তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করা হচ্ছে

এখন আমরা তেল-গ্যাসের জন্য একটি ও বিদ্যুতের জন্য আলাদা আরেকটি পরিকল্পনা করতে যাচ্ছি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে সঞ্চালন বড় সমস্যা। তাই আমরা সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছি। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শিল্পায়ন, সেবা ও কৃষি খাতের জন্য তিনটি বিষয় জরুরি—নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ এবং শক্তিশালী ইন্টারনেট ব্যবস্থা। এগুলো নিশ্চিত করা গেলে সরকারের কিছু করা লাগবে না। বেসরকারি খাত ও তরুণ উদ্যোক্তারা নিজেরাই কাজ গুছিয়ে নিতে পারবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ‘ড্যাশবোর্ড’ স্থাপন করা হবে

আমাদের দেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন বড় সমস্যা। অনেক সময় শুধু দাতা সংস্থাকে খুশি করতে এমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, যা অর্জন করা সম্ভব নয়। এ সমস্যা দূর করতে আমরা পরিকল্পনা কমিশনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে মাসিক মনিটরিং রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি ‘ড্যাশবোর্ড’ স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে ক্লিক করলেই যেকোনো প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি দেখা যাবে। কোনো প্রকল্প পিছিয়ে পড়লে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিতে পারব।

সামাজিক সুরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি

বৈশ্বিক সংকটের কারণে আমাদের অনেক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে আমাদের অন্তত দুই বছরের সময় প্রয়োজন। এখন আমাদের প্রতিদিন ‘ফায়ার ফাইটিং’ করতে হচ্ছে। স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি দামে তেল-গ্যাস কিনতে গিয়ে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও আমরা সামাজিক সুরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার ও বীজ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’-এর দিকে যাচ্ছি

আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতে মানুষের ব্যক্তিগত খরচ সবচেয়ে বেশি। তাই আমরা প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দিচ্ছি। বর্তমানে আমরা ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’-এর দিকে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে অনেক বেশি ব্যয় বাড়লেও আমাদের সেদিকেই যেতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করা ছাড়া উপায় নেই। অন্যথায় জনমিতিক সুবিধা নিতে পারব না, অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হবে না এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানও পরিবর্তন হবে না।

সব রফতানি খাতকে একই সুবিধা দেয়া হবে

রফতানি খাত বহুমুখীকরণের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তার সবকিছুই করছি। তৈরি পোশাক খাত যে ধরনের সুবিধা ভোগ করছে, অন্য যেকোনো রফতানি শিল্পকেও ঠিক একই সুবিধা দেব। পরবর্তী বড় সম্ভাবনা হচ্ছে ইলেকট্রনিক খাত। ভিয়েতনাম ১ বিলিয়ন ডলার দিয়ে শুরু করে এখন ১৬০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি করছে। বাংলাদেশেও একই সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি হালকা প্রকৌশল খাতও আছে। সুতরাং যারাই রফতানি করবে, তাদের শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা দেয়া হবে।

তরুণদের আইসিটিতে দক্ষ করে তুলব

আইসিটি নিয়ে একটি বড় প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। আমাদের যে তরুণরা ম্যাট্রিক বা ইন্টার পাস করে বসে আছে, তাদের বড় একটি অংশকে আমরা আইসিটি খাতে দক্ষ করে তুলব। তারা হয় চাকরি করবে, না হয় আত্মকর্মসংস্থান করবে। আমাদের যে নতুন ইনভেস্টর আসছেন (গোল্ডম্যান স্যাকস থেকে), তিনিও একজন আইসিটি বিশেষজ্ঞ। তিনি সারা বিশ্বে এ খাতে বিনিয়োগ করছেন। সুতরাং আইসিটি খাতেও একটি বড় পরিবর্তন আসছে।