সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে উৎসবের কেনাকাটা। নতুন পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল ও প্রসাধনসামগ্রী কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে শহরের বিভিন্ন বস্ত্রবিপণি, পাদুকালয় ও কসমেটিকসের দোকান। অন্যদিকে দুই বছর বিরতির পর ফিরে আসা ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলাতেও তৈরি পোশাক, ইমিটেশন গয়না, প্রসাধনসামগ্রী, খেলনা ও লোকজ পণ্যের পসরা ঘিরে বেড়েছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনা। তবে উৎসবের এ বেচাকেনার চিত্রের বিপরীতে স্বর্ণালংকারের বাজারে দেখা দিয়েছে মন্দা।
সাতক্ষীরা শহরের বস্ত্রবিপণিগুলোয় পূজার পোশাক কেনার আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। শাড়ি, থ্রি-পিস, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট ও শিশুদের পোশাক ঘিরে ক্রেতাদের পছন্দের বিস্তার ঘটেছে। পাশাপাশি জুতা-স্যান্ডেল ও প্রসাধনসামগ্রীর দোকানেও উৎসবের কেনাকাটার প্রভাব পড়েছে। পূজার পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা, ব্যাগ, চুড়ি, কানের দুল ও সাজসজ্জার উপকরণ কেনার প্রবণতা এসব পণ্যের বাজারকে সক্রিয় রেখেছে।
শহরের সুলতানপুর বড় বাজার সড়কের এসআর ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মো. কামরুজ্জামান সুমন জানান, দুই-তিন বছরের ব্যবধানে এবারের দুর্গোৎসবে কেনাবেচা খুবই ভালো। বিশেষ করে নারীরা পূজায় শাড়ি বেশি পছন্দ করছেন। তাছাড়া থ্রি-পিস, প্যান্ট, শার্টসহ অন্যান্য পোশাকের চাহিদাও ভালো বলে জানান তিনি।
শহরের থানা সড়কের নিউ সু হাউজে সাধারণ কেনাবেচার বাইরে পূজা উপলক্ষে মূল্যছাড় ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পূজায় সব ধরনের জুতায় ২০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘পূজায় ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশ ভালো।’
এদিকে সাতক্ষীরার উৎসবকেন্দ্র্রিক অর্থনীতিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১ অক্টোবর মেলাটি আবার শুরু হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় তৈরি পোশাক, ইমিটেশন গহনা, কসমেটিকস, মাটির পাত্র, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, দেশীয় মিষ্টি ও শিশুদের খেলনাসহ নানা পণ্যের সমাহার বসেছে। শুধু ক্রেতা ও দর্শনার্থী নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও মেলাকে ঘিরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন। মেলাটি তাই শুধু বিনোদন বা লোকজ ঐতিহ্যের আয়োজন নয়, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, মৌসুমি কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক মিঠু জানান, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী এবারের পূজায় ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ চাঙ্গা লক্ষ করা যাচ্ছে। বড় শপিং মলগুলোতে উৎসবের কেনাকাটা বেড়েছে।










