এবার মৌলভীবাজার জেলায় ১ হাজার ২৬টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি। প্রতিমা নির্মাণ, রঙ করা, সাজসজ্জা ও মণ্ডপ প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন সংশ্লিষ্ট কারিগর ও শ্রমিকরা। পোশাক ও পরিধানপণ্য কেনাকাটায় বাড়ে ভিড়।
প্রতিমা নির্মাণ এ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অংশ। প্রতি সেট প্রতিমা তৈরিতে মজুরি সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিমার আকার, সংখ্যা, নকশা, নির্মাণশৈলী ও কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে এ ব্যয়ের পার্থক্য হয়। এর বাইরে প্রতিমা তৈরির উপকরণ, রঙ, অলংকরণ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার খরচ রয়েছে।
পূজার দিনগুলোতেও এ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে। সাধারণত তিন থেকে চারদিনের মূল উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মণ্ডপের আশপাশে বসে মেলা। স্থানীয় পর্যায়ের এসব মেলায় কেনাবেচার পরিমাণও কম নয়। যেকোনো মণ্ডপকেন্দ্রিক মেলাতেই কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়।
দুর্গা পূজার প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতেও। দর্শনার্থীদের যাতায়াত বাড়ার কারণে ব্যস্ততা বাড়ে পরিবহনসংশ্লিষ্টদের। রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত যান ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা এ সময় বাড়তি আয়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা, সাউন্ড সিস্টেম, খাবারের দোকান এবং অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সঙ্গেও যুক্ত হন অনেকে।
উৎসবের এ অর্থনৈতিক প্রবাহের সুবিধা পান মূলত স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পেশার মানুষ। বিশেষ করে যারা সারা বছর সীমিত আয়ের মধ্যে থাকেন, তাদের অনেকের জন্য দুর্গা পূজার মৌসুম বাড়তি উপার্জনের সুযোগ তৈরি করে। পূজাকে কেন্দ্র করে মানুষের কেনাকাটা ও ঘোরাঘুরি বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়, জোগান বাড়ে।










