ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার মিরপুরে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর শুরুতে অল্পসংখ্যক বেড নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিকে কিছু আইসিইউ ও সিসিইউ বেড ছিল। বর্তমানে আমরা সর্বোচ্চ ১৬৮ জন রোগীকে সেবা দিতে পারি। যদিও ডিজি হেলথের অনুমোদন অনুযায়ী আমাদের ২৫০ শয্যার লাইসেন্স রয়েছে।

২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনার জন্য আমাদের ১ হাজার ৫০০ জনবলের অনুমোদন রয়েছে। এ জনবল ও সেবা একসঙ্গে চালু করা হয়নি। আমরা ধীরে ধীরে জনবল ও সেবার পরিধি বাড়াচ্ছি। বর্তমানে ১৬৮ জন রোগীকে সেবা দিতে পারলেও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৫৬ রোগী একসঙ্গে ভর্তি ছিল। রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই আরো প্রায় ২০-২৫টি সিট বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আমাদের পাশের ভবনের সপ্তম তলায় একটি ফ্লোর এরই মধ্যে ভাড়া নেয়া হয়েছে। নভেম্বরে সেটি হস্তান্তর হওয়ার কথা রয়েছে। সেটি চালু হলে আমাদের শয্যা সংখ্যা আরো প্রায় ২৫টি বাড়বে। ফলে এ বছরের মধ্যেই শয্যাসংখ্যা প্রায় ২০০-এর কাছাকাছি চলে যাবে।

এখানে কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারি দুই ধরনের সেবাই একই সঙ্গে দেয়া হচ্ছে। আমাদের দুটি ক্যাথল্যাব রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের কার্ডিয়াক প্রসিডিউর করা হয়। পাশাপাশি কার্ডিয়াক সার্জারির ব্যবস্থাও রয়েছে। একই সময়ে দুটি ক্যাথল্যাব ও দুটি কার্ডিয়াক অপারেশন থিয়েটার চালু রয়েছে।

আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব হলো, কার্ডিয়াক রোগীর পাশাপাশি নন-কার্ডিয়াক রোগীদেরও চিকিৎসাসেবা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু সাধারণ নন-কার্ডিয়াক রোগী নয়, নন-কার্ডিয়াক ক্রিটিক্যাল রোগীদেরও আমরা চিকিৎসা দিই। যেমন লিভার ও হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারি, রেনাল সার্জারি, পালমোনারি ও ইউরোলজিক্যাল সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসা এখানে করা হয়। কার্ডিয়াক ও নন-কার্ডিয়াক সমস্যার চিকিৎসা একই জায়গায় দেয়ার সুযোগ আমাদের একটি বিশেষত্ব।

আমাদের এখানে ২২ বেডের সিসিইউ রয়েছে। একসঙ্গে ২২টি সিসিইউ বেড পরিচালিত হয়। এছাড়া আটটি বেডের এইচডিইউ রয়েছে। আমাদের ১০টি ভেন্টিলেটর রয়েছে, যার মধ্যে সর্বাধুনিক ভেন্টিলেটরও রয়েছে। দুটি ডিফিব্রিলেটর রয়েছে। প্রি-অপারেটিভ, পোস্ট-অপারেটিভ ও সিসিইউসহ বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল কেয়ার সুবিধা রয়েছে। আমাদের আইসিইউতে ১৬টি বেড রয়েছে।

আমাদের ছয়জন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট রয়েছেন। এছাড়া আমাদের আরো দুজন ফুলটাইম কার্ডিয়াক সার্জন রয়েছেন। কর্মরত কয়েকজন ফুলটাইম ও কয়েকজন পার্টটাইম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হাসপাতালের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৭০০-এর বেশি জনবল রয়েছে। এর মধ্যে ১৯০ জনের বেশি নার্স এবং ৯০ জনের বেশি চিকিৎসক রয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন পর্যায়ের সাপোর্ট স্টাফ।

প্রশাসনিক কাঠামোয়ও আমাদের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ডিরেক্টর, ডেপুটি সুপার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ও প্রশাসনিক টিম রয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রশাসনিক টিম হাসপাতালের কার্যক্রম দেখাশোনা করে।

আমাদের ইমার্জেন্সি বিভাগেরও একটি বিশেষত্ব রয়েছে। এখানে কার্ডিয়াক রোগীর পাশাপাশি কার্ডিয়াক-বহির্ভূত সাধারণ ও বিশেষায়িত রোগীদেরও গ্রহণ করা হয়। ফলে রোগীর কার্ডিয়াক কিংবা নন-কার্ডিয়াক উভয় ধরনের জরুরি সমস্যার চিকিৎসাসেবা দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

আমাদের এখানে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। এ কারণে আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে একটি ধারণা নিয়ে কাজ করছি, আর তা হলো নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা। এটি আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক স্লোগান নয়।

আমরা চিকিৎসার গুণগত মানের দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছার চেষ্টা করছি। আমরা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এবং আশপাশের মানুষের অনেকেই তুলনামূলক কম আয়ের। তাই রোগীদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হয়। বর্তমানে সারা বাংলাদেশ থেকেই রোগী আসছেন। মেট্রোরেল স্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় আমাদের হাসপাতালটি যোগাযোগের দিক থেকেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। তবে কোন কোন যন্ত্রপাতি রয়েছে, কোন কোম্পানির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য হাসপাতালের সঙ্গে প্রযুক্তিগতভাবে কী ধরনের তুলনা রয়েছে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারিগরি ও চিকিৎসকরা আরো বিস্তারিত বলতে পারবেন।

আমাদের এখানে বিভিন্ন ধরনের হার্টের অপারেশন করা হয়। এমনকি ভালভ রিপ্লেসমেন্টও হয়েছে এবং সফলভাবে হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষ্য হলো আমাদের যে ইউনিকনেস রয়েছে, সেটিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরো পরিচিত করা। আমরা চাই, কোনো রোগীর অ্যাপেন্ডিক্স বা গলব্লাডারের সমস্যা থাকার পাশাপাশি হার্টের সমস্যাও থাকলে তার মনে প্রথমেই যেন আসে মিরপুরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে এক জায়গায় সব ধরনের চিকিৎসা পাওয়া যাবে।

দ্বিতীয়ত, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের অধীনে থাকা প্রায় ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে একটি চেইনের অধীনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কার্ডিয়াক রোগীরা এখানে রেফার হতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।

তৃতীয়ত, আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো অনুমোদিত ২৫০ শয্যাকে কার্যকর করা। ২৫০ শয্যা চালু করতে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ১ হাজার ৫০০ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।