আজ শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর ঢাকায় আসছেন এই সময়ের অন্যতম বিশ্ব অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন চীনা প্রেসিডেন্ট লি জিয়ানইয়ান ঢাকা সফর করেছেন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার পর সেটি ছিল কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম বাংলাদেশ সফর। এর ৩০ বছর পর শি জিনপিং হচ্ছেন দ্বিতীয় চীনা প্রেসিডেন্ট, যিনি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। অবশ্য তিনি যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখনো একবার ঢাকা সফর করে গেছেন। সে দিক থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের জন্য এ সফর গভীর তাত্পর্য বহন করছে। অবশ্য ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসের অষ্টম সম্মেলন। ঢাকা থেকে শি জিনপিং যাবেন ওই সম্মেলনে যোগ দিতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাবেন বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে। একদিকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বেশ চরম পর্যায়ে, জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলে উত্তেজনা ও হানাহানি, অন্যদিকে সার্ক সম্মেলন স্থগিত হয়ে যাওয়া— সবই এ অঞ্চলের বাস্তবতা। সে প্রেক্ষাপটে চীনা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর বেশ অর্থবহ। তাছাড়া শি জিনপিং হচ্ছেন এমনই একজন রাজনীতিবিদ ও সরকারপ্রধান, যিনি এশিয়ায় চীনকে হিমালয়ের উচ্চতায় তোলার পরিকল্পনা নিয়ে ধীর মস্তিষ্কে কাজ করছেন। চীন নিজস্ব ধ্যান-ধারণা মোতাবেক নিজস্ব অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিকে যে উদ্ভাবনী ক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলছে, তা এ সময়ের বিশ্ব বাস্তবতায় একেবারেই বিস্ময়কর এবং অভাবনীয়ও বটে। চীনা নেতা দেং শিয়াও পিং-এর সময় থেকে চীন সংস্কারের পথে পা দেয়ার পর চীনা আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচিত হতে থাকে। চীন সমাজতন্ত্রের মূল ধারা থেকে সরে এসে রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের নতুন ধারণার উদ্ভাবন করে। দেশটি এর বিপুল জনশক্তি কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক শক্তিকে যেমনি অবিশ্বাস্য রকমভাবে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে, একইভাবে সামাজিক ক্ষেত্রেও চীনে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। বস্তুত চীন তার সম্ভাবনার সব শক্তি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন রোডম্যাপ এঁকে চলছে, সংস্কারের নতুন নতুন ধারণা বা প্রত্যয় নিয়েও অগ্রসর হচ্ছে। এভাবেই চীন নিজেকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত করে চলছে। চীন এখন গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিরাজমান বৈষম্য দূরীভূত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। চীন এক্ষেত্রেও দ্রুতই নিজেকে বদলে দিতে সক্ষম হচ্ছে। এর মূলে রয়েছে— চীনা নেতৃত্ব, যারা দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন নতুন ধারণাকে যুক্ত করে গোটা দেশ এবং চীনা জাতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে শি জিনপিং যেকোনো বিবেচনায়ই তার পূর্বসূরিদের মতোই অগ্রসর, বাস্তবতা বোধসম্পন্ন ধীমান একজন নেতা। এশিয়ার প্রতিবেশী শক্তিগুলোর মধ্যে বিরাজমান আস্থা-অনাস্থা, বৈরী অবস্থার মধ্যেও চীন তার নিজস্ব স্বার্থে নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করে চলছে। চীন বাংলাদেশকে তার ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় আগের চেয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বেইজিং সফরে আমন্ত্রণ জানিয়ে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে নতুন উচ্চতায় তুলে আনার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। তখন স্বাক্ষরিত হয়েছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বেশক’টি ক্ষেত্রে চুক্তি এবং এমওইউ। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক এবং যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শি জিনপিংকে বাংলাদেশ সফরের যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সেটিরই ফিরতি সফর এটি। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন থেকে ঢাকায় আজ সকালে পৌঁছবেন। এখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং অন্যান্য নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের বাইরেও আমাদের সরকারপ্রধানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে মূল বৈঠক। এতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনার ধারণা চীন ও বাংলাদেশ সরকারপক্ষ দিচ্ছে। সে ধরনের প্রস্তুতি চলছে। শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর শুরু হওয়ার প্রাক্কালে চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে চীনের সরকারি দৈনিক গ্লোবাল টাইমস সফরটিকে দুদেশের সম্পর্কের উন্নয়নে ‘মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেছে। এতে চীনের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। শি জিনপিংয়ের সফরের তালিকা দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, তিনি তার বর্তমান সফরকে বহুমাত্রিক লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা থেকেই এগিয়ে নেবেন। যেটি জানা বিষয়, তা হচ্ছে চীনারা সব কথা আগেভাগে বলেন না, বুঝতে দিতেও চান না। তাদের এখনকার যেকোনো সিদ্ধান্ত বোঝা যাবে বেশকিছু পরে। বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে চীন অর্থনৈতিক শক্তি দিয়েই অনেক কিছু জয় করতে চায়, তার প্রভাব বৃদ্ধি করতে চায়— এটি স্পষ্ট। অন্য বিষয়গুলো তারা খুব সহজে সবাইকে বুঝতে দিতে চান না। বাংলাদেশ চীনের দৃষ্টিতে এ অঞ্চলে একটি সম্ভাবনাময় উদীয়মান শক্তি। তাছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক যে সীমানা রয়েছে, তাতে সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চীনের বিশেষ আগ্রহ লক্ষণীয়। ২০১৪ সালেই কক্সবাজারের অদূরে ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের চুক্তি হওয়ার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু ভারতের আপত্তির কারণে সে চুক্তি তখন স্বাক্ষরিত হতে পারেনি। এখানে দৃশ্যত ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচিত হয়েছে। বাংলাদেশও সে নিরাপত্তাবলয়ের বাইরে থাকার কোনো কারণ নেই। গভীর সমুদ্রবন্দরে যদি কোনো ধরনের চীনা সাবমেরিন ঘাঁটির অবস্থান না থাকে, সে ধরনের ক্লজ যুক্ত করে যদি সবার অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বন্দর গড়ে তোলা যায়, তাহলে শুধু বাংলাদেশই নয়, ভারতের ‘সাত বোন’ বলে খ্যাত পূর্বাঞ্চলও লাভবান হতে পারে। সেক্ষেত্রে চীনা ভূরাজনৈতিক কৌশলে মৌলিক পরিবর্তন ঘটিয়েই বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে গভীর সমুদ্রবন্দরের চুক্তি সম্পাদন হতে পারে। বাংলাদেশ চীন-ভারতের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও বলয়ে প্রবেশের কোনো অংশীদার হবে না— এ নীতিই গভীরভাবে সংরক্ষণ করবে— এটিই সবার আশা। তবে পায়রা বন্দর নির্মাণে চীনের আগ্রহের বিষয়টি বাংলাদেশ গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারে। সম্ভবত শি জিনপিংয়ের সফরে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে— এটিই প্রত্যাশিত। আগেই উল্লিখিত হয়েছে, বর্তমান চীনা প্রেসিডেন্ট নতুন নতুন ধারণাতত্ত্বেরও একজন প্রবক্তা। ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ তারই তত্ত্ব। প্রায় ৬১টি দেশকে তিনি তার এ তত্ত্বের ধারণায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর জন্য ৪৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় বরাদ্দ তার রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই চীন এমন কর্মসূচির প্রয়োগ ঘটাচ্ছে। সড়ক, রেল, সমুদ্র ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ রুট স্থাপনের মধ্য দিয়ে চীন তার অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সমৃদ্ধিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে চায়, গ্যাস-জ্বালানি-তেলসহ সব শক্তির উৎস কাজে লাগাতে চাচ্ছে। চীনের এমন নীতিকে বেশির ভাগ দেশই কোনো না কোনোভাবে প্রতিবেশী কারো না কারো নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখছে, সে কারণে আপত্তিও জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী সব দেশের স্বার্থ রক্ষার গ্যারান্টির বিধান রেখে শি জিনপিংয়ের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রুট’ তত্ত্বটি অধিকতর উদারবাদী করার মাধ্যমে প্রয়োগ ঘটানোর পরিস্থিতি তৈরিতে চীনকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই যথার্থ কানেক্টিভিটি তৈরি হতে পারে, সব দেশই অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আস্থার নতুন জায়গার নিশ্চয়তা পেতে পারে।

এমনিতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্কের বেশকিছু চুক্তি কার্যকর রয়েছে। ২০১২ সালে সামরিক সহযোগিতামূলক চুক্তিতে উভয় দেশ স্বাক্ষর করেছিল। ফলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমান ক্রয়ের বেশ বড় অংশ চীনের সঙ্গেই হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং যন্ত্র-প্রযুক্তি ক্রয়ও হচ্ছে চীন থেকে। ফলে এক ধরনের নির্ভরশীলতা চীনের ওপর বাংলাদেশের রয়ে গেছে। বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের প্রধান দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিধি বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তা হচ্ছে আমদানি-রফতানির প্রতিযোগিতায় ভীষণভাবে পিছিয়ে পড়াকে কাটিয়ে ওঠা। তাছাড়া চীনের মতো গোটা পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাধর শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের এঁটে ওঠা মোটেও সহজ নয়। চীনা পণ্যসামগ্রী বাংলাদেশের বাজার সয়লাব করে ফেলেছে। সস্তা দামের কারণেই চীনা পণ্যসামগ্রী ব্যাপকভাবে আমদানি হচ্ছে, বাংলাদেশ রফতানি প্রতিযোগিতায় সে কারণে টিকতে পারছে না। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ চীনে ৪৫৮ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে কিন্তু চীন থেকে আমদানি করতে হয়েছে ৬ হাজার ৩২৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিতে বাংলাদেশ পড়েছে। এ ঘাটতি বেড়েই চলছে। ২০১৩ সালে চীন পাঁচ হাজারের বেশি শুল্কমুক্ত বাংলাদেশী পণ্য চীনে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার পরও বাংলাদেশ সে সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। তবে চীনা উদ্যোক্তারা এরই মধ্যে ৩২০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করেছেন। এ ধারা আরো বৃদ্ধি করা গেলে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, চীনা প্রেসিডেন্টের সফরের সময় বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে নতুন কোনো ফর্মুলা পাবে কিনা— যা দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। শোনা যাচ্ছে, এ সফরের সময় বাংলাদেশে ২৫টি প্রকল্পে চীনা ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অন্তত দুটি বড় ধরনের প্রকল্পে অর্থায়নের কথা শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের বেশকিছু সতর্ক পরামর্শ রয়েছে। আমাদের ধারণা, সরকার বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক বৃদ্ধির অধিকতর আগ্রহকে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থেই ব্যবহার করবে— এ নিয়ে আমাদের সন্দেহ নেই। শি জিনপিং যেমন এ মুহূর্তে চীনে একজন অভিজ্ঞ, তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত, বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে চীনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বেশ পারদর্শী রাষ্ট্রনেতা হিসেবে আখ্যায়িত; বাংলাদেশেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হিসেবে একজন অভিজ্ঞ এবং দেশপ্রেমিক হিসেবে স্বীকৃত; বৈশ্বিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টিতে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। চীনা রাষ্ট্রপতি ঢাকায় আসার খবর প্রকাশের পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ সব রাষ্ট্রই গভীর দৃষ্টি রাখছে বাংলাদেশের দিকে। বাংলাদেশ বিষয়টি সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত। বাংলাদেশ নিজেদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি প্রতিবেশীসহ সব উদারবাদী মহলেই তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতিতে অটল থাকবে, জানালাও খুলে দেবে, সমৃদ্ধির বাতাসও বইতে দেবে; বদ্ধ হাওয়া নয়, বন্ধ জানালা নয়, সবার জন্য নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলাই এ রাষ্ট্রের মূলমন্ত্র— যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় শিখিয়ে গেছেন; শেখ হাসিনা সে নীতিই অনুসরণ করছেন। আমরা চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা আগমনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই, একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উঠে আসুক, এই অঞ্চলসহ সর্বত্র শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হোক— এটিই কামনা করছি।

 

লেখক: ডিন ও অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়