যেন
জনগণ
বুঝতে
না
পারে
কে
ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে
কার
স্বার্থে।
মডার্ন ও
ট্র্যাডিশনাল সোসাইটির বিভেদের মাঝে
চিনিকল: অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধিতত্ত্বের
মধ্যে
একটি
তত্ত্ব
হলো
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধির
ধাপ
মডেল।
এই
তত্ত্ব
অনুযায়ী
কোনো
দেশ
উন্নত
হচ্ছে
কিনা
তা
বোঝার
একটি
চিহ্ন
হলো
কৃষিভিত্তিক
সমাজ
থেকে
শিল্পভিত্তিক
সমাজে
রূপান্তর।
অর্থাৎ
কৃষিভিত্তিক
সমাজ
হলো
অনুন্নত
ধাপ
আর
শিল্পভিত্তিক
সমাজ
হলো
যা
কৃষি
ঐতিহ্যকে
পেছনে
ফেলে
সামনে
এগিয়ে
গেছে
উন্নয়নের
দুর্বার
আকর্ষণে।
অনেকেই
মনে
করে,
কৃষিভিত্তিক
শিল্প
উঠিয়ে
দিয়ে
এসব
জায়গায়
নতুন
ইকোনমিক
জোন
তৈরি
হলে
সমস্যা
দূর
হয়ে
যাবে।
কিন্তু
লক্ষ্য
করলে
দেখা
যাবে,
যুক্তরাষ্ট্রের
মতো
দেশ
বায়োটেকনোলজি,
নিউক্লিয়ার
টেকনোলজি,
আর্টিফিশিয়াল
ইন্টেলিজেন্স,
রোবটিক্স,
সবকিছুতে
এগিয়ে
গেলেও
চিনিকল
বন্ধ
করেনি।
উল্টো
স্থানীয়
চিনিকল
বাঁচিয়ে
রেখেছে
ভর্তুকি
দিয়ে
হলেও।
আর
আমরা
অন্ধভাবে
আধুনিকতাকে
অনুসরণ
করতে
গিয়ে
দিনে
দিনে
আমদানিনির্ভর
অর্থনীতি
হয়ে
উঠছি।
চিনির
মতো
স্থানীয়
কৃষিভিত্তিক
শিল্পকে
সুরক্ষার
কৌশলগত
কারণ
যদি
নীতিনির্ধারকরা
অনুধাবন
করতে
না
পারেন,
তাহলে
শতবর্ষের
গড়ে
ওঠা
শিল্প
বিলুপ্তির
পর
একসময়
জাতি
হিসেবে
আমরাও
অন্তঃসারশূন্য
আধুনিকতার
গৌরব
নিয়ে
বিদেশী
উদ্ধারকর্তার
অপেক্ষায়
বসে
থাকব।
কথা
উঠছে,
এ
চিনিকলগুলোতে
জাপান
বা
থাইল্যান্ডের
বিনিয়োগকারীরা
বিনিয়োগ
করতে
চায়।
সরকার
এ
প্রস্তাব
বিবেচনা
করছে।
সব
বিনিয়োগ
ও
উদ্যোক্তা
যদি
বিদেশ
থেকেই
আনা
হয়
তাহলে
জাতি
হিসেবে
আমরা
গত
৫০
বছরে
আসলে
ঠিক
কী
শিখেছি
সেটাই
প্রশ্নসাপেক্ষ।
চিনিকল
ব্যবস্থাপনা
যদি
এত
কঠিন
কাজ
হতো
তাহলে
গত
৫০
বছরে
এগুলো
চালানোই
যেত
না।
কাজটা
এতটা
কঠিন
নয়।
কিন্তু
তবু
বিদেশী
বিনিয়োগকারীদের
কাছে
দিলেই
যদি
এ
মিলগুলো
লাভ
করা
শুরু
করে
আর
সরকার
ব্যর্থ
হয়
তাহলে
সরকারের
কাছে
প্রশ্ন—গত
৫০
বছরে
কি
কিছুই
শিখলেন
না?
আর
উন্নয়নের
সফলতা
আসলে
কী?
নিজ
দেশের
শিল্প
বহিরাগতদের
হাতে
তুলে
দেয়া?
মোশাহিদা সুলতানা: শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়





