ব্যক্তিগত ও ক্রমবর্ধমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নগদবিহীন লেনদেন বাড়াচ্ছে দিন দিন। আধুনিক এ লেনেদেন অনেকে সময় বাঁচায়, রয়েছে অনেক সুবিধা। ফলে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এ লেনদেনগুলোর নিরাপত্তা। নিরাপত্তা দিকটি গ্রাহককে অবশ্যই যথাযথভাবে বিবেচনা ও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

অধিকাংশ নগদবিহীন লেনদেন ক্রেডিট, ডেবিট কার্ড বা বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই এসব লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। ভোক্তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে তারা নিশ্চিত হতে চান যে তাদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য নিরাপদ এবং কোনোভাবেই তা যেন ফাঁস না হয়। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের পেমেন্ট সিস্টেম নিরাপদ রাখা জরুরি, যাতে গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষিত থাকে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম বজায় থাকে।

নগদবিহীন লেনদেনের নিরাপত্তা সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—

এনক্রিপশন : নগদবিহীন লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান উপায়গুলোর একটি হলো এনক্রিপশন। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে সংবেদনশীল তথ্যকে একটি কোডে রূপান্তর করা হয়, যাতে অননুমোদিত কেউ সেটি পড়তে না পারে। যখন পেমেন্টসংক্রান্ত তথ্য এনক্রিপ্ট করা হয়, তখন হ্যাকারদের পক্ষে তা চুরি করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। অধিকাংশ পেমেন্ট সিস্টেম এনক্রিপশন ব্যবহার করে, তবে এই এনক্রিপশন যেন যথেষ্ট শক্তিশালী হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন: নিরাপত্তা বাড়ানোর আরেকটি কার্যকর উপায় হলো টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা দ্বিস্তরীয় যাচাইকরণ। এতে সাধারণ পাসওয়ার্ড বা পিন ছাড়াও অতিরিক্ত একটি নিরাপত্তা স্তর যোগ করা হয়। যেমন ব্যবহারকারীকে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি মোবাইলে পাঠানো একটি কোড প্রবেশ করতে হতে পারে। ফলে হ্যাকারদের জন্য অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

টোকেনাইজেশন: টোকেনাইজেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে সংবেদনশীল তথ্য—যেমন ক্রেডিট কার্ড নম্বর, একটি অনন্য টোকেনে রূপান্তরিত করা হয়। এ টোকেনটি আসল তথ্যের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। এমনকি যদি হ্যাকাররা টোকেনটি পেয়ে যায়, তবুও তারা সেটি দিয়ে কোনো অর্থ লেনদেন করতে পারবে না। ফলে এটি নগদবিহীন লেনদেনে একটি অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর যোগ করে এবং বর্তমানে টোকেনাইজেশন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা: প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা নগদবিহীন লেনদেনের নিরাপত্তা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব সিস্টেমে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়, যা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ যেমন অপ্রত্যাশিত খরচের ধরন বা অপরিচিত স্থান থেকে লেনদেন শনাক্ত করতে পারে। যদি কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ ধরা পড়ে, সিস্টেমটি তা চিহ্নিত করে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে। এতে প্রতারণামূলক লেনদেন রোধ হয় এবং ব্যবহারকারী ও ব্যবসা উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

নীতিমালা ও মানদণ্ড মেনে চলা: শিল্প মানদণ্ড মেনে চলাও নগদবিহীন লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য উপাদান। পেমেন্ট সিস্টেমগুলোকে অবশ্যই পেমেন্ট কার্ড ইন্ডাস্ট্রি ডাটা সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ডের (পিসিআই ডিএসএস)–মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলতে হয়, যেখানে নির্ধারিত থাকে কীভাবে একটি পেমেন্ট সিস্টেমকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। এ মানদণ্ড মেনে চলা নিশ্চিত করে যে পেমেন্ট সিস্টেম যথাযথভাবে সুরক্ষিত এবং গ্রাহকের তথ্য নিরাপদ।

শেষ কথা হলো নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা নিঃসন্দেহে অনেক, তবে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান শর্ত। এনক্রিপশন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, টোকেনাইজেশন, প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং শিল্প মানদণ্ডের প্রতি আনুগত্য—এ পাঁচটি বিষয় একত্রে নগদবিহীন লেনদেনকে নিরাপদ করে তোলে। এসব ব্যবস্থা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে, ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উভয়েই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এটাই নগদবিহীন রূপান্তরের প্রকৃত বিপ্লব।

সূত্র: ফাস্টারক্যাপিটাল ডটকম