দুর্গা পূজা উপলক্ষে কেনাকাটায় গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে নানা ধরনের ছাড়, ক্যাশব্যাক ও কিস্তি সুবিধা দিচ্ছে দেশের ব্যাংকগুলো। পোশাক, জুতা, গহনা, ইলেকট্রনিকস, রেস্তোরাঁয় খাওয়া থেকে শুরু করে ভ্রমণ ও হোটেলে অবস্থান—বিভিন্ন খাতে মিলছে এসব সুবিধা। কোনো কোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে সুদমুক্ত কিস্তিতে পণ্য কেনার সুযোগ। অন্যদিকে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বাইরে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশে মূল্য পরিশোধ করেও দেশজুড়ে ৪০ হাজারের বেশি বিক্রয় কেন্দ্র ও অনলাইন প্লাটফর্মে ছাড় ও ক্যাশব্যাক পাচ্ছেন গ্রাহকরা।

ব্যাংকগুলোর দেয়া অফার অনুযায়ী, পূজার কেনাকাটায় ব্র্যাক, সিটি, প্রাইম, ওয়ান ব্যাংক, ঢাকা, ইস্টার্ন, পূবালীসহ বিভিন্ন ব্যাংক তাদের কার্ডধারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করেছে। এসব অফারে কোথাও সরাসরি মূল্যছাড়, কোথাও কেনাকাটার নির্দিষ্ট অংশ ক্যাশব্যাক, আবার কোথাও পুরস্কার পয়েন্ট ও সুদমুক্ত কিস্তির সুবিধা রাখা হয়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংক তাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য পূজায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড়, ক্যাশব্যাক, পুরস্কার পয়েন্ট, সুদমুক্ত কিস্তি এবং একটি কিনলে সর্বোচ্চ তিনটি পর্যন্ত বিনা মূল্যে পাওয়ার অফার দিয়েছে। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ৪০০টির বেশি অংশীদার প্রতিষ্ঠানে এসব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও জীবনযাপনসংশ্লিষ্ট পণ্যে ৯০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ছাড় রয়েছে। ইলেকট্রনিকস, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, আসবাব ও অন্যান্য নির্বাচিত পণ্যে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৪ মাসের সুদমুক্ত কিস্তির সুবিধাও রয়েছে।

সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে নির্বাচিত কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ তাৎক্ষণিক ক্যাশব্যাক দেয়া হচ্ছে। আমেরিকান এক্সপ্রেস প্লাটিনাম রিজার্ভ কার্ডে দৈনিক সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা এবং পুরো পূজা ক্যাম্পেইন চলাকালে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে নির্ধারিত আমেরিকান এক্সপ্রেস, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের নির্বাচিত কার্ডে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাকের সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে ন্যূনতম লেনদেনের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা।

উৎসবের সময়ে গ্রাহকদের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে বিভিন্ন অফার দেয়া হয় বলে জানান সিটি ব্যাংক পিএলসির রিটেইল ব্যাংকিংয়ের প্রধান ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অরূপ হায়দার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘গত বছরে পূজা ক্যাম্পেইনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আমাদের প্রায় ৩০ শতাংশ লেনদেন বেড়েছিল। উৎসবের মৌসুম কেবল ঐতিহ্যবাহী কেনাকাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; গ্রাহকরা লাইফস্টাইল, গহনা, ভ্রমণ, আতিথেয়তা এবং খাবার-দাবারের মতো বিভিন্ন খাতে খরচ করেন। তাদের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে ও তাদের উৎসবে অংশগ্রহণ করতে সিটি ব্যাংক সবসময়ই গ্রাহকদের বিভিন্ন অফার দেয়। এবারো পূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে একাধিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। এ বছর অফলাইন, অনলাইন, ভ্রমণ এবং লাইফস্টাইল খাতে আমাদের বিভিন্ন ক্যাম্পেইন চলছে। এর আওতায় গ্রাহকরা শীর্ষস্থানীয় লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডগুলোতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক, ফুড ডেলিভারি, অনলাইন গ্রোসারি ও অনলাইন টিকিটিংয়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় এবং হোটেল বুকিং ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে তৎক্ষণাৎ রিওয়ার্ড পয়েন্ট উপভোগ করতে পারবেন। গ্রাহকদের উৎসবের কেনাকাটা ও ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরো আনন্দদায়ক করে তুলতেই আমাদের এ আয়োজন।

প্রাইম ব্যাংকের পূজা অফারে গহনা, ঘড়ি, পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও রেস্তোরাঁয় খাবারের বিলে ছাড় রাখা হয়েছে। নির্বাচিত গহনার প্রতিষ্ঠানে হীরার গহনায় সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় এবং স্বর্ণের গহনা তৈরির মজুরিতে ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। ঘড়ি, পোশাক ও জুতার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাড় রয়েছে।

পূবালী ব্যাংকের কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করে ছাড় পাওয়া যাচ্ছে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও আউটলেটগুলোতে গ্রাহকরা এ ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে এ সুবিধা নিতে পারছেন। ব্যাংক এশিয়ার কার্ডধারীরা পাচ্ছেন ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত অফার। এছাড়া ইস্টার্ন, ঢাকা, ডাচ্-বাংলা, এমটিবিসহ আরো বিভিন্ন ব্যাংক পূজা উপলক্ষে আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে। ব্যাংকভেদে এসব অফার অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি পূজার কেনাকাটায় বিকাশের অফারও বিস্তৃত। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পোশাক, জুতা, ইলেকট্রনিকস, নিত্যপণ্য, রেস্তোরাঁ, বাস ও বিমানের টিকিট এবং হোটেল বুকিংয়ে ছাড় ও ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে ৪০ হাজারের বেশি বিক্রয় কেন্দ্র ও অনলাইন প্লাটফর্মে ৮ হাজার টাকার বেশি ছাড় ও ক্যাশব্যাকের সুযোগ রয়েছে।

বিকাশের অফারে আড়ং, ইনফিনিটি, লুবনান ও সেইলরের মতো পোশাক ও জীবনযাপনসংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের পাশাপাশি স্বপ্ন, মীনা বাজার, ইউনিমার্ট ও আগোরার মতো সুপারস্টোর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্দিষ্ট কুপন কোড ব্যবহার করে পেমেন্ট করলে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে ছাড় বা ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া রেস্তোরাঁয় খাবার, ইলেকট্রনিকস ও আসবাব কেনাকাটা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবায়ও বিকাশে মূল্য পরিশোধের সুবিধা রয়েছে।

ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও বিকাশের অফারের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, ক্রেডিট কার্ডে সরাসরি ছাড়ের পাশাপাশি সুদমুক্ত কিস্তি ও পুরস্কার পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিকাশের অফার বিভিন্ন ধরনের দোকান ও সেবায় পেমেন্টের ক্ষেত্রে ছাড় বা ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ন্যূনতম কেনাকাটা, কুপন কোড, সর্বোচ্চ ক্যাশব্যাক এবং অফারের মেয়াদ যাচাই করা জরুরি।

দেশের রিটেইল ব্যাংকিংয়ে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মো. মাহীয়ূল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারো শারদীয় উৎসব উপলক্ষে আমরা গ্রাহকদের জন্য বহুমুখী ও আকর্ষণীয় অফার সাজিয়েছি। বিশেষ করে, এবারের পূজায় দীর্ঘ ছুটি থাকায় কেনাকাটার পাশাপাশি ভ্রমণবিষয়ক অফারগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করা হয়েছে। লাইফস্টাইল, রেস্তোরাঁ ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের অনন্য ছাড়ের পাশাপাশি উৎসবকালীন ভ্রমণ আনন্দময় করতে নির্বাচিত হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ব্র্যাক ব্যাংকের কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।’