সশরীরে ব্যাংকে না গিয়েই প্রায় সব ধরনের লেনদেন করার সুযোগ দেয় মোবাইল ব্যাংকিং। কিন্তু যেহেতু ডিজিটাল ডাটা চুরির ক্ষেত্রে হ্যাকারদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু থাকে আর্থিক তথ্য, তাই অনেকের মনেই অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে। গবেষণা বলছে, সবচেয়ে নিরাপদ অ্যাপও সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। প্রতারকরা গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সময় সতর্ক থাকার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ রাখতে বলেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা—
অ্যাপের জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড
ফোন হারালে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যদি তাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকে। তাই মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের নিরাপত্তার প্রথম রক্ষাকবচ হলো শক্তিশালী ও অনন্য পাসওয়ার্ড। বড় এবং ছোট অক্ষর, সংখ্যা এবং চিহ্নের মিশ্রণে তৈরি পাস হ্যাকারদের জন্য অনুমান করা কঠিন হয়। সহজ পাসওয়ার্ড যেমন জন্মদিন, পোষা প্রাণীর নাম, সাধারণ শব্দ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
ব্যাংকিং অ্যাপ ডাউনলোডে সতর্কতা
নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ডাউনলোড করা জরুরি। অফিশিয়াল প্লাটফর্ম যেমন অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর বা গুগল প্লে ছাড়া অন্য কোনো সাইট থেকে অ্যাপ নামানো উচিত নয়। এছাড়া এমন সব সাইট এড়িয়ে চলতে হবে, যা কোনো ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মতো দেখায়। কারণ এগুলো হতে পারে প্রতারণার জন্য তৈরি করা ভুয়া সাইট।
ফিশিং লিংকে ক্লিক থেকে বিরত থাকা
ব্যাংকের ওয়েবসাইটে লগইন করার আগে ওয়েব ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। একটি নিরাপদ সাইটে ওয়েব ঠিকানার শুরুতে ‘https’ থাকবে, যা নির্দেশ করে যে সাইটে এনক্রিপ্টেড ডাটা ট্রান্সমিশন হচ্ছে। এটি ইন্টারনেটে ডাটা বা তথ্য পাঠানোর একটি সুরক্ষিত প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে পাঠানো তথ্য একটি কোড বা সিক্রেট কোডে পরিণত হয়, যা শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সিস্টেমই পড়তে পারে। অন্যদিকে ‘http’ সাইটগুলো নিরাপদ নয়, কারণ এতে কোনো এনক্রিপশন নেই।
ব্লুটুথ বন্ধ রাখা
ব্লুটুথ ব্যবহার না হলে মোবাইলে অর্থ লেনদেনের সময় ফিচারটি বন্ধ রাখা উচিত। কারণ জনপরিবেশ যেমন বাস স্টেশন বা পার্কে হ্যাকাররা ব্লুটুথের মাধ্যমে ফোনে প্রবেশ করার চেষ্টা করতে পারে।
ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
বৈধ ব্যাংক কখনই অনাকাঙ্ক্ষিত কল বা মেসেজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য চাইবে না। যদি কেউ দাবি করে তারা আপনার ব্যাংক থেকে কথা বলছে, তবু কোনো তথ্য দেয়া যাবে না। এমন অবস্থায় কলটি কেটে দিয়ে ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ থেকে সরাসরি ব্যাংকে যোগাযোগ করতে হবে।
গিজচায়না অবলম্বনে










