শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসন, ব্যবসা থেকে পরিবার সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর সক্রিয় ও নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা আজ দৃশ্যমান।
নারী দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারীর ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু এ সাফল্যের আড়ালে একটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে, তা হলো কিডনি রোগ।
বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের হার ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা অন্য দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের হার ২৫ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা পুরুষদের তুলনায় বেশি।
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রধান কারণ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ, যা নারীদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে: এছাড়া নগরজীবনের মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অনুশীলনের অভাব—এ ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নারীদের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ কারণও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। গর্ভকালীন জটিলতা, বিশেষ করে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া ও এক্ল্যাম্পসিয়া, কিডনির স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া সিস্টেমেটিক লুপাস এরিথম্যাটোসাসের (এএলই) মতো অটোইমিউন রোগ নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা কিডনি বিকলের কারণ হতে পারে। নারীদের শারীরিক গঠনের কারণে মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই) তুলনামূলক বেশি হয়, যা অবহেলা করলে কিডনিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কিডনি স্বাস্থ্যসচেতনতা কেন প্রয়োজন?
কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গহীন থাকে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রস্রাব পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে, তাদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক নারী সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না, ফলে রোগ জটিল হয়; তাই স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী চিকিৎসা ও নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি।
নারীর ক্ষমতায়ন শুধু কর্মসংস্থান বা শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়: এর সঙ্গে জড়িত তার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। কিডনি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
নারী দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার পাশাপাশি নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা। কারণ সুস্থ নারীই পারে সুস্থ প্রজন্ম ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে।









